এশিয়ার প্রধান উৎপাদনকারী দেশগুলোয় চলতি সপ্তাহে চালের রফতানি মূল্য বেড়েছে। সরবরাহ সংকটে ভিয়েতনামে খাদ্যপণ্যটির দাম গত তিন মাসে সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। তবে এ সময় চালের চাহিদা কিছুটা কম থাকায় দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
ভিয়েতনাম ফুড অ্যাসোসিয়েশন জানায়, বৃহস্পতিবার দেশটিতে ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের টনপ্রতি মূল্য ছিল ৫৭৮ ডলার। এক সপ্তাহ আগেও তা ছিল টনপ্রতি ৫৭০ ডলার।
এ বিষয়ে হো চি মিন সিটির এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘ মেকং ডেল্টায় গ্রীষ্ম-শরতে উৎপাদিত ফসল শেষ হওয়ায় সরবরাহ কমেছে। এছাড়া উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় দীর্ঘস্থায়ী বৃষ্টিপাত ধানের গুণগত মানে প্রভাব ফেলেছে।’
দেশটির ন্য ব্যবসায়ীরা আরো জানান, দাম বেশি হওয়ায় চালের বিক্রি কমে যাচ্ছে।
শীর্ষ রফতানিকারক দেশ ভারতের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত সিদ্ধ চালের মূল্য চলতি সপ্তাহে ছিল টনপ্রতি ৫৪০-৫৪৫ ডলার, গত সপ্তাহে যা ছিল ৫৩৬-৫৪০ ডলার।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মুম্বাইভিত্তিক এক ডিলার জানান, গত মৌসুমের ফসলের সরবরাহ প্রায় শেষ। চাল রফতানিকারকরা ন্যূনতম সমর্থন মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এখন নতুন মৌসুমের ফসলের ব্যবসা করার চেষ্টা করছেন। এছাড়া বিশ্বের অন্যান্য দেশ থেকে চালের চাহিদা সম্প্রতি কমেছে।
অন্যদিকে ভারতে ব্যবসায়ীদের জন্য কৃষকদের কাছ থেকে নতুন মৌসুমের ধান ক্রয়ের মূল্য আগের তুলনায় ৫ দশমিক ৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। প্রতি ১০০ কেজির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২ হাজার ৩০০ রুপি।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভারত আগামী শস্য উৎপাদন মৌসুমে (২০২৪-২৫) চাল উৎপাদনে রেকর্ড গড়তে পারে। এ সময় পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় উৎপাদন বাড়তে পারে বলে ধারণা করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।
এদিকে থাইল্যান্ডের ৫ শতাংশ খুদযুক্ত চালের গত সপ্তাহে টনপ্রতি মূল্য ছিল ৫৭০ ডলার। এর আগের সপ্তাহে তা ছিল টনপ্রতি ৫৬৭ ডলার।
ব্যবসায়ীরা জানান, সম্প্রতি চালের মূল্য ওঠানামার মূল কারণ ডলারের বিনিময় হারের পরিবর্তন। এ সময় দেশে চালের চাহিদা স্থিতিশীল ছিল।
ব্যাংককভিত্তিক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘থাইল্যান্ড থেকে বেশির ভাগ আমদানিকারক দেশই নিয়মিত চাল ক্রয় করে থাকে। তবে ক্রয়ের পরিমাণ খুব বেশি নয়।’
বাংলাদেশে চালের দাম ঊর্ধ্বমুখীই রয়ে গেছে। উত্তর-পূর্বাঞ্চলে চলমান বন্যার কারণে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় সামনের দিনগুলোয় আরো বাড়তে পারে ভোগ্যপণ্যটির দাম।










