উচ্চ মূল্যস্ফীতি মোকাবেলায় সম্প্রতি সুদহার বাড়িয়েছে অস্ট্রেলিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নীতিনির্ধারকদের নেয়া এমন সিদ্ধান্তে দেশটির অর্থনীতিকে নাজুক পরিস্থিতির তৈরি করেছে। পাশাপাশি প্রয়োজনমাফিক সুদহার আরো বাড়ানো তথা কঠোর আর্থিক নীতির ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ফলে দেশটির অর্থনীতি বড় ধরনের মন্দার ঝুঁকিতে রয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্যানুযায়ী, প্রায় এক বছর ধরে অস্ট্রেলিয়ার রিজার্ভ ব্যাংকের (আরবিএ) গভর্নর ফিলিপ লুই সফলভাবে মূল্যস্ফীতি কমানোর বিষয়ে কথা বলছেন। এ সময়ে দেশটির বেকারত্বের হার ৫০ বছরের সর্বনিম্ন স্তরের কাছাকাছি রেখেছেন। কিন্তু গভর্নরের সাম্প্রতিক বক্তব্যে পরিবর্তন এসেছে। বিস্ময়করভাবে সুদহার বাড়িয়ে ৪ দশমিক ১০ শতাংশ করেছেন এবং প্রয়োজনে আরো বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাশাপাশি জানিয়েছেন, কর্মসংস্থান নিশ্চিতের তুলনায় মূল্যস্ফীতি কমানোর বিষয়টি গুরুত্ব পাবে।
আরবিএ এপ্রিলে সুদহার ৩ দশমিক ৬ শতাংশ নির্ধারণ করেছিল। এ ধরনের পরিবর্তনের পর অর্থনীতিবিদরা আগেই ভেবেছিলেন সুদহার আরো বাড়ানো হতে পারে। তারা কমপক্ষে আরো একটি বৃদ্ধি এবং মন্দার ঝুঁকি বিবেচনা করেছিলেন।
অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও গ্লোবাল কমোডিটিজ বিভাগের এইচএসবিসির চিফ ইকোনমিস্ট পল ব্লক্সহ্যাম বলেন, ‘বর্তমানের নির্ধারিত সুদহার বৃদ্ধির বিষয়টিকে অস্ট্রেলিয়ার অর্থনীতি স্থগিত তথা শ্লথ করার ঝুঁকি হিসেবে দেখছি। এতে সর্বোচ্চ মন্দার ঝুঁকি রয়েছে।’ পল ব্লক্সহ্যামের মতে, আগামী চার প্রান্তিকের প্রতি প্রান্তিকে প্রবৃদ্ধি হবে গড়ে মাত্র শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। ফলে অর্থনীতিতে মন্দা পরিস্থিতির তৈরির সম্ভাবনা ৫০ ভাগ। এছাড়া ব্লক্সহ্যামের প্রত্যাশা, ২০২৪ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে রিজার্ভ ব্যাংক সুদহার পুনরায় কমাতে শুরু করবে।
কমনওয়েলথ ব্যাংক অব অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্কলন বলছে, চলতি বছরে দেশটিতে মন্দার ঝুঁকি ৫০ শতাংশ। সর্বশেষ প্রান্তিকে অর্থনীতি শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ সংকুচিত হতে পারে। এছাড়া ২০২৪ সালের মাঝামাঝিতে বেকারত্ব হার ৪ দশমিক ৭ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এরই মধ্যে নিম্নস্তর বা ধীরগতির দিকে যাচ্ছে। এ সপ্তাহের তথ্য দেখাচ্ছে, মার্চ পর্যন্ত দেশটির অর্থনীতি মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। ফলে মূল্যস্ফীতির প্রভাবে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো সঞ্চয় ও খরচ উভয়ই কমিয়ে দিয়েছে।
গভর্নর ফিলিপ লুই এর আগে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি বজায় রাখতে ২০২৫ সালের মাঝামাঝিতে মূল্যস্ফীতিকে ২-৩ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রায় ফিরিয়ে আনার কথা বলছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি তিনি বলছেন, ‘ধৈর্যের একটি সীমা রয়েছে।"আমি এটা স্পষ্ট করে বলতে চাই, বেকারত্ব কমানোর লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়ার মানে এই নয় যে, বোর্ড উচ্চ মূল্যস্ফীতি অব্যাহত থাকা সহ্য করবে।’
বিনিয়োগ সংস্থা চ্যালেঞ্জারের চিফ ইকোনমিস্ট ও সাবেক আরবিএ এক্সিকিউটিভ জনাথন কিয়ার্নস বলেন, ‘চাকরির বাজার ধরে রাখার চেষ্টা ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। এতে উচ্চ মূল্যস্ফীতির শঙ্কা জোরালো হয় এবং প্রকৃত মূল্যস্ফীতির হারও থাকে উচ্চ।
চলতি বছরের শুরু পর্যন্ত আরবিএর অভ্যন্তরীণ বাজার বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করা জনাথন কিয়ার্নস তিনি মনে করেন, ‘সুদহার আরো বাড়ানো অস্ট্রেলিয়াকে মন্দার দিকে নিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়ে দিচ্ছে।’ তার মতে, সুদহার আরো দুবার বেড়ে ৪ দশমি ৬ শতাংশে পৌঁছবে। দেশটির ইউনিয়ন কর্মকর্তাদের একটি জরিপে দেখা গেছে, মধ্যমেয়াদি মূল্যস্ফীতির প্রত্যাশা ৩-৪ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।










