ঋণ আদায় ও পুনরুদ্ধার কার্যক্রম জোরদার এবং বিনিয়োগ থেকে আয় বৃদ্ধির ধারায় ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স পিএলসি। এ সময়ে প্রতিষ্ঠানটির সমন্বিত ইপিএস দাঁড়িয়েছে ৬০ পয়সা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫৭ পয়সা। এর মধ্য দিয়ে টানা সাত প্রান্তিক ইতিবাচক আয়ের ধারা বজায় রেখেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠানটি। তবে এককভাবে তৃতীয় প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) ইপিএস কমেছে।

২৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত পরিচালনা পর্ষদের সভায় চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর সমাপ্ত তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরীক্ষিত সমন্বিত আর্থিক প্রতিবেদন অনুমোদন করা হয়। প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের সমন্বিত ইপিএস হয়েছে ৩৭ পয়সা। আগের বছরের একই প্রান্তিকে এ আয় ছিল ৪৫ পয়সা।

প্রতিষ্ঠানটির আয় বাড়ার পেছনে ঋণ আদায় ও পুনরুদ্ধারে অব্যাহত প্রচেষ্টা, প্রভিশন ব্যবস্থাপনা এবং তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয় ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স। ২০২৪ সালে ঝুঁকিপূর্ণ ঋণ, লিজ ও বিনিয়োগের বিপরীতে সতর্কতামূলক প্রভিশন সংরক্ষণের কারণে উল্লেখযোগ্য লোকসানের মুখে পড়ে প্রতিষ্ঠানটি। এরপর থেকে আয় বাড়ানোর পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা জোরদার ও আর্থিক অবস্থার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এদিকে চলতি বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের সমন্বিত শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভি) দাঁড়িয়েছে ঋণাত্মক ২৮ টাকা ৪৭ পয়সা। গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর শেষে এর পরিমাণ ছিল ঋণাত্মক ২৯ টাকা ৭ পয়সা। অর্থাৎ এ সময়ে শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্যের অবস্থানে ৬০ পয়সা উন্নতি হয়েছে।

সম্পদের গুণগত মান উন্নয়ন ও আর্থিক ঝুঁকি কমাতে কৌশলগত পুনরুদ্ধার কার্যক্রম, ঋণ আদায় জোরদার এবং পরিচালনাগত নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করার উদ্যোগ অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্স। একই সঙ্গে মূলধন পর্যাপ্ততা বৃদ্ধি, আর্থিক সক্ষমতা পুনরুদ্ধার এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যেও কাজ করছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, টেকসই আর্থিক পুনরুদ্ধার, আর্থিক শৃঙ্খলা ও পরিচালনাগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি শেয়ারহোল্ডার, গ্রাহক ও অন্যান্য অংশীজনের আস্থা সুদৃঢ় করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।