সাগরে আটকা পড়েছে শত শত পণ্যবাহী জাহাজ। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পচনশীল খাদ্য ও জীবিত পশুবাহী কনটেইনারগুলো। খবর এফটি।
শিপিং খাতের তথ্যমতে, হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার অপেক্ষায় থাকা মোট ৪২৫টি কনটেইনার জাহাজের মধ্যে অন্তত ৯০টি এখন পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছে। এছাড়া ১০০টিরও বেশি জ্বালানি তেলবাহী ট্যাঙ্কার আটকে যাওয়ায় বিভিন্ন অঞ্চলে জ্বালানি সংকট দেখা দেয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। ড্রোন হামলার আশঙ্কায় উপসাগরীয় বন্দরগুলোয় মালামাল খালাস করা বর্তমানে অসম্ভব হয়ে পড়েছে। পচনশীল পণ্য ও গবাদিপশু নিয়ে সবচেয়ে সংকটে রয়েছে হিমায়িত খাদ্যবোঝাই জাহাজগুলো। দুবাইয়ের জেবেল আলী ও ওমানের সালালাহ বন্দরের কার্যক্রম স্থগিত হওয়ায় এশিয়ার দূরবর্তী বন্দরগুলোয়ও জট ছড়িয়ে পড়ছে।
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চারটি জাহাজে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর জন্য ‘হালাল’ মাংসের উদ্দেশ্যে আনা জীবিত গবাদিপশু রয়েছে। শিপিং জায়ান্ট মায়ের্স্কের চিফ প্রডাক্ট অফিসার জোহান সিগসগার্ড জানান, শেলফ লাইফ বা স্থায়িত্ব কম হওয়ায় হিমায়িত পণ্যগুলো নিয়ে তারা সবচেয়ে বেশি চিন্তিত। বর্তমানে লাতিন আমেরিকা থেকে আসা এসব পণ্যের জন্য বিকল্প স্টোরেজ সুবিধা খোঁজা হচ্ছে।
উপসাগরীয় অঞ্চলের বন্দরগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ায় চাপ বাড়ছে সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়ার তানজুং পেলেপাস, শ্রীলংকার কলম্বো, উত্তর আফ্রিকার তানজিয়ার ও আলজেসিরাস বন্দরের ওপর। সিঙ্গাপুরে জাহাজ ভেড়ানোর অপেক্ষার সময় ২ দশমিক ৯ দিন থেকে বেড়ে ৬ দশমিক ৫ দিনে দাঁড়িয়েছে। হ্যাপাগ-লয়েডের প্রধান নির্বাহী রলফ হাববেন জ্যানসেন জানিয়েছেন, তারা বর্তমানে বিকল্প বন্দরের জায়গা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ১৯ শতকের একটি সামুদ্রিক আইন প্রয়োগ করেছে বিশ্বের বৃহত্তম শিপিং কোম্পানি এমএসসি। তারা ঘোষণা করেছে, কন্টেইনারগুলো নিকটস্থ সুবিধাজনক বন্দরে নামিয়ে দেয়া হবে। গ্রাহকদের নিজ খরচে সেখান থেকে পণ্য সংগ্রহ করতে হবে এবং অতিরিক্ত ‘ডেভিয়েশন কস্ট’ হিসেবে প্রতি কন্টেইনারে ৮০০ ডলার ফি দিতে হবে।
স্থবির আকাশপথ ও সড়কপথের বিকল্প ফ্লেক্সপোর্টের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বিশ্বের মোট এয়ার কার্গো সক্ষমতার ১৩ শতাংশই স্থবির হয়ে পড়েছে। অনেক বিমান অবতরণের অনুমতি না পেয়ে উড্ডয়ন করতে পারছে না। এ পরিস্থিতিতে ডিএইচএল শত শত ট্রাকের বহর ব্যবহার করে সড়কপথে পণ্য পরিবহনের চেষ্টা করছে। তবে লজিস্টিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এক সপ্তাহের এ অচলাবস্থা কাটিয়ে উঠতে অন্তত চার সপ্তাহ সময় লাগবে।
শিপিং বিশ্লেষকদের মতে, এ সংকটে ইস্তানবুল হাব সচল থাকায় তুর্কি এয়ারলাইনস বড় ধরনের ব্যবসায়িক সুবিধা পেতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে বৈশ্বিক পণ্য পরিবহন খরচ ও জ্বালানি ব্যয় বহুগুণ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।










