অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ৪০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ইরান। এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণে একটি পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে দেশটির অর্থনৈতিক পরিষদ। রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাসনিম এ তথ্য জানিয়েছে। যদিও ঠিক কত সময়ের মধ্যে দেশটি এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করবে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি এ বার্তা সংস্থা। খবর রয়টার্স।
তাসনিমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট মোহাম্মাদ মোখবারের নেতৃত্বাধীন অর্থনৈতিক পরিষদ এ পরিকল্পনা অনুমোদন করেন। ইরান বর্তমানে দৈনিক ৩৬ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন করছে। নতুন পরিকল্পনায় তা ৪০ লাখ ব্যারেলে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।
চীনের বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ইরানের বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে প্রায় ৩০০ কোটি ডলার। আর চলতি অর্থবছরের শেষে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানি থেকে ইরান অতিরিক্তি আয় করতে পারবে প্রায় ৭০০ কোটি ডলার।
ইরান জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন অর্গানাইজেশন অব দ্য পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজের (ওপেক) অন্যতম প্রধান অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদক। অন্যদিকে মজুদের দিক থেকে বিশ্বে তৃতীয় অবস্থান ধরে রেখেছে দেশটি।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন তলানিতে নেমেছিল। তবে পরমাণু সংলাপ পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় দেশটি ক্রমেই উত্তোলন বাড়াচ্ছে। দেশটির প্রত্যাশা, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের জ্বালানি তেল খাত থেকে সব ধরনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে স্থিতিশীল আছে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম। আগামী জুলাইয়ে সরবরাহ চুক্তিতে গতকাল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম আগের দিনের তুলনায় মাত্র ২৬ শতাংশ বেড়েছে। ব্যারেলপ্রতি কেনাবেচা হয়েছে ৮২ ডলার ১০ সেন্টে। অন্যদিকে আগস্টে সরবরাহ চুক্তিতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ২৬ সেন্ট বেড়েছে। ব্যারেলপ্রতি কেনাবেচা হয়েছে ৮২ ডলার ১০ সেন্টে।
গতকাল মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম আগের দিনের তুলনায় ২৩ সেন্ট বেড়েছে। ব্যারেলপ্রতি কেনাবেচা হয়েছে ৭৭ ডলার ৯৫ সেন্টে।
এর আগে গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্টের দাম ২ শতাংশ ও ডব্লিউটিআইয়ের দাম ৩ শতাংশ কমে গিয়েছিল। সে সময় যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার বাড়াতে পারে এমন সম্ভাবনা দেখা দেয়ার পর অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কমে গিয়েছিল।
এছাড়া ওপেকের আসন্ন বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামে প্রভাব ফেলবে। আগামী ২ জুন অনলাইনে সংস্থাটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ওপেকভুক্ত দেশগুলো অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উত্তোলন দৈনিক ২২ লাখ ব্যারেল কমিয়ে দেয়ার কথা ভাবছে। চলতি মাসে ওপেকের এক সূত্র এ তথ্য জানিয়েছিল।










