বাংলাদেশের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে রুশ বিনিয়োগ চায় ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। এসব খাত রাশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মন্তব্য করেছেন ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ। গতকাল ডিসিসিআই আয়োজিত বাংলাদেশ-রাশিয়ার বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা উন্নয়ন বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ অভিমত দেন। 

ভারতে নিযুক্ত রাশিয়ার ট্রেড কমিশনার ড. আলেক্সান্ডার রায়রাসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফররত ১৪ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ওই মতবিনিময় সভায় যোগদান করেন।

সভার শুরুতে প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানিয়ে ডিসিসিআই সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, ‘বিগত ১৫ বছরে আমাদের অর্থনীতির আকার প্রায় চার গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সঙ্গে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ বাস্তবায়নে শিল্পায়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে, বিশেষ করে শিল্প খাতে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকল্পে আমাদের জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাত রাশিয়ার উদ্যোক্তাদের বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।’ এছাড়া তিনি বাংলাদেশের কৃষির আধুনিকায়ন, তথ্যপ্রযুক্তি, শিক্ষা ও সেবাসহ অন্যান্য খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। 

তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ৯৬ কোটি ৫৫ লাখ ১০ হাজার ডলার, যেখানে বাংলাদেশের আমদানি-রফতানির পরিমাণ যথাক্রমে ৫০ কোটি ৫২ লাখ ২০ হাজার ও ৪৬ কোটি ৩ লাখ ৯০ হাজার ডলার। এরই মধ্যে রাশিয়ার উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে বিভিন্ন শিল্প খাতে ১ কোটি ৭২ লাখ ৬০ হাজার ডলার বিনিয়োগ করেছে। 

বাংলাদেশ থেকে তৈরি পোশাক, ওষুধ, পাট ও পাটজাত পণ্য, হালকা প্রকৌশল, প্লাস্টিক পণ্য, পাদুকা, সিরামিক এবং আইটি ও আইটিএস পণ্য বেশি হারে আমদানির জন্য রাশিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ঢাকা চেম্বার সভাপতি।

ড. আলেক্সান্ডার রায়রাস বলেন, ‘দুদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। ১৯৭২ সালে দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বাংলাদেশে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনে রাশিয়া এরই মধ্যে এগিয়ে এসেছে এবং ভবিষ্যতে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও প্রাকৃতিক গ্যাস অনুসন্ধানে সহযোগিতা অব্যাহত রাখবে।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশের দক্ষ কর্মী বাহিনী ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়ায় নিয়োজিত। ভবিষ্যতে তা আরো সম্প্রসারিত হবে।

বাংলাদেশস্থ রাশিয়ার দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ইকাটেরিনা সিমিনোভা জানান, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বাণিজ্যিক সম্পর্ক বিদ্যমান। এছাড়া দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো জোরদার করতে তিনি দেশ দুটোর বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিদের মধ্যকার সম্পর্ক সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

মতবিনিময় সভা শেষে অনুষ্ঠিত বিটুবি (বিজনেস টু বিজনেস) সেশনে দুদেশের ব্যবসায়ীরা অংশগ্রহণ করেন এবং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগের নানা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ডিসিসিআই পরিচালনা পর্ষদের সদস্যরা।