মার্কিন পেট্রলের দাম গ্যালনপ্রতি ৩ ডলারে নামতে পারে। সামনের সপ্তাহগুলোতে অর্থনৈতিক মন্থরতা ও চাহিদা কমার কারণে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ১০ ডলার করে কমতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম কিছুটা নিন্মমুখী হওয়ায় তার প্রভাব পড়েছে পেট্রলের দরেও। খবর রয়টার্স।


পেট্রলের দাম কমায় ব্যবহারকারীরা লাভবান হবেন। এটি মূল্যস্ফীতি কমতেও সাহায্য করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এরই মধ্যে পেট্রলের চার সপ্তাহের গড় চাহিদা ২৬ বছরের সর্বনিম্নে নেমেছে।


সৌদি আরব, রাশিয়াসহ অনান্য ওপেক প্লাস সদস্যরা উত্তোলন কমানোয় ফিউচার মার্কেটে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম উর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর প্রভাবে এক সপ্তাহ আগে শেষ হওয়া তৃতীয় প্রান্তিকেও জ্বালানিটির দাম ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছিল। চলতি সপ্তাহ থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও পেট্রল উভয়ের দামই নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। 


পাইকারি হিসেবে মার্কিন পেট্রলের দাম গত ৪ অক্টোবর ৬ দশমিক ৯ থেকে ১০ দশমিক ৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। পাশাপাশি ফিউচার মার্কেটে একই দিনে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলে ৫ ডলার কমেছে। পরের দিন বৃহস্পতিবার ব্যারেলে আরো ১ ডলার ৬৬ সেন্ট দাম কমে। তবে গতকাল বাজার দর স্থিতিশীল ছিল।


ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, পেট্রলের চার সপ্তাহের গড় সরবরাহের বিপরীতে চাহিদা কমে গেছে গড়ে ৮৩ লাখ ব্যারেল। এ হিসেবে ২০২২ সালের একই সময়ের তুলনায় চাহিদা কমেছে ৫ শতাংশ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বর্ষণ ও বন্যার কারণে চালকরা চলাচল সীমিত করে দেয়ায় চাহিদা ডেটায় কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে।


যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বহুজাতিক আর্থিক প্রতিষ্ঠান জেপি মরগান এক নোটে বলেছে, ‘‌উচ্চ মূল্যের কারণে গ্রাহকরা গাড়ি চালানো কমিয়ে দিয়েছেন।’


মূল্যস্ফীতি দুইয়ের ঘরে নিয়ে আসার লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক সেপ্টেম্বরেও উচ্চ সুদহার বহাল রেখেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, চলতি বছরের বাকি সময়েও উচ্চ সুদহার অপরিবর্তিত রাখতে পারে ফেড। উচ্চ সুদ হার দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় মার্কিন ট্রেজারি বন্ডে ঝুঁকছেন বিনিয়োগকারীরা। এতে ডলারের চাহিদা বাড়ায় বিনিময় মূল্য বেড়েছে মুদ্রাটির। অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে লেনদেন হয় ডলারে। ফলে ভিন্ন মুদ্রার গ্রাহকদের জ্বালানি ক্রয় ব্যয় বেড়ে গেছে। খরচ কমাতে জ্বালানির ব্যবহার কমিয়েছেন গ্রাহকরা। এতে চাহিদা কমায় জ্বালানির দামও নিম্নমুখী হতে শুরু করেছে। এদিকে বিক্রি কমায় মজুদ বেড়েছে মটর গাড়ির জ্বালানিটির। চলতি সপ্তাহে বিশ্লেষকদের প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ৬৫ লাখ ব্যারেল পেট্রল মজুদ হয়েছে।


অপরিশোধিত জ্বালানি তেল পরিশোধন করে পেট্রল উৎপাদন করা হয়, এই প্রক্রিয়া জ্বালানি মার্কেটে ক্র্যাক স্প্রেড হিসেবে পরিচিত। অপরিশোধিত জ্বালানির দাম কমায় ৩-২-১ ক্র্যাক স্প্রেড চলতি সপ্তাহে ১৮ মাসে প্রথমবারের মতো ব্যারেলপ্রতি ২০ ডলারের নিচে নেমেছে। ব্যারেলপ্রতি পেট্রল ক্র্যাক ৯ ডলার ৬৩ সেন্ট কমেছে, যা ২০২০ সালের মহামারি সময়কার অচলাবস্থার চেয়েও সর্বনিম্নে নেমেছে।

জ্বালানি বিশ্লেষক প্রাইস ইনফরমেশন সার্ভিসের (ওপিআইএস) গ্লোবাল হেড টম ক্লোজা বলেন, ‘‌চলতি শরৎ শেষে মধ্য-পশ্চিম ও পূর্ব উপকূলসহ অনান্য অঞ্চলে পেট্রলের দাম আরো কমতে পারে। গ্যালন প্রতি বর্তমান গড় ৩ ডলার ৭৭ সেন্ট থেকে ৩ ডালার পর্যন্ত নামতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ২০টি অঙ্গরাজ্যে খুচরা বিক্রেতারা প্রতি গ্যালন ৩ ডলারের কমেও বিক্রি করছেন।’ ৩১ অক্টোবরের মধ্যে দেশটির অর্ধেকেরও বেশি রাজ্যে জ্বালানিটির দাম এই স্তরে নামতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।