অপরিশোধিত ইস্পাতের ক্রমবর্ধমান বৈশ্বিক উৎপাদন বিশ্ব অর্থনীতির জন্য সুখবর বয়ে আনছে।
এ নিয়ে টানা সাত মাসের মতো ব্যবহারিক ধাতুটির বৈশ্বিক উৎপাদনে প্রবৃদ্ধি এসেছে।
জুলাইয়ে ধাতুটির উৎপাদন ৩ দশমিক ৩ শতাংশ এবং বছরের প্রথম সাত মাসে ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে।
ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) মাসিক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে ইস্পাতের চাহিদা পাল্লা দিয়ে বাড়ছে।
ডব্লিউএসএর এপ্রিলে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, চলতি বছর বিশ্বজুড়ে ইস্পাতের চাহিদা ৫ দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে।
বার্ষিক চাহিদার পরিমাণ দাঁড়াবে ১৮৭ কোটি ৪০ লাখ টনে।
আগামী বছর এ চাহিদা আরো বেড়ে ১৯২ কোটি ৪৬ লাখ টনে পৌঁছবে।
চাহিদার এমন ঊর্ধ্বমুখিতায় চাঙ্গা হয়ে উঠছে ধাতব পণ্যটির বাজার।
ফলে বাড়ছে বৈশ্বিক উৎপাদন।
ইস্পাতের জুলাইয়ের বৈশ্বিক উৎপাদন পরিস্থিতি নিয়ে সম্প্রতি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ডব্লিউএসএ।
প্রতিষ্ঠানটি ৬৪ দেশের উৎপাদন তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে এ প্রতিবেদন তৈরি করে।
গত বছর মোট বৈশ্বিক উৎপাদনের প্রায় ৯৮ শতাংশই এসেছে এসব দেশ থেকে।
সর্বশেষ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে বিশ্বজুড়ে ১৬ কোটি ১৭ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেশি।
জানুয়ারি-জুলাই পর্যন্ত মোট উৎপাদন হয়েছে ১১৬ কোটি ৫৩ লাখ টন।
এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১২ দশমিক ৪ শতাংশ বেশি।
বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশ চীন।
বৈশ্বিক উৎপাদনের অর্ধেকেরও বেশি আসে এ দেশ থেকে।
তবে কার্বন নিঃসরণ হ্রাসের লক্ষ্যে দেশটির সরকার ইস্পাত উৎপাদন সীমিত করেছে।
এ কারণে জুলাইয়ে চীনের ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় কমেছে।
ডব্লিউএসএর প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ে চীন ৮ কোটি ৬৮ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করে।
গত বছরের একই মাসের তুলনায় উৎপাদন ৮ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
চলতি বছরের জুনের তুলনায়ও উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।
বছরের প্রথম সাত মাসে চীন ৬৪ কোটি ৯৩ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে।
গত বছরের প্রথম সাত মাসের তুলনায় উৎপাদন ৮ শতাংশ বেড়েছে।
ইস্পাতের বৈশ্বিক উৎপাদনে চীনের পরই শীর্ষস্থানীয় ভারত।
জুলাইয়ে দেশটি সব মিলিয়ে ৯৮ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে।
গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় উৎপাদন ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়েছে।
তৃতীয় শীর্ষ দেশ জাপানের উৎপাদন গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ৮০ লাখ টনে উন্নীত হয়েছে।
গত মাসে এশিয়া ও ওশেনিয়া মহাদেশভুক্ত দেশগুলোতে সব মিলিয়ে উৎপাদন হয়েছে ১১ কোটি ৬৪ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত।
গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ অঞ্চলে ইস্পাত উৎপাদন ২ দশমিক ৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
অন্যদিকে উত্তর আমেরিকার দেশগুলোতে জুলাইয়ে ১ কোটি ২ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে উৎপাদন করেছে ৭৫ লাখ টন, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৭ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি।
প্রতিবেদনে জানা যায়, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো জুলাইয়ে ১ কোটি ৩০ লাখ টন অপরিশোধিত ইস্পাত উৎপাদন করে।










