গতকাল অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন এনএসইউ বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রতিষ্ঠাতা আজীবন সদস্য ও সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এনএসইউর উপ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ।

মুখ্য আলোচক ছিলেন এনএসইউর ইতিহাস ও দর্শন বিভাগের অধ্যাপক ড. সলিমুল্লাহ খান। স্বাগত বক্তব্য রাখেন এনএসইউর কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক আবদুর রব খান।

অনুষ্ঠানের শুরু হয় কুরআন থেকে তিলাওয়াত ও ১ মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে। শেষ হয় শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাত আয়োজনের মধ্য দিয়ে।

অধ্যাপক আবদুর রব খান তার স্বাগত বক্তব্যে বলেন, ‘গণহত্যা দিবসসহ দেশের জন্য যারা জীবন দিয়েছেন, যাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমাদের স্বাধীনতা অর্জিত হয়েছে, তাদের অবদানকে আমরা চিরদিন কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করব।’

ড. সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘অনেকে ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দিতে চায় না। অনেকে আবার বলেন, আমরা গণহত্যা শব্দের ব্যবহার পরে শুরু করেছি। অথচ ১৯৭১ সালের জুলাইয়ে ড. রেহমান সোবহান ব্রিটিশ পত্রিকায় জেনোসাইড শব্দের ব্যবহার করেছিলেন। ২৫ মার্চ রাতের গণহত্যা নিয়ে তাই কোনো সংশয় নেই। পৃথিবীর অনেক দেশে এখনো গণহত্যা চলছে। এ যুগে এসেও গণহত্যার মতো বিষয় সংঘটিত হওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়।’

প্রধান অতিথি বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজীর আহমেদ বলেন, ‘পাকিস্তানিরা ২৫ মার্চ রাতে ঢাকায় ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ঘটায়। ওদিন রাতে আমরা ভাবছিলাম বড় কোনো ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে। পরের দিন সকালে উঠে সেটার প্রমাণ পাওয়া যায়। পাকিস্তানিদের উদ্দেশ্য ছিল পুরো জাতির মধ্যে একটা ভয় ঢোকানো। নিরস্ত্র মানুষের ওপর এভাবে হামলে পড়া অবশ্যই গণহত্যা। ২৬ মার্চের পরে সংগঠিত হয়ে আমরা মুক্তিযুদ্ধে যোগ দিই।’

অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সংলাপ হওয়া জরুরি। এসব ইতিহাস শুধু কোনো ঘটনা হয়। এগুলো আমাদের জাতির আত্মপরিচয়ের ভিত্তি। এজন্য ‍মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস পাঠকে গুরুত্ব দিতে হবে।’

অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিভিন্ন স্কুলের ডিন, পরিচালক, বিভিন্ন বিভাগের চেয়ারম্যান, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। —বিজ্ঞপ্তি