দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো ব্রিটেনের হাইস্ট্রিটে খুচরা বিক্রয় কমে গেছে। ব্যাংক ছুটির দিনে নগদ অর্থের সংকটে ভুগছেন লেনদেনকারীরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিক্রয় কমে যাওয়ার প্রবণতাটি এমন একটি লক্ষণ, যার অর্থ উচ্চ সুদহার প্রকৃত অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে শুরু করেছে, যা দুই বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো উচ্চমন্দাকে চিহ্নিত করে। খবর দ্য টেলিগ্রাফ।

মে মাসে যুক্তরাজ্যে খুচরা ব্যয় কমেছে ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এজন্য দায়ী করা হচ্ছে ক্রমবর্ধমান বন্ধকি ঋণকে। এ ঋণ পরিশোধের জন্য গ্রাহক তাদের খুচরা ব্যয় হ্রাসে বাধ্য হচ্ছেন। উপদেষ্টা সংস্থা বিডিওর নতুন পরিসংখ্যান অনুসারে, অনলাইন বিক্রি গত মাসে ৩ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে। তবে দোকানে বিক্রি ১ শতাংশ বেড়েছে।

প্রতিবেদনে আরো তুলে ধরা হয়, আগের মাসে ব্রিটেনে তিনটি ব্যাংক ছুটি থাকা সত্ত্বেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সামগ্রিকভাবে কমেছে। ব্যাংক ছুটির দিনে সাধারণত খুচরা বিক্রি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড উদ্দীপিত হবে বলে আশা করা হয়। অথচ ব্যাংক ছুটি থাকা সত্ত্বেও বিট্রেনে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে মন্দাভাব লক্ষণীয় ছিল।

যুক্তরাজ্যের ব্যবসায়িক গোষ্ঠী অর্থনীতির অবস্থা সম্পর্কে সতর্কতা জারি করে পরিস্থিতিকে ‘ফ্ল্যাটলাইনিং’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যার মানে অর্থনীতি সামান্য বৃদ্ধি বা স্থবিরতার সময়কাল অনুভব করছে।

ব্রিটিশ চেম্বার্স অব কমার্স (বিসিসি) বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চলতি বছরের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দশমিক ৩ শতাংশে উন্নীত করেছে। যদিও উল্লেখ করেছে দেশের অর্থনীতি অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির হয়ে পড়েছে। সংস্থাটির পক্ষ থেকে এটাও উল্লেখ করা হয়, অর্থনীতির মন্দায় প্রবেশের বড় ধরনের ঝুঁকি বিদ্যমান। তাছাড়া ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বর্ণিত মূল্যস্ফীতি সম্পর্কিত উদ্বেগের ওপরও জোর দেয়া হয়েছে। সংস্থাটির গবেষণা প্রধান ডেভিড ভারিয়ার বলেন, ‘বাহ্যিক পরিবেশে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন না হলে দুর্বল বৃদ্ধির বর্তমান গতিপথ পরিবর্তন হওয়ার সম্ভাবনা নেই।’

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা যায় ভোক্তাদের ব্যয় হ্রাসের জের ধরে ইউরোজোনে বছরের শুরুতে মন্দার সূচনা হয়। ইউরো এলাকার অর্থনীতি অপ্রত্যাশিতভাবে বছরের প্রথম তিন মাসে দশমিক ১ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে। ২০২২ সালের শেষ প্রান্তিকেও অনুরূপ সংকোচনের মধ্যে পড়ে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক পরের সপ্তাহে সুদহারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

গত মাসে গৃহস্থালি পণ্যের চাহিদা সবচেয়ে বেশি কমেছে। বিক্রিও কমেছে ৯ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ পরিবারগুলো ব্যয়বহুল আসবাব ও নতুন ইলেকট্রনিক সামগ্রী ক্রয় থেকে বিরত আছে, কারণ অন্য খাতে খরচ বেড়েছে। বিডিওর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ব্রিটেনের খুচরা বিক্রেতাদের চলতি বছর উচ্চমাত্রার মূল্যস্ফীতি, সুদহার বৃদ্ধিসহ বন্ধকি ঋণ পরিশোধের বিপরীতে লড়াই করতে হচ্ছে। যার মানে পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার বদলে খারাপ হতে পারে।