মালয়েশিয়ায় গত ডিসেম্বর শেষে পাম অয়েলের মজুদ কমে চার মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে। মজুদে টান পড়ায় স্থানীয় সরবরাহ কমার পাশাপাশি রফতানি নিয়েও হতাশা তৈরি হয়েছে। ফলে ফিউচারস মার্কেটে মালয়েশিয়ান বাজার আদর্শ পাম অয়েলের দাম বেড়েছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় ছয় মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন পাম অয়েল উৎপাদন হয়। ফলে মজুদ লক্ষণীয় মাত্রা কমে যায়। তবে ওই মাসে রফতানিও ছিল নেতিবাচক ধারায়। তা না হলে মজুদ আরো কমার আশঙ্কা ছিল।

মালয়েশিয়ান পাম অয়েল বোর্ডের (এমপিওবি) দেয়া তথ্যমতে, ডিসেম্বর শেষে মালয়েশিয়ায় পাম অয়েলের মজুদ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৯০ হাজার টনে, যা আগের মাসের তুলনায় ৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ কম এবং গত বছরের আগস্টের তুলনায় সর্বনিম্ন। 

নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি আরো জানায়, ডিসেম্বরে মালয়েশিয়ায় অপরিশোধিত পাম অয়েল উৎপাদন আগের মাসের তুলনায় ১৩ দশমিক ৩১ শতাংশ কমে ১৫ লাখ ৫০ হাজার টনে নেমেছে। একই সময় রফতানি ৫ দশমিক ১২ শতাংশ কমে নেমেছে ১৩ লাখ ৩০ হাজার টনে।

অ্যামসপ্যাক এগ্রি মালয়েশিয়ার দেয়া তথ্যমতে, ১-১০ জানুয়ারি পর্যন্ত মালয়েশিয়া ৩ লাখ ৪৯ হাজার ৭৫ টন পাম অয়েল পণ্য রফতানি করেছে। আগের মাসের একই সময় রফতানির পরিমাণ ছিল ৩ লাখ ৮৬ হাজার ৯৮৬ টন। সে হিসাবে রফতানি কমেছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

মুম্বাইভিত্তিক ভোজ্যতেলের ব্রোকার সানভিন গ্রুপের গবেষণা প্রধান অনিল কুমার বাগানি বলেন, ‘‌চলতি মাসের রফতানি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন বাজার পর্যবেক্ষকরা। এ মাসে উৎপাদন আরো কমার আশঙ্কা রয়েছে। আর তা হলে মজুদ আরো নিম্নমুখী হতে পারে।’

ফিউচার মার্কেটে গতকাল মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের দাম টানা পঞ্চম দিনের মতো বেড়েছে। এদিন বুরসা মালয়েশিয়া ডেরিভেটিভস এক্সচেঞ্জে পাম অয়েলের মার্চে সরবরাহ চুক্তির দাম ২৭ রিঙ্গিত বা দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়ে যায়। প্রতি টনের মূল্য স্থির হয় ৩ হাজার ৭৫৯ রিঙ্গিতে (৮১০ ডলার ৩০ সেন্ট)। 

ব্যবসায়ীরা জানান, সয়াবিন তেলের মূল্যবৃদ্ধিও মালয়েশিয়ান পাম অয়েলের বাজারকে ঊর্ধ্বমুখী করে তুলতে ভূমিকা রেখেছে। ডালিয়ান এক্সচেঞ্জে গতকাল ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিতে সয়াবিন তেলের দাম ২ দশমিক ৩০ শতাংশ বেড়েছে। সেখানে পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ৩ দশমিক ২৯ শতাংশ।