চীনে চলতি বছর ইস্পাতের চাহিদা স্থিতিশীল অথবা গত বছরের তুলনায় কিছুটা বাড়তে পারে। সম্প্রতি এক পূর্বাভাসে এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির মেটালার্জিক্যাল ইনফরমেশন অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন ইনস্টিটিউট (সিএমএসআই)। সংস্থাটি বলছে, চলতি বছর চীনে ৫ শতাংশ জিডিপি বৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা, শিল্প খাতে ইস্পাতের চাহিদা, আবাসন খাতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং কারখানা সংস্কারের পদক্ষেপ ইস্পাতের চাহিদা বৃদ্ধি বা স্থিতিশীল রাখতে প্রভাবকের ভূমিকা পালন করবে। খবর চায়না ডেইলি।

এ বিষয়ে সিএমএসআইয়ের প্রেসিডেন্ট ঝাং লংকুয়াং জানান, চীনে আবাসন খাতে ইস্পাতের চাহিদা চলতি বছর বাড়বে। একই সঙ্গে এ সময় বায়ু ও সৌরবিদ্যুৎ, পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি, জাহাজ নির্মাণ ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং খাতে ইস্পাতের চাহিদা ঊর্ধ্বমুখী ধারা বজায় রাখবে।

ঝাং লংকুয়াং বলেন, ‘‌কারখানা সংস্কার উদ্যোগের কারণে চীনে চলতি বছর ইস্পাতের চাহিদা ১ কোটি ৪০ টন বাড়তে পারে। এছাড়া শহরায়ন কার্যক্রমে ভবন ও অন্যান্য স্থাপনাও বাড়বে, যা ইস্পাতজাত পণ্যের ব্যবহার বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলবে।’

প্রতিকূল বাজার পরিস্থিতির কারণে সক্ষমতা ও মান বৃদ্ধি এবং দক্ষ ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকছেন চীনের ইস্পাত উৎপাদনকারীরা। চায়না আয়রন অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের (সিআইএসএ) ভাইস প্রেসিডেন্ট জিয়াং ওয়ে জিয়াং বলেন, ‘‌উৎপাদন খাতে ইস্পাতের চাহিদা অনেক দিন থেকেই বাড়ছে। গত বছর ধাতব পণ্যের মোট চাহিদার ৪৮ শতাংশই এ খাত থেকে এসেছিল।’

চীন বিশ্বের শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক ও ব্যবহারকারী দেশ। তবে দেশটিতে এর আগে লম্বা সময় ধরে আবাসন খাতে টালমাটাল পরিস্থিতি ইস্পাত খাতের জন্য চ্যালেঞ্জ বয়ে এনেছিল, যার প্রভাব পড়েছিল চাহিদা ও উৎপাদনে। এর আগে প্রতিবেদনে জিএমকে সেন্টার জানায়, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে চীনে ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমেছে। এ সময় দেশটি মোট ২৬ কোটি ৫৫ লাখ ৫০ হাজার টন ইস্পাত উৎপাদন করেছিল। এর মধ্যে দেশটিতে মার্চে ইস্পাত উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৭ দশমিক ৮ শতাংশ কমে গিয়েছিল।

অন্যদিকে মুডি’স রেটিং এজেন্সি জানায়, ইস্পাতের চাহিদার দিক থেকে চীনকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ভারত। বিশ্লেষকরা বলছেন, এক-দেড় বছরের মধ্যে এটি ৫-৭ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। ভারতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং পরের বছরে ৬ দশমিক ২ শতাংশ ডিজিপির লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে, যা ইস্পাতের চাহিদা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখবে।

এছাড়া সম্প্রতি প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড স্টিল অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউএসএ) এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ভারতে ইস্পাতের চাহিদা ৮ শতাংশ করে বাড়বে। অন্যদিকে উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির কারণে চলতি বছর ইউরোপে ইস্পাতের চাহিদা খুব বেশি বাড়বে না। তবে ২০২৫ সালে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ চাহিদা বাড়ার পূর্বাভাস দেয়া হয়েছে।