সরবরাহ কমায় দুদিনের ব্যবধানে দিনাজপুরের হিলিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে কেজিতে ১০ টাকা। নতুন পেঁয়াজ না ওঠা পর্যন্ত দাম কমার কোনো সম্ভাবনা নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। অন্যদিকে লাভ না থাকায় এতদিন হিলি স্থলবন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি বন্ধ থাকলেও দেশের বাজারে দাম বাড়ায় এখন পণ্যটি আমদানির চিন্তা করছেন বন্দরের আমদানিকারকরা।

হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও মূল্যবৃদ্ধির অজুহাত দেখিয়ে গত বছরের ১৪ সেপ্টেম্বর পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত। এরপর পেঁয়াজের উৎপাদন বাড়ায় ভারত সরকার এ নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে। এর প্রায় সাড়ে তিন মাস পর গত ২ জানুয়ারি বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি শুরু হলেও পরিমাণ বেশ কম ছিল। এর ওপর সম্প্রতি সরকার পেঁয়াজ আমদানিতে ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করায় ব্যবসায়ীরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ফলে দুই সপ্তাহ ধরে বন্দর দিয়ে কোনো পেঁয়াজ আমদানি হয়নি।

হিলি বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৩০-৩২ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা আগে ২০-২২ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা ফিরোজ হোসেন ও শাকিল খান বলেন, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মুড়িকাটা পেঁয়াজের সরবরাহ বেশি ছিল। এ কারণে বাজারে ভারতের পেঁয়াজ না থাকলেও দাম কম ছিল। কিন্তু বর্তমানে মুড়িকাটা পেয়াঁজের মৌসুম শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ কমে গেছে। ফলে মোকামে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। যে পেঁয়াজ ১ হাজার ৫০ টাকা মণ ছিল, সেটি হঠাৎ করে বেড়ে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত উঠেছে।

পেঁয়াজ আমদানিকারক মাহফুজার রহমান বাবু বণিক বার্তাকে বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানি শুরুর পর আমরা কিছু পেঁয়াজ আমদানি করেছি। কিন্তু একদিকে দেশীয় পেঁয়াজের উৎপাদন বৃদ্ধি, অন্যদিকে ভারত থেকে আমদানীকৃত পেঁয়াজের চাহিদা কমে যাওয়ায় আমরা দাম পাচ্ছিলাম না। ফলে লাভ তো দূরে থাক, উল্টো আমাদের লোকসান গুনতে হয়েছে। এর ওপর পেঁয়াজ আমদানিতে শুল্ক আরোপ করায় ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির মাধ্যমে আমরা লাভ করতে পারছি না। এ কারণে বর্তমানে বন্দর দিয়ে পেঁয়াজ আমদানি একেবারে বন্ধ রেখেছি। তবে সম্প্রতি দেশীয় পেঁয়াজের সরবরাহ কমে আসায় পেঁয়াজের দাম কিছুটা বাড়তে শুরু করেছে। এজন্য আবারো ভারত থেকে পেঁয়াজ আমদানির চিন্তা করছি।

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছি, কয়েক দিন পর দেশের বাজারে পেঁয়াজের চাহিদা বাড়তে পারে। এজন্য তারা আবারো পেঁয়াজ আমদানির চিন্তাভাবনা করছেন।