যুক্তরাজ্যের বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড নাইকি, সুপারড্রাই ও লাকোস্টের অনলাইন বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছে দেশটির বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ সংস্থা অ্যাডভারটাইজিং স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি (এএসএ)। সংস্থাটির অভিযোগ, এসব বিজ্ঞাপন পরিবেশবান্ধব বা টেকসই পণ্যের দাবি করে ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
এএসএয়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, তিনটি ব্র্যান্ডই গুগল বিজ্ঞাপনে ‘সাস্টেইনেবল’, ‘সাস্টেইনেবল ম্যাটেরিয়াল’ বা ‘সাস্টেইনেবল স্টাইল’ শব্দগুলো ব্যবহার করেছে, কিন্তু এ দাবির পক্ষে যথাযথ প্রমাণ দেখায়নি। নাইকির বিজ্ঞাপনটি টেনিস পোলো শার্টের জন্য ছিল এবং এতে ‘সাস্টেইনেবল ম্যাটেরিয়াল’ উল্লেখ করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, বিজ্ঞাপনটি সাধারণভাবে লেখা হয়েছে এবং এটি শুধুমাত্র কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সুপারড্রাইয়ের বিজ্ঞাপনে বিভিন্ন পণ্যে ‘সাস্টেইনেবিলিটি অ্যাট্রিবিউট ও ক্রেডেনশিয়াল’ বিদ্যমান বলে দাবি করেছে। লাকোস্ট শিশুদের জন্য পরিবেশবান্ধব পোশাকের বিজ্ঞাপন প্রচার করেছে এবং জানিয়েছে, তারা কয়েক বছর ধরে সব পণ্যের কার্বন ফুটপ্রিন্ট কমানোর চেষ্টা করছে। তবে ‘গ্রিন’, ‘সাস্টেইনেবল’ বা ‘ইকো-ফ্রেন্ডলি’ দাবিগুলো প্রমাণ করা কঠিন।
ব্রিটিশ বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণ সংস্থাটি জানায়, যুক্তরাজ্যের বিজ্ঞাপন কোড অনুযায়ী পরিবেশগত দাবি স্পষ্ট হতে হবে এবং যথাযথ প্রমাণ দিয়ে সমর্থিত হতে হবে। তাই ‘সাস্টেইনেবল’ শব্দটি কোনো প্রমাণ ছাড়া ব্যবহার করা বিভ্রান্তিকর ও অস্পষ্ট বলে মনে করে সংস্থাটি। এছাড়া পণ্যের পুরো জীবনচক্র বিবেচনা করলে পরিবেশের জন্য তা ক্ষতিকর না হওয়ার প্রমাণেরও অভাব রয়েছে। এ কারণে প্রতিষ্ঠানটি প্রতিটি বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করেছে এবং ভবিষ্যতে পরিবেশগত দাবির ক্ষেত্রে স্পষ্ট ব্যাখ্যা ও প্রমাণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছে।
একই সঙ্গে এএসএ ব্রিটিশ গ্র্যান্ড প্রিক্সের আগে ফেসবুকে চলা বেটওয়ের বিজ্ঞাপনও নিষিদ্ধ করেছে। যেখানে ফর্মুলা-ওয়ান তারকা লুইস হ্যামিলটন দেখানো হয়েছিল। সংস্থাটি জানায়, ১৮ বছরের কম বয়সী দর্শকও হ্যামিলটনকে চিনতে পারবে। তাই বিজ্ঞাপনটি ‘দায়িত্বহীন’ এবং ‘নিয়ম লঙ্ঘনমূলক’ হিসেবে গণ্য হয়েছে।










