বিভিন্ন গ্রেডের ইস্পাতের দাম বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে ভারতীয় কোম্পানিগুলো। ধাতব কয়লার আমদানি ব্যয় বাড়ায় কারখানাগুলোয় উৎপাদন খরচ বেড়ে গেছে। এ কারণে ইস্পাতের দাম বাড়াতে চায় কম্পানিগুলো। অন্তত চারজন ভারতীয় ইস্পাত কারখানা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে রয়টার্স।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তারা বলেছেন, ‘অস্ট্রেলীয় ধাতব কয়লার আমদানির খরচ বেড়ে গেছে। তাই আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইস্পাত কারখানাগুলো টনপ্রতি ২৫-৫০ ডলার পর্যন্ত দাম বাড়াতে পারে।’

লন্ডনভিত্তিক পণ্যবিষয়ক গবেষণা গ্রুপ সিআরইউর কয়লা বিশ্লেষক বানমিত খুরমি বলেন, ‘‌অস্ট্রেলিয়া থেকে আমদানি করা কয়লার দাম ৫০ শতাংশ বেড়ে গেছে। প্রতি টনের দাম উঠেছে ৩৫০ ডলারে।’ এর জন্য খনি রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম, কুইন্সল্যান্ডে স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে সরবরাহ কমে যাওয়া এবং ধীরগতির রেল যোগাযোগকে দায়ী করেছেন তিনি।

ভারতের চাহিদার অর্ধেকেরও বেশি কয়লা আমদানি করা হয় অস্ট্রেলিয়া থেকে। দেশটি থেকে বছরে ৫৫-৬০ টন কয়লা কেনে নয়াদিল্লি। অস্ট্রেলিয়া ছাড়াও ভারত রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র থেকে ধাতব কয়লা আমদানি করে। আকর্ষণীয় মূল্য ছাড় সুবিধার কারণে আগামীতে ভারতীয় ইস্পাত মিলগুলো রাশিয়া থেকে আমদানির পরিমাণ আরো বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এক কর্মকর্তা জানান, তার কারখানায় উৎপাদিত ইস্পাত পণ্য আরো ব্যয়বহুল হয়ে উঠবে। কারণ কয়লা আমদানি ব্যয় বাড়ার মানে হচ্ছে ইস্পাতের দাম প্রতি টনে কমপক্ষে ৫০ ডলার বেড়ে যাবে।

ভারতের বৃহত্তম রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ইস্পাত উৎপাদনকারী স্টিল অথরিটি অব ইন্ডিয়া (এসএআইএল)। প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অমরেন্দু প্রকাশ গত সপ্তাহে জানান, কয়লার দাম বাড়ার কারণে এসএআইএলের লাভের পরিমাণ কমে গেছে। কর্মকর্তারা বলেছেন, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে বৃষ্টিপাত শেষ হলে ভারতে নির্মাণ ও অবকাঠামো উন্নয়ন কার্যক্রম বাড়বে। এতে শিল্প ধাতুটির চাহিদা বাড়লেও কোম্পানিগুলো দাম বাড়াতে বাধ্য হবে।

ভারত বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ইস্পাত উৎপাদক। ওয়ার্ল্ড স্টিলের প্রাক্কলনমতে, চলতি বছর দেশটিতে ধাতুটির চাহিদা ৭ দশমিক ৩ শতাংশ বাড়তে পারে। আগামী বছর বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে ৬ দশমিক ২ শতাংশ। ২০২২ সালেও দেশটির ইস্পাত খাত মূল্যস্ফীতির ধাক্কা খুব ভালোভাবে সামাল নিয়েছে। ওই বছরও চাহিদায় প্রবৃদ্ধির হার ছিল ইতিবাচক।

দ্য হিন্দু বিজনেস লাইনে প্রকাশিত তথ্য বলছে, দেশটি আগস্টে ১ কোটি ১৯ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদন করেছে। গত বছরের একই মাসের তুলনায় উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে ১৭ দশমিক ৪ শতাংশ। এ বছরের প্রথম আট মাসে দেশটির মোট উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ কোটি ২২ লাখ টনে।