৭২ বিলিয়ন ডলারে ওয়ার্নার ব্রাদার্স ডিসকভারির চলচ্চিত্র ও স্ট্রিমিং ব্যবসা অধিগ্রহণে সম্মত হয়েছে স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্স। দীর্ঘ প্রতিযোগিতার পর কমকাস্ট ও প্যারামাউন্টকে পেছনে ফেলে সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে উঠে আসে নেটফ্লিক্স। খবর বিবিসি।

ওয়ার্নার ব্রদার্সের মালিকানায় রয়েছে হ্যারি পটার, গেম অব থ্রোন্সসহ একাধিক জনপ্রিয় ফিল্ম ফ্র্যাঞ্চাইজি ও এইচবিও ম্যাক্স প্ল্যাটফর্ম। বিশ্লেষকদের মতে, এ চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের চলচ্চিত্র ও মিডিয়া শিল্পে বড় ধরনের পুনর্গঠন ঘটবে। তবে প্রতিযোগিতা নিয়ন্ত্রকদের অনুমোদন পাওয়া নেটফ্লিক্সের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।

এ অধিগ্রহণ বিষয়ে নেটফ্লিক্সের সহ-প্রধান নির্বাহী টেড সারেনডসের মতে, ওয়ার্নার ব্রদার্সের শত বছরের গল্প বলার ঐতিহ্য ও নেটফ্লিক্সের বৈশ্বিক পরিসর একত্র হলে দর্শকদের জন্য আরো সমৃদ্ধ কনটেন্ট অভিজ্ঞতা তৈরি হবে। তিনি বলেন, গত শতাব্দীতে বিনোদনকে সংজ্ঞায়িত করেছে ওয়ার্নার ব্রাদার্স। এবার একসঙ্গে আমরা পরবর্তী শতাব্দী গড়ব।

আর ওয়ার্নার ব্রাদার্সের প্রধান নির্বাহী ডেভিড জ্যাসলাভ বলেন, এ চুক্তি বিশ্বের দুই নেতৃস্থানীয় কনটেন্ট নির্মাতাকে এক ছাদের নিচে আনবে। তিনি বিশ্বাস করেন, এ জোট ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বিশ্বমানের গল্প পৌঁছে দিতে সহায়ক হবে।

চুক্তি অনুযায়ী, নেটফ্লিক্স প্রতি শেয়ারের জন্য ২৭ দশমিক ৭৫ ডলার পরিশোধ করবে। এতে মোট এন্টারপ্রাইজ ভ্যালু দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৮২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। দুই কোম্পানির পরিচালনা পর্ষদই সর্বসম্মতভাবে চুক্তি অনুমোদন দিয়েছে।

নেটফ্লিক্স অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে তখনই, যখন ওয়ার্নার ব্রাদার্স আগামী বছর তাদের স্ট্রিমিং–স্টুডিও বিভাগকে গ্লোবাল নেটওয়ার্ক ব্যবসা থেকে আলাদা করে দুইটি পৃথক পাবলিক কোম্পানি হিসেবে তালিকাভুক্ত করবে। এক্ষেত্রে গ্লোবাল নেটওয়ার্ক বিভাগে থাকবে— সিএনএএনের মতো কেবল নেটওয়ার্ক, ইউরোপের ফ্রি-টু-এয়ার চ্যানেল, ক্রীড়া চ্যানেল ও অন্য কেবল ব্র্যান্ড। এ বিভাজন শেষ হওয়ার পর ওয়ার্নার অংশটি অধিগ্রহণ করবে নেটফ্লিক্স।

এদিকে ব্যাংক অব আমেরিকা সাম্প্রতিক বিশ্লেষণে বলেছে, যদি নেটফ্লিক্স ওয়ার্নার ব্রদার্স অধিগ্রহণ করে, তাহলে স্ট্রিমিং যুদ্ধ কার্যত শেষ হয়ে যাবে। তখন নেটফ্লিক্সই হবে এ খাতে বৈশ্বিক শক্তিধর প্রতিষ্ঠান। আর শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এ চুক্তি বাস্তবায়িত হলে ডিজনি বা প্যারামাউন্টের মতো কোম্পানিগুলো বাজারে নতুন করে নিজেদের অবস্থান ঠিক করতে বাধ্য হবে।