এ চুক্তির বিস্তারিত জানতে কোম্পানিটিকে চিঠি দিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। জবাবে কোম্পানিটি জানিয়েছে, আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বিস্তারিত জানানো হবে। ডিএসই সূত্রে গতকাল এ তথ্য জানা গেছে।
রানার অটোমোবাইলস জানিয়েছে, এমএসএমএ চুক্তিটি মূলত সম্পূর্ণ খণ্ডিত (সিকেডি) ভিত্তিক উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনার একটি কাঠামোগত চুক্তি। এ চুক্তির ভিত্তিতে প্রকল্পের বিনিয়োগ সম্ভাব্যতা, বাস্তবায়ন সময়সূচি এবং সম্ভাব্য আর্থিক ফলাফল মূল্যায়ন করা হচ্ছে। প্রতিটি গাড়ির মডেলের জন্য আলাদাভাবে টেকনিক্যাল লাইসেন্স এগ্রিমেন্ট (টিএলএ) করা হবে। এসব মডেলভিত্তিক চুক্তির মাধ্যমে বাণিজ্যিক, পরিচালনাগত ও আর্থিক শর্ত নির্ধারিত হবে।
কোম্পানিটি আরো জানিয়েছে, চুক্তিটি চীনের শেনজেনে অনুষ্ঠিত বিওয়াইডির একটি সম্মেলনে স্বাক্ষর হয়েছে। তবে এমএসএমএ চুক্তির কিছু আইনি আনুষ্ঠানিকতা এখনো বাকি রয়েছে, যা বিওয়াইডির পক্ষ থেকে সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে স্বাক্ষরিত কপি সরবরাহ করা হবে। এদিকে চূড়ান্ত বিনিয়োগের পরিমাণ, সম্ভাব্য আর্থিক প্রভাবসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এখনো মূল্যায়নাধীন। সংশ্লিষ্ট পক্ষের অনুমোদনের পর এসব তথ্য চূড়ান্তভাবে জানানো হবে।
আর্থিক প্রতিবেদন অনুসারে, চলতি ২০২৫-২৬ হিসাব বছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) রানার অটোমোবাইলসের শেয়ারপ্রতি সমন্বিত আয় (ইপিএস) হয়েছে ২৬ পয়সা। আগের হিসাব বছরের একই সময়ে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৩৭ পয়সা। ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ শেষে কোম্পানির শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদমূল্য (এনএভিপিএস) দাঁড়িয়েছে ৬৫ টাকা ৯৬ পয়সায়।
সর্বশেষ সমাপ্ত ২০২৪-২৫ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের ১০ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে রানার অটোমোবাইলসের শেয়ারপ্রতি আয় হয়েছে ৯০ পয়সা। আগের হিসাব বছরে শেয়ারপ্রতি লোকসান ছিল ৫৪ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৫ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ৭০ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২৩-২৪ হিসাব বছরে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের ১১ শতাংশ ও উদ্যোক্তা পরিচালকদের ১ শতাংশ নগদ লভ্যাংশ দিয়েছে কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে রানার অটোমোবাইলসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৫৪ পয়সা, আগের হিসাব বছরে যা ছিল ৭ টাকা ৭৫ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৪ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬৬ টাকা ৪৯ পয়সায়।
সমাপ্ত ২০২২-২৩ হিসাব বছরে বিনিয়োগকারীদের কোনো লভ্যাংশ দেয়নি কোম্পানিটির পর্ষদ। আলোচ্য হিসাব বছরে রানার অটোমোবাইলসের শেয়ারপ্রতি লোকসান হয়েছে ৭ টাকা ৭৫ পয়সা। আগের হিসাব বছরে ইপিএস ছিল ২ টাকা ৪০ পয়সা। ৩০ জুন ২০২৩ শেষে কোম্পানিটির এনএভিপিএস দাঁড়িয়েছে ৬২ টাকা ৬২ পয়সায়।
রানার অটোমোবাইলসের সর্বশেষ সার্ভিল্যান্স এনটিটি রেটিং দীর্ঘমেয়াদে ‘এ ওয়ান’ ও স্বল্পমেয়াদে ‘এসটি-৩’। ৩০ জুন সমাপ্ত ২০২৩, ২০২৪ ও ২০২৫ হিসাব বছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং রেটিং ঘোষণার দিন পর্যন্ত প্রাসঙ্গিক অন্যান্য পরিমাণগত ও গুণগত তথ্যের ভিত্তিতে এ প্রত্যয়ন করেছে ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (সিআরএবি)।
২০১৯ সালে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত রানার অটোমোবাইলসের অনুমোদিত মূলধন ২০০ কোটি ও পরিশোধিত মূলধন ১১৩ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। রিজার্ভে রয়েছে ৪৪০ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। মোট শেয়ার সংখ্যা ১১ কোটি ৩৫ লাখ ৩৯ হাজার ৯৩২। এর ৫০ দশমিক ৪৮ শতাংশ রয়েছে উদ্যোক্তা পরিচালকদের কাছে। এছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের কাছে ২৪ দশমিক ৯০ ও সাধারণ বিনিয়োগকারীর হাতে বাকি ২৪ দশমিক ৬২ শতাংশ শেয়ার রয়েছে।










