বৈশ্বিক চিনির বাজারে ২০২৪-২৫ মৌসুমে ঘাটতির পরিমাণ হিসাব করা হয়েছে ৫২ লাখ টন। এ ঘাটতি কাটিয়ে ২০২৫-২৬ মৌসুমে (অক্টোবর-সেপ্টেম্বর) কিছুটা উদ্বৃত্তের পথে ফিরতে পারে পণ্যটির বাজার। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কমোডিটি ট্রেডিং হাউজ লুই ড্রেফুসের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ মৌসুমে বৈশ্বিক চিনির বাজারে উদ্বৃত্ত থাকতে পারে চার লাখ টন। খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী মৌসুমে ভারতে উৎপাদন বাড়লেও ব্রাজিলে তা কিছুটা কমে আসবে। খবর হেলেনিক শিপিং নিউজ ও রয়টার্স।
গত সোমবার নিউইয়র্ক সুগার উইকের প্রথম দিনে এক উপস্থাপনায় ড্রেফুস জানায়, ব্রাজিলে চলতি মৌসুমের শুরুর পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, কেননা কৃষি ফলন ও আখে চিনির প্রাপ্যতা কম।
প্রতিষ্ঠানটির দেয়া তথ্যানুযায়ী, ভারতে আগামী মৌসুমে চিনি উৎপাদন ৩ কোটি ৫ লাখ টনে পৌঁছতে পারে, আগের মৌসুমে যা ছিল ২ কোটি ৬০ লাখ টন। অন্যদিকে ব্রাজিলের কেন্দ্রীয়-দক্ষিণাঞ্চলে উৎপাদন কমে ৩ কোটি ৯৩ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। আগের মৌসুমে ব্রাজিল মোট ৪ কোটি ২ লাখ টন চিনি উৎপাদন করেছিল।
ড্রেফুসের পূর্বাভাসটি ব্রাজিলের চিনি উৎপাদন নিয়ে এ পর্যন্ত পাওয়া অন্যান্য প্রাক্কলনের তুলনায় কম। ব্রাজিলের সরকারি কৃষি সংস্থা কোনাব কেন্দ্রীয়-দক্ষিণাঞ্চলে ৪ কোটি ১৮ লাখ টন চিনি উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছে।
সংস্থাটি আরো জানায়, আগামী মৌসুমে আখ মাড়াই ২ শতাংশ কমে ৬৬ কোটি ৩৪ লাখ টনে নেমে আসতে পারে। এ হ্রাসের পেছনে ভূমিকা রাখবে আখ উৎপাদন কমে যাওয়া। কোনাব জানিয়েছে, এ সময় ব্রাজিলে আখের হেক্টরপ্রতি ফলন ২ দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৭৫ দশমিক ৪ টনে নেমে আসতে পারে। সংস্থাটির মতে, ২০২৪ সালে ফসলের বিকাশ পর্যায়ে অনুকূল আবহাওয়া না থাকায় ফলন কমে গেছে।
কোনাবের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী মৌসুমে ব্রাজিলের কেন্দ্রীয়-দক্ষিণাঞ্চলে আখ উৎপাদন কমতে পারে ২ দশমিক ৫ শতাংশ। মোট উৎপাদন নেমে আসতে পারে ৬০ কোটি ২৯ লাখ ১০ হাজার টনে। এ সময় উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে উৎপাদন ৩ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৬ কোটি ৫ লাখ ২০ হাজার টনে পৌঁছতে পারে। এ অঞ্চলে আবাদযোগ্য জমি ২ দশমিক ১ ও উৎপাদনশীলতা ১ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে।
ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠান হেজপয়েন্ট গ্লোবাল মার্কেটস জানিয়েছে, ব্রাজিলে আগামী মৌসুমে ৪ কোটি ৩৩ লাখ টন চিনি উৎপাদন হতে পারে।
ড্রেফুস জানায়, বর্তমান চিনি বাজারে সরবরাহ ও চাহিদা পরিস্থিতি ‘ভারসাম্যপূর্ণ’ নয়। ব্রাজিলের ওপর অতিমাত্রায় নির্ভরশীলতার কারণে সেখানকার উৎপাদন পরিস্থিতি এখনো মূল্য নির্ধারণে মূল নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।
প্রতিষ্ঠানটি আরো জানায়, ‘এর আগে শুধু ২০১৮-১৯ মৌসুমে মজুদ ঘাটতি দেখা গেছে। বিশ্বব্যাপী চিনি বাজারে বিপুল উদ্বৃত্ত ও ঐতিহাসিকভাবে উচ্চ মজুদ ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতি ‘একেবারেই ভিন্ন’।










