চলতি বছর জার্মানির সব জাতের গম উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৈরী আবহাওয়ার কারণে শস্যটির আবাদ বিপর্যস্ত। ফলে উৎপাদন ৩ দশমিক ৬ শতাংশ কমে ২ কোটি ১৩ লাখ ৭০ হাজার টনে নেমে আসতে পারে। দেশটির কৃষি মন্ত্রণালয়ের করা প্রাক্কলনে এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার ও রয়টার্স।

চলতি বছর ভারসাম্যহীন আবহাওয়া জার্মানির কৃষি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কৃষি মন্ত্রণালয় চলতি বছরের প্রাথমিক উৎপাদন পূর্বাভাসে জানায়, বসন্তে অত্যধিক আর্দ্রতা, গ্রীষ্মের শুরুতেই উষ্ণ ও শুষ্ক পরিবেশ এবং ফসল তোলার সময় অপ্রত্যাশিত ঝড়-বৃষ্টি গম উৎপাদন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

মন্ত্রণালয় আরো জানায়, প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে জার্মানির সরিষা উৎপাদনও ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। বছর শেষে পণ্যটির উৎপাদন মাত্র দশমিক ২ শতাংশ হারে বাড়তে পারে। উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়াবে ৩৫ লাখ ২০ হাজার টনে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় শীর্ষ গম উৎপাদনকারী দেশ জার্মানি। ফ্রান্সের পরই দেশটির অবস্থান। ইউরোপে ভোজ্যতেল ও বায়োডিজেল উৎপাদনে প্রধান তেলবীজ সরিষা। কৃষিপণ্যটি উৎপাদনে ব্লকের শীর্ষ দেশ জার্মানি।

জুলাইজুড়ে জার্মানিতে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হয়েছে। ফলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। ঘটেছে প্রাণহানির ঘটনাও। চলতি মাসেও ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত আছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকরা তাদের ফসল ঘরে তুলতে পারবেন কিনা তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

জার্মানির কৃষিমন্ত্রী জুলিয়া ক্লোয়েকনার বলেন, বছরের শুরুতে আমরা গম উৎপাদন নিয়ে বেশ আশাবাদী ছিলাম। তবে সম্প্রতি ভারি বৃষ্টিপাত ও ঝড়ে অনেক এলাকায় গম আবাদ ব্যাহত হয়েছে। গমে গুণগত মান নিয়েও শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বৈরী আবহাওয়ায় গমের পাশাপাশি ভুট্টা উৎপাদনেও মন্দাভাব দেখা দেবে। চলতি বছর দেশটির ভুট্টা উৎপাদন ১ দশমিক ৮ শতাংশ কমে ৩৯ লাখ ৪০ হাজার টনে নেমে যেতে পারে। তবে শীতকালীন যব উৎপাদন ২ দশমিক ২ শতাংশ বাড়ার সম্ভাবনা দেখছে মন্ত্রণালয়। এ বছর জার্মানিতে ৮৯ লাখ ৬০ হাজার টন যব উৎপাদন হতে পারে।