মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়াতে ভবিষ্যতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের পরিকল্পনা করছে প্রতিষ্ঠান দুটি। কয়েক বছরের মধ্যে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টারই এআই কম্পিউটিংয়ের সবচেয়ে সাশ্রয়ী জায়গা হতে পারে। সম্প্রতি স্পেসএক্স বিনিয়োগকারীদের কাছে এমন ধারণা তুলে ধরেছে।
এআই স্টার্টআপ অ্যানথ্রোপিকের সঙ্গে গত সপ্তাহে একটি চুক্তি করেছে স্পেসএক্স। ওই চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির মেমফিসে থাকা এক্সএআই ডেটা সেন্টারের কম্পিউটিং সুবিধা ব্যবহার করবে অ্যানথ্রোপিক। ভবিষ্যতে মহাকাশে ডেটা সেন্টার নির্মাণেও যৌথভাবে কাজ করার আলোচনা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে এক্সএআইকে অধিগ্রহণ করে স্পেসএক্স। এরপর এআই ও মহাকাশ প্রযুক্তি একত্রে ব্যবহার করে নতুন অবকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা আরো জোরালো হয়।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, শুধু স্পেসএক্স নয়, অন্যান্য রকেট উৎক্ষেপণকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও আলোচনা করছে গুগল। একই সঙ্গে ‘প্রজেক্ট সানক্যাচার’ নামে একটি উদ্যোগের অংশ হিসেবে ২০২৭ সালের মধ্যে পরীক্ষামূলক স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।
স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলোন মাস্ক দীর্ঘদিন ধরেই মহাকাশে ডেটা সেন্টার স্থাপনের পক্ষে কথা বলে আসছেন। তার দাবি, পৃথিবীর ডেটা সেন্টারের তুলনায় মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার পরিচালনা খরচ কম হতে পারে।
সমর্থকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে স্থলভিত্তিক ডেটা সেন্টার নির্মাণে স্থানীয় জনগণের আপত্তি, পরিবেশগত উদ্বেগ ও অনুমোদনসংক্রান্ত জটিলতা বাড়ছে। মহাকাশে ডেটা সেন্টার হলে এসব সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে না।
তবে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জও রয়েছে। প্রযুক্তিবিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে পৃথিবীতে স্থাপিত ডেটা সেন্টার এখনো মহাকাশের বিকল্পগুলোর তুলনায় অনেক সস্তা। কারণ মহাকাশে ডেটা সেন্টার পাঠাতে স্যাটেলাইট নির্মাণ ও উৎক্ষেপণে বিপুল ব্যয় হয়।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রতি কিলোওয়াট কম্পিউটিং সক্ষমতার জন্য মহাকাশভিত্তিক অবকাঠামোর খরচ স্থলভিত্তিক ডেটা সেন্টারের তুলনায় কয়েক গুণ। এছাড়া মহাকাশে প্রযুক্তি পরিচালনার ক্ষেত্রে আরো কিছু ঝুঁকি রয়েছে। এর মধ্যে আছে মহাজাগতিক বিকিরণ থেকে যন্ত্রপাতি সুরক্ষা, মহাকাশের আবর্জনার ঝুঁকি এবং কক্ষপথে থাকা অবস্থায় যন্ত্রের রক্ষণাবেক্ষণ বা উন্নয়ন কাজের জটিলতা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্পেসএক্সের স্টারশিপ রকেট পুরোপুরি বাণিজ্যিকভাবে চালু হলে উৎক্ষেপণ খরচ কমতে পারে। তবে এখনো নিয়মিত বাণিজ্যিক কার্যক্রমে রকেটটি ব্যবহার হচ্ছে না। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে গুগল প্রায় ৯০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছিল স্পেসএক্সে।










