ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের ফলে বিশ্বব্যাপী তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস তথা এলএনজির সংকট দেখা দেয়ায় বিকল্প উৎসে বড় ধরনের বিনিয়োগে প্রস্তুত জাপানের ব্যবসায়ীরা। কাতার, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য অঞ্চলে জ্বালানি খুঁজছেন তারা। খবর নিক্কেই এশিয়া।
পারস্য উপসাগরে কাতারের নর্থ ফিল্ডে নতুন দুটি সম্প্রসারণ প্রকল্প চলছে। এ প্রকল্পগুলো ২০২৬ সালের শুরুতে উৎপাদনে যাবে। জাপানের মিতসুই অ্যান্ড কোং যার একটি অংশীদারত্বের ভিত্তিতে অধিগ্রহণের কথা ভাবছে।
প্রকল্পগুলো সম্পন্ন হলে কাতারের এলএনজি উৎপাদন ক্ষমতা বছরে ১২ কোটি ৬০ লাখ টনে পৌঁছবে, যা যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াকে ছাড়িয়ে যাবে। চুক্তির সময়, মূল্য ও লাভের সম্ভাবনার ওপর ভিত্তি করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে মিতসুই। কোম্পানিটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আমরা বিভিন্ন বিকল্প বিবেচনা করছি। এখনই বিস্তারিত মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে চাই।’
এদিকে মিতসুবিশি করপোরেশন, জ্বালানি সংস্থা ইনপেক্স ও অন্য অংশীদাররা ইন্দোনেশিয়ার তাংগুহ গ্যাসক্ষেত্রে প্রতি বছর ১ কোটি ১৪ লাখ টন উৎপাদন বাড়াচ্ছে। এ উৎপাদন থেকে কানসাই ইলেকট্রিক পাওয়ার প্লান্টে ১০ লাখ টন গ্যাস সরবরাহ করা হবে। এছাড়া চলতি দশকের মাঝামাঝি শেল ও অন্যদের সঙ্গে সহযোগিতার ভিত্তিতে কানাডায় একটি এলএনজি প্লান্ট চালু করবে মিতসুবিশি।
বিশ্বের বৃহত্তম এলএনজি আমদানিকারক জাপান। ২০২২ সালে দেশটির ক্রয়ের পরিমাণ ছিল ৭ কোটি ২০ লাখ টন, যার ১০ শতাংশই এসেছে রাশিয়া থেকে। কিন্তু মস্কোর সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনে সাখালিন-২ প্রকল্প থেকে এলএনজি সরবরাহ পাওয়ার সম্ভাবনা কম।
এছাড়া অন্যান্য ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি রয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার ওপর ৪০ শতাংশ এলএনজি আমদানির জন্য নির্ভর করে জাপান। কিন্তু ২০২২ সালে অভ্যন্তরীণ গ্যাসের ঘাটতির মধ্যে এক পর্যায়ে রফতানি সীমিত হয়। যেহেতু প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ করা কঠিন, তাই সরবরাহের ঝুঁকি কমাতে উৎসের বৈচিত্র্য খোঁজা জাপানের জন্য অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদে উদ্বৃত্ত উৎপাদনও সীমিত। ২০২২ অর্থবছরের জন্য জাপানের তৈরি জ্বালানি শ্বেতপত্র অনুসারে, বিশ্বব্যাপী উদ্বৃত্ত এলএনজি সরবরাহের ক্ষমতা ২০২৫ সালের দিকে কমরত পারে। তখন সরবরাহ-চাহিদার ভারসাম্য বজায় আরো কঠিন হবে।
স্পট চুক্তির মাধ্যমে বা পাঁচ থেকে ২০ বছর স্থায়ী দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে এলএনজি কেনা যায়। টোকিওভিত্তিক এনার্জি ইকোনমিকস অ্যান্ড সোসাইটি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক গো মাতসুও বলছেন, স্বল্পমেয়াদি চুক্তিতে মূল্য ওঠানামার ঝুঁকি থাকে। এ ঝুঁকি সীমিত করতে সাহায্য করতে পারে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি।
রাশিয়ার ওপর জ্বালানিনির্ভরতা কমাতে এরই মধ্যে ইউরোপ বৈশ্বিক এলএনজি বাণিজ্যে পরিবর্তন এনেছে। ইউএস এনার্জি ইনফরমেশন এজেন্সি অনুসারে, ইউরোপে মার্কিন এলএনজি রফতানি আগের বছরের চেয়ে ২০২২ সালে দ্বিগুণ হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোট এলএনজি রফতানির ৬৪ শতাংশেরই গন্তব্য ইউরোপ। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ যতই এগিয়ে যাবে ইউরোপ এলএনজির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ততই নির্ভরশীল হবে।
এদিকে জাপানের অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য পরিসংখ্যান অনুসারে, দেশটি ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি সংগ্রহের পরিমাণ বাড়িয়েছে। ওয়াশিংটন থেকে গত বছর ৪১ লাখ ৩০ হাজার টন আমদানি করেছে টোকিও। সব মিলিয়ে সরকার ও কোম্পানির সহযোগিতার মাধ্যমে জ্বালানির বিকল্প উৎসগুলোয় ঢুঁ মারছে জাপান।










