তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) বার্ষিক উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা নিয়েছে রাশিয়া। ২০৩০ সালের মধ্যে দেশটি বছরে ১০ কোটি টন এলএনজি উৎপাদন করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। পাশাপাশি আগামী বছর প্রত্যাশিত উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ কোটি ৭৩ লাখ টন। খবর আরটি।
জ্বালানি উন্নয়ন কর্মসূচির অংশ হিসেবে এলএনজি উৎপাদন বৃদ্ধির পথে হাঁটছে দেশটি। সরকারি তথ্যমতে, ২০২৪ সালে সব ধরনের জ্বালানি উত্তোলনের পরিমাণ ৪০ শতাংশ বাড়াতে চায় মস্কো। আর ২০২৩ সালের শেষ নাগাদ প্রাক্কলিত উত্তোলনের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ৩ কোটি ৩০ লাখ টনে।
রাশিয়ার পরিসংখ্যান সংস্থা রোস্ট্যাটের তথ্যমতে, গত বছর এলএনজি উৎপাদনের পরিমাণ বেড়েছে ৮ দশমিক ১ শতাংশ। মোট উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ৩ কোটি ২৫ লাখ টন। আর চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত প্রথম আট মাসে উৎপাদনের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে মোট ২ কোটি ৯ লাখ টন। গত বছরের একই সময়ের চেয়ে উত্তোলন বেড়েছে ৫ দশমিক ৩ শতাংশ।
রাশিয়ার জ্বালানিমন্ত্রী নিকোলাই সালগিন এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘২০৩০ সালের মধ্যে বার্ষিক এলএনজি উৎপাদন ১০ কোটি টনে উন্নীত করার প্রোগ্রাম হাতে নেয়া হয়েছে। আরেকটি প্রকল্প নিয়ে আমরা আশাবাদী। এটির অধীনে প্রথম উৎপাদন লাইন স্থাপনের কাজ চলছে। আগামী বছরের মধ্যে লাইনটি ৬৮ লাখ টন পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছবে। আমরা মারমানস্কে একটি নতুন এলএনজি প্লান্ট স্থাপনের বিষয়েও আলাপ-আলোচনা করছি। এতে তিনটি লিকুইফ্যাকশন লাইন থাকবে, যেগুলোর প্রতিটির সক্ষমতা হবে ৬৮ লাখ টন।’ চলতি মাসে সংবাদ সংস্থা আরআইএ নভোস্তিকে জ্বালানিমন্ত্রী বলেছেন, ‘দেশের বর্তমান এলএনজি উত্তোলনের পরিমাণ বিশ্ববাজারে রাশিয়ান জ্বালানির যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে তার চেয়ে যথেষ্ট কম।’ এর আগে উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক বলেছিলেন, পশ্চিম ইউরোপে পাইপলাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে মস্কো এলএনজি রফতানি বাড়াবে। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর মস্কোর কাছ থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহকৃত গ্যাস আমদানি কমানোর ঘোষণা দিয়েছিল ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যদিও সম্প্রতি পাওয়া তথ্যানুযায়ী, অঞ্চলটিতে রাশিয়ান এলএনজি আমদানির পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে। পরিবেশ পর্যবেক্ষক সংস্থা গ্লোবাল উইটনেস প্রকাশিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৩ সালের প্রথম সাত মাসে রুশ এলএনজি আমদানিতে পাঁচটি দেশ শীর্ষে রয়েছে। এর মধ্যে চীন ৮৭ লাখ, স্পেন ৭৫ লাখ, বেলজিয়াম ৭১ লাখ, জাপান ৭০ লাখ ও ফ্রান্স ৪৫ লাখ কিউবিক মিটার এলএনজি আমদানি করেছে। রুশ এলএনজি ব্যবহারকারী হিসেবে নেদারল্যান্ডস, গ্রিস, পর্তুগাল, ফিনল্যান্ড, ইতালি, সুইডেনকেও তালিকাভুক্ত করেছে গ্লোবাল উইটনেস। এদিকে কেপলারের দেয়া তথ্যমতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত রুশ এলএনজির সবচেয়ে বড় ক্রেতা ছিল চীন। এর পরই ইইউভুক্ত দেশ স্পেন ও বেলজিয়াম। ইউরোপে রুশ এলএনজি আমদানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ১ দশমিক ৭ শতাংশ এবং ২০২১ সালের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।










