৫০ বছরেও কেমিক্যাল ও খাদ্যদ্রব্য-জাতীয় পণ্য পরীক্ষণের কোনো ব্যবস্থা নেই বেনাপোল স্থলবন্দরের কাস্টম হাউজে। এসব ক্ষেত্রে ঢাকা থেকে পরীক্ষা করে রিপোর্ট আনে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। এতে কেবল পণ্য পরীক্ষণেই ২০ দিন থেকে এক মাস লেগে যায়, যার মাধ্যমে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানিকারকরা। কেননা সময়ক্ষেপণ হওয়ায় বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিল্পপ্রতিষ্ঠানে উৎপাদন। আবার বন্দরে পণ্য পড়ে থেকে মাশুল গুনতে হচ্ছে তাদের।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বন্দর থেকে বড় অংকের রাজস্ব আহরণ করলেও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ উপেক্ষিত হচ্ছে এখানে। তাদের দাবি স্থলবন্দরটির এমন অব্যবস্থাপনায় ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
কাস্টমস ও বন্দর সূত্রে জানা যায়, যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হওয়ায় দেশের স্থলপথে যে পণ্য আমদানি ও রফতানি বাণিজ্য হয় তার ৭০ শতাংশ হয় বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে। এ বন্দরে বছরে কমপক্ষে ৪০ হাজার কোটি টাকার আমদানি ও ৮ হাজার কোটি টাকার রফতানি বাণিজ্য হয়। এ বন্দরের আমদানি বাণিজ্য থেকে বছরে ৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় করে কাস্টমস।
তবে বন্দরটির প্রতি শুরু থেকে অবহেলা কর্তৃপক্ষের। প্রতিদিন এখান দিয়ে চার শতাধিক ধরনের পণ্য আমদানি হয়। এসব পণ্যের মধ্যে শিশু খাদ্য, খাদ্যদ্রব্যে ব্যবহূত কাঁচামাল, কসমেটিকস ও শিল্প-কারখানার কেমিক্যাল-জাতীয় ৫৫টি পণ্য পরীক্ষণ সার্টিফিকেট ছাড়া খালাস দেয়া হয় না। এ ধরনের পণ্য খালাসের আগে অন্যতম শর্ত পণ্যের গুণগত মান পরীক্ষণ। কিন্তু এ পণ্যের মান পরীক্ষণের তেমন কোনো সুব্যবস্থা নেই বেনাপোল কাস্টম হাউজে। এতে ক্ষতির মুখে পড়ছেন আমদানিকারকরা। অনেকে এ ধরনের অবহেলার কারণে বন্দর ছেড়ে চলে যাচ্ছেন।
বেনাপোল আমদানি-রফতানি সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, কাস্টমস ভবনে কেমিক্যাল ও খাদ্যদ্রব্য-জাতীয় পণ্য পরীক্ষণের কোনো ব্যবস্থা না থাকায় দ্রুত পণ্য খালাসে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঢাকার সায়েন্স ল্যাবে নমুনা পরীক্ষার জন্য প্রতিটির ক্ষেত্রে ২৫-৩৫ হাজার টাকা দিতে হয়। পাশাপাশি আমদানি পণ্য বন্দরের পণ্যাগার বা ট্রাকে রেখে মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় ব্যবসায়ীদের, যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তাদের ওপর। বাণিজ্যিক বিভিন্ন সভায় বেনাপোল কাস্টম হাউজে বিএসটিআই ও বিসিএসআইআরের পূর্ণাঙ্গ শাখা স্থাপনের দাবি জানালেও এ নিয়ে কর্তৃপক্ষের কোনো উদ্যোগ এখনো চোখে পড়েনি।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন জানান, পণ্য পরীক্ষণের সমস্যা নিরসন হওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে। একটি পণ্য চালান আমদানি করতে এলসিসহ ধাপে ধাপে বিভিন্ন খরচ আছে। যদি পরীক্ষণ সমস্যায় লম্বা সময় পণ্য চালান আটকে থাকে তবে সব খরচ ওই ব্যবসায়ীর ওপর পড়ে। আর যদি সময়মতো কাঁচামাল কারখানায় না পৌঁছে তবে যেমন কাজে লাগাতে পারে না তেমনি উৎপাদন ব্যাহত হয়।
পণ্য পরীক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় ব্যবসায়ীদের ভোগান্তির কথা স্বীকার করেন বেনাপোলের কাস্টম হাউজের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান। সার্বিক বিষয়ে তিনি বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরে বিএসটিআই ও বিসিএসআইআরের শাখা আছে। সেখানে ব্যবসায়ীরা সুবিধা পান। কিন্তু বেনাপোল বন্দরে এ সুবিধা না থাকায় তারা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতির শিকার হচ্ছেন। বর্তমানে বেনাপোল কাস্টম হাউজে স্বল্প পরিসরে বিএসটিআইয়ের একটি শাখা চালু হয়েছে। সেখানে কিছু পণ্যের মান পরীক্ষা করা হয়। পণ্য পরীক্ষণের জন্য পূর্ণাঙ্গ সব শাখা যাতে এখানে দ্রুত স্থাপন হয় তার জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।










