বিশ্বের সবচেয়ে বেশি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে এশিয়ার দেশগুলো। কভিড-১৯ ভাইরাসের ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের তীব্র আঘাতে চলতি বছর এ অঞ্চলের দেশগুলোতে জ্বালানি তেলের চাহিদায় মন্দা ভাব দেখা দেয়। তবে আগস্টের শুরু থেকেই দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। নভেল করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি জোরদার হওয়ায় শিথিল হচ্ছে মহামারী রোধে গৃহীত বিধিনিষেধ। বিপর্যয় কাটিয়ে উঠছে শিল্প ও পর্যটন খাত। ফলে জ্বালানি তেলের প্রাতিষ্ঠানিক চাহিদার পাশাপাশি ব্যক্তিকেন্দ্রিক চাহিদাও বাড়ছে। বাজারে চাহিদা ও সরবরাহে ভারসাম্য আনতে এ অঞ্চলের আমদানিকারকরা বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় আগস্টে বেশ যথেষ্ট পরিমাণ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছেন। খবর রয়টার্স।
এশিয়ায় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বৃদ্ধিতে সাধারণত চীনই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। তবে আগস্টে চাহিদার দিক দিয়ে বড় প্রভাবক হয়ে ওঠে ভারত ও জাপান। এশিয়া মহাদেশের যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক এ দুই দেশ।
ভারত সর্বশেষ পাঁচ মাসের সর্বোচ্চ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে আগস্টে। পণ্যবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের মতে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশটি আগস্টে দৈনিক ৪৩ লাখ ৩০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করে। রেফিনিটিভ অয়েল রিসার্চের হিসাব বলছে, দেশটি দৈনিক ৪৩ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল আমদানি করেছে।
বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ বছর ভারতে করোনা মহামারীর দ্বিতীয় ঢেউ আছড়ে পড়লে দেশটি ভয়াবহ বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। এ সময় অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামও সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছে। ফলে পরিশোধনকারীরা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ক্রয় বন্ধ রাখেন। এ কারণে বছরের শুরুতেই ভারতের জ্বালানি তেল আমদানিতে ধস নামে। এর মধ্যে জুলাইয়ে আমদানির পরিমাণ সর্বনিম্নে পৌঁছে। ওই মাসে ভারত দৈনিক ৩৪ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি করেছিল।
তবে সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে নেতিবাচক পরিস্থিতি শিথিল হয়েছে। মহামারীর প্রাদুর্ভাব থাকলেও দেশটির অর্থনীতি পুনরায় সচল হচ্ছে। এ কারণে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে জ্বালানি তেলের চাহিদা। আগস্ট শেষে ভারতের মোট অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি এক বছরের সর্বোচ্চ পরিমাণকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
এ বছরের জুলাইয়ে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ সূচক স্পর্শ করে। ৬ জুলাই আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৭ ডলার ৮৪ সেন্টে উন্নীত হয়। তবে সম্প্রতি পণ্যটির দামে নিম্নমুখিতা অব্যাহত আছে।
এদিকে ভারতের মতো জাপানও আগস্টে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানি বাড়িয়েছে। পণ্যবাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলার জানায়, আগস্টে জাপান দৈনিক ৩৩ লাখ ৬০ হাজার ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ক্রয় করে। রেফিনিটিভের মতে, দেশটি দৈনিক ২৮ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল আমদানি করেছে। জুলাইয়ে আমদানির পরিমাণ ছিল দৈনিক ১৮ লাখ ৫০ হাজার ব্যারেল।
এদিকে ভারতের মতো জাপানও করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় যুদ্ধ করছে। এমন পরিস্থিতিতেই দেশটির পরিশোধনকারীরা পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করতে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ক্রয়ের পরিমাণ বাড়িয়েছেন।
চীন বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আমদানিকারক। কেপলারের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগস্টে দেশটির আমদানি দৈনিক ১ কোটি ৩০ হাজার ব্যারেলে পৌঁছতে পারে। রেফিনিটিভ বলছে, চীনের আমদানি দৈনিক ১ কোটি ৭ লাখ ৯০ হাজার টনে পৌঁছবে।










