নওগাঁয় পাইকারি বাজারে সরু চালের দাম বেড়েছে। মোকামগুলোয় চারদিনের ব্যবধানে এ জাতের চালের দাম বেড়েছে কেজিতে ১-৩ টাকা। গতকাল বাজারের পাইকারি চাল ব্যবসায়ীরা এ তথ্য জানিয়েছেন। 

ব্যবসায়ীদের দেয়া তথ্যানুসারে, চারদিন আগে মিল মালিকরা পাইকারিতে সরু চালের মধ্যে জিরাশাইল বিক্রি করেছেন কেজিপ্রতি ৬২-৬৩ টাকায়। বর্তমানে তা বেড়ে ৬২-৬৪ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতি কেজি কাটারিভোগ বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৬২-৬৮ টাকায়, চারদিন আগেও যা ছিল কেজিপ্রতি ৬১-৬৫ টাকা। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পাইকারি বাজারে মোটা অথবা মাঝারি আকারের চালের দাম তিন সপ্তাহ ধরে স্থিতিশীল রয়েছে। নওগাঁয় মাঝারি চালের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া স্বর্ণাপাত কেজিপ্রতি ৫১-৫২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিআর ২৮ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৬-৫৭ ও শুভলতা বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ৫৭-৫৮ টাকায়।

এ বিষয়ে নওগাঁর সততা রাইস এজেন্সির আড়তদার সুকুমার ব্রহ্ম বলেন, ‘ঢাকা ও চট্টগ্রামের মোকামগুলোয় সরু চালের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। বাড়তি চাহিদার কারণে এ ধরনের চালের দাম সাধারণত বেশিই থাকে। অন্যদিকে দেশে চলমান অস্থিরতার কারণে বাজারে ধানের সরবরাহ একেবারেই বন্ধ হয়ে গেছে। অনেক মিল মালিক চালকল সচল রাখতে পারছেন না। তাই ধানের সরবরাহ সংকট সৃষ্টি হওয়ায় আকস্মিক মোকামগুলোয় চালের দাম বেড়েছে। তবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে দাম আবারো কমে আসতে পারে।’ 

নওগাঁ জেলার চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন চকদার বলেন, ‘কারফিউ জারির পর গত দুদিনে নঁওগার মোকাম থেকে এক ট্রাক চালও ঢাকা ও চট্টগ্রামের মোকামে পাঠানো সম্ভব হয়নি। যেখানে স্বাভাবিক অবস্থায় প্রতিদিন এখান থেকে (নওগাঁ) দেশের বিভিন্ন জায়গায় অন্তত দেড়শ ট্রাক চাল যেত। সেটি কমে গত দুদিনে প্রায় শূন্যে নেমে এসেছে। মোকাম ও মিলগেটে চাল বেচাকেনা একেবারে বন্ধ। এদিকে ধানের দামও ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ফলে চালের দামেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।’ 

তিনি আরো জানান, সরবরাহ বন্ধ থাকলে দেশের অন্যান্য জায়গায়ও চালের দাম বেড়ে যেতে পারে। 

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে ধান উৎপাদনের দিক থেকে শীর্ষ জেলাগুলোর মধ্যে একটি নওগাঁ। বোরো মৌসুমে অঞ্চলটিতে প্রায় ১৩ লাখ টন ধান উৎপাদন হয়েছে। এছাড়া এ মৌসুমের ধান কাটা-মাড়াই শেষ হওয়ার প্রায় তিন মাস পেরিয়েছে। বর্তমানে বোরোর ভরা মৌসুম চলছে। তাই এ সময় স্বাভাবিকভাবে চালের দাম কমে আসার কথা। কিন্তু এর পরিবর্তে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে ধান-চালের দাম বাড়াচ্ছেন পাইকারি ব্যবসায়ীরা।