জাপান ডিপার্টমেন্ট স্টোরস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) জাপানের ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলোয় রত্নপাথর, মূল্যবান ধাতু ও শিল্পকর্মের বিক্রয় ১৯ শতাংশ বেড়ে ৩৩০ বিলিয়ন ইয়েনে (প্রায় ২০০ কোটি ডলার) দাঁড়িয়েছে। ২০০৮ সাল থেকে ডেটা সংগ্রহ শুরুর পর এটিই কোনো বছরের প্রথম ছয় মাসে সর্বোচ্চ বিক্রির রেকর্ড।

বর্তমানে ডলারের বিপরীতে জাপানি ইয়েনের মান কমে ১৬৪ ইয়েনে নেমেছে, যা ১৯৮০-এর দশকের পর সর্বনিম্ন। পাশাপাশি জুনে তাজা খাদ্যপণ্য ব্যতীত মূল ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে ১ দশমিক ৬ শতাংশ।

টোকিওভিত্তিক গহনা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হ্যাপিনেস অ্যান্ড ডির প্রেসিডেন্ট সাতোশি মায়াহারা জানান, ‘এখন মানুষের সম্পদ হিসেবে নগদ অর্থের বদলে ৫-১০ শতাংশ স্বর্ণ রাখা স্বাভাবিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ইয়েনের মান কমায় চাহিদা বেড়েছে, তাই প্রতিষ্ঠানগুলোও স্বর্ণকেন্দ্রিক ব্যবসায় মনোযোগ দিচ্ছে।’

দেশী ক্রেতাদের দাপট ডিপার্টমেন্ট স্টোরগুলোয় সামগ্রিক বিক্রি বেড়েছে ৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে অলংকারের বিক্রি বেড়েছে ১৯ শতাংশ।

ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক ক্যাথরিন লিম জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ায় জাপানি ক্রেতারা হ্যান্ডব্যাগের চেয়ে ব্র্যান্ডেড অলংকার বেশি পছন্দ করছেন। তারা অলংকারকে ভবিষ্যৎ মূল্যায়নের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন।

এ চাহিদার কারণে বৈশ্বিক বিলাসবহুল ব্র্যান্ডগুলোর বিক্রিও বেড়েছে। কার্টিয়ারের মালিকানাধীন কোম্পানি রিশমন্ট জানায়, জাপানে বিক্রি সম্প্রতি ২০ শতাংশ বেড়েছে, যা প্রত্যাশার প্রায় দ্বিগুণ।

গুচির মালিকানাধীন কেরিও জানায়, বছরের প্রথম প্রান্তিকে (জানুয়ারি-মার্চ) ফ্যাশন পণ্য কমলেও গয়না বিক্রি বেড়েছে ৫৭ শতাংশ।