সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে (এসএফই) বেড়েছে অ্যালুমিনিয়ামের দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম বেড়ে ১৩ বছরের সর্বোচ্চে পৌঁছেছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

বাজারসংশ্লিষ্টরা জানান, সম্প্রতি চীনের ইউনান প্রদেশের অ্যালুমিনিয়াম বিগলন কেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করে দেশটির সরকার। উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ ঘাটতি রোধ করা। এ কারণে টানা কয়েক মাস নিম্নমুখী রয়েছে চীনের অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন। বাজারে ব্যবহারিক ধাতুটির সংকট তৈরি হওয়ায় দাম সর্বোচ্চ সূচক স্পর্শ করেছে।

সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে (এসএফই) অ্যালুমিনিয়ামের অক্টোবরে সরবরাহ চুক্তিমূল্য ৪ দশমিক ২ শতাংশেরও বেশি বেড়েছে। প্রতি টন অ্যালুমিনিয়ামের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২১ হাজার ৫৫০ ইউয়ান বা ৩ হাজার ৩৩২ ডলার ৪১ সেন্টে। ২০০৮ সালের পর এটিই সর্বোচ্চ মূল্যবৃদ্ধির ঘটনা। কার্যদিবস শেষে ধাতুটির দাম কিছুটা কমে ২১ হাজার ৪৯৫ ইউয়ানে নেমে যায়। তবে কমলেও আগের কার্যদিবসের তুলনায় ৩ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি দামে প্রতি টন অ্যালুমিনিয়াম বিক্রি হয়েছে।

হুয়াতাই ফিউচারস এক প্রতিবেদনে জানায়, সম্প্রতি জ্বালানি ও বিদ্যুতের ব্যবহার সীমিত করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে চীন সরকার। এ কারণে আগস্টে দেশটির মোট অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন কমার আশঙ্কা রয়েছে।

চীন বিশ্বের শীর্ষ ধাতব পণ্য উৎপাদক। দেশটির ন্যাশনাল ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস জানায়, জুলাইয়ে চীন ৩২ লাখ ৬০ হাজার টন প্রাইমারি অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করে। জুনে উৎপাদন হয়েছিল ৩২ লাখ ৯০ হাজার টন। সে হিসাবে ধাতুটির উৎপাদন দশমিক ৯ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে গত বছরের জুলাইয়ের তুলনায় বেড়েছে ৭ দশমিক ৪ শতাংশ।

রয়টার্সের হিসাব অনুযায়ী, জুলাইয়ে চীন দৈনিক ১ লাখ ৫ হাজার ১৬১ টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করে। জুনে দৈনিক উৎপাদনের পরিমাণ ছিল ১ লাখ ৯ হাজার ৭০০ টন। এক মাসের ব্যবধানে দৈনিক উৎপাদন কমেছে ৪ হাজার ৫৩৯ টন।

এদিকে জুনে দেশটি ৩২ লাখ ৯০ হাজার টন অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন করে। মে মাসে উৎপাদন হয়েছিল ৩৩ লাখ ২০ হাজার টন। সে হিসাবে উৎপাদন কমেছে ৯ দশমিক ৩ শতাংশ।

চীনের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের ইউনান রাজ্য দেশটির ধাতু বিগলনের প্রধান কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের উৎস বেশি থাকায় অঞ্চলটি বিগলনকারীদের কাছে জনপ্রিয়। কিন্তু অঞ্চলটিতে মারাত্মক খরা দেখা দেয়ায় মে থেকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এতে উৎপাদনের ওপর চাপ পড়ে।