কিন্তু তাড়াহুড়ো বা অসাবধানতায় অনেকেই সেখানে ফেলে যান নিজেদের মূল্যবান সব জিনিসপত্র। বছরজুড়ে যাত্রীদের ফেলে যাওয়া এমন হাজারো দাবিহীন জিনিস নিয়ে নিলামের আয়োজন করেছে অস্ট্রেলিয়ার সিডনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। নিলাম থেকে পাওয়া সব অর্থ দেয়া হবে দাতব্য সংস্থায়
কী কী আছে নিলামে
চলতি বছর বিমানবন্দরের টার্মিনালে ফেলে যাওয়া ২ হাজার ৩০০টিরও বেশি সামগ্রী নিলামে তোলা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১২০টি ল্যাপটপ, ১০০টি হেডফোন, ৩৫০টি গহনা ও ১৫০টি সানগ্লাস।
সাধারণ এসব ডিভাইস ও ব্যবহারের জিনিসপত্রের পাশাপাশি গত ১২ মাসে বিমানবন্দর কর্মীরা আরো কিছু জিনিস উদ্ধার করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে একটি পরিত্যক্ত বিয়ের পোশাক, তিনটি স্কেটবোর্ড, একটি ব্যাটম্যান লেগো সেট, একটি এয়ার ফ্রায়ার ও একটি করাত।
২ লাখ ডলার সংগ্রহের আশা
নিলামে প্রতিটি জিনিসের জন্য প্রাথমিক বিডিং শুরু হবে ১০ ডলার থেকে। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে, এবারের নিলাম থেকে প্রায় ২ লাখ ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব। এ অর্থ দিয়ে বিমানবন্দরের স্থানীয় বেসাইড কাউন্সিল এলাকায় সাধারণ মানুষকে বিনামূল্যে সাঁতার কাটার প্রশিক্ষণ দেয়া হবে।
বিগত এক দশকে সিডনি বিমানবন্দরের হারানো মালপত্র বিক্রির নিলাম থেকে বিভিন্ন দাতব্য সংস্থা ও সামাজিক উন্নয়নমূলক কাজের জন্য প্রায় ২২ লাখ ডলার সংগ্রহ করা হয়েছে।
থিওডোর ব্রুস অকশনিয়ার্সের পরিচালক ক্যাসি প্রিশল বলেন, ‘সারা অস্ট্রেলিয়া থেকে মানুষ নিলামে অংশ নেয়। তারা কেবল কম দামে ভালো জিনিস কেনার জন্যই আসে না, বরং তারা জানে যে এ অর্থ সমাজের ভালো কাজে ব্যবহার করা হবে।’
তিনি আরো জানান, এবারের তালিকায় নামি ব্র্যান্ডের প্রযুক্তি পণ্য, সুন্দর গহনা, ঘড়ি ও সুগন্ধি রয়েছে।
কেনা যাবে অনলাইনে
বিমানবন্দরে ফেলে যাওয়া জিনিসপত্র নিলামে তোলার আগে প্রকৃত মালিকের কাছে তা ফিরিয়ে দেয়ার সব ধরনের চেষ্টা করেন কর্মীরা। সিডনি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০১৫ সালে যাত্রীদের হারিয়ে যাওয়া ছয় হাজারেরও বেশি জিনিসপত্র ফিরিয়ে দেয়া হয়। তবে নিলামের মধ্যে প্লেনের ভেতরের চেকিং ব্যাগেজে থাকা মালপত্র অন্তর্ভুক্ত নয়। কেবল টার্মিনালে ফেলে যাওয়া সামগ্রীই এখানে বিক্রি হবে।
নিলামের জন্য বিডিং চলবে ৮ জুলাই বেলা ২টা পর্যন্ত। আগ্রহী ক্রেতারা অনলাইনে যুক্ত হয়ে এখানে অংশ নিতে পারবেন। —খবর ও ছবি সেভেন নিউজ










