দেশে ভোগ্যপণ্যের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জ। চলমান কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে তিনদিন ধরে এ বাজারে বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বেচাকেনা ‍আগের তুলনায় অনেক কমেছে। বেচাকেনার পরিমাণ নেমে এসেছে চার ভাগের এক ভাগে। অঞ্চলটিতে উত্তরবঙ্গ থেকে চাল, পেঁয়াজ, আলু, হলুদ ও মরিচের মতো পণ্যগুলোর সরবরাহ আসছে না। পাশাপাশি এ বাজার থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ডাল, ভোজ্যতেল, চিনির মতো পণ্যগুলোর সরবরাহ পৌঁছাচ্ছে না। 

তবে সরবরাহ বন্ধ থাকলেও ভোগ্যপণ্যের দাম স্থিতিশীল। সাধারণত যেকোনো বাজারে ক্রেতা সংকট থাকলে পণ্যের দাম কমে যায়। তবে দেশে আরো কিছুদিন এ পরিস্থিতি চলমান থাকলে ভোগ্যপণ্যের সংকটে পড়তে পারে বাজার। তাই খাতুনগঞ্জে ক্রেতা সংকট থাকলেও পরবর্তী সময়ের জন্য ব্যবসায়ীরা মজুদ ধরে রাখছেন বলে দাম এখনো কমছে না। দেশের বর্তমান পরিস্থিতি চলমান থাকলে বাজারে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এ বিষয়ে পাইকারি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান মেসার্স হক ট্রেডিংয়ের স্বত্বাধিকারী আজিজুল হক বলেন, ‘‌সাধারণত প্রতিদিন খাতুনগঞ্জে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ২০০-২৫০টি পণ্যবাহী ট্রাক আসে। কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে কয়েকদিনে তা কমে ২০-৫০-এ নেমে এসেছে।’ 

হাজি ইসহাক সওদাগর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী সেকান্দর বলেন, ‘খাতুনগঞ্জে বিভিন্ন পণ্যের বেচাকেনা অনেক কমে গেছে। লোডিং-আনলোডিং প্রায় বন্ধ। দেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনের কারণে পাইকারিতে ক্রেতা নেই। পণ্য পরিবহনে ব্যাঘাত ঘটছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘‌বাজারে ক্রেতা কমে গেলে পণ্যের দাম সাধারণত কমে যাওয়ার কথা। কিন্তু দাম কার্যত কমছে না। ব্যবসায়ীদের ধারণা, এ পরিস্থিতি চলমান থাকলে নিত্যপণ্যের সংকটে পড়তে পারে বাজার। তাই দাম না কমিয়ে মজুদ ধরে রাখার চেষ্টা করছেন তারা।’

অন্যদিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বিঘ্ন ঘটায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সবজির সরবরাহও খাতুনগঞ্জে আসছে না। আর এ সময় ডালের চাহিদা সাধারণত বেড়ে যায়। চাহিদা বেড়ে যেতে পারে—এ সম্ভাবনায় খাতুনগঞ্জে ডালের দাম বেড়েছে।

ব্যবসায়ী সূত্রে জানা গেছে, পাইকারিতে বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ান মসুর ডাল কেজিপ্রতি ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ভারতীয় মসুর ডাল ১২৯-১২১ টাকায়, দেশী মসুর ডাল ১৩২-১৩৩ টাকায় ও মটর ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া আমদানীকৃত মুগ ডাল বিক্রি হচ্ছে ১২৮ টাকায়, দেশী মুগ ডাল ১৬২-১৬৩ টাকায়।

অন্যদিকে ছোলার দাম এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিপ্রতি ৩৫-৩৬ টাকা বেড়েছে, যা এক সপ্তাহে আগে ছিল ৮০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে ১১৫-১১৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।