বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ও জেট ফুয়েলের মূল্য উল্লেখযোগ্য হারে কমলেও উড়োজাহাজের টিকিটের দাম এখনই কমছে না। যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান এয়ারলাইনস কোম্পানি ও বাজার বিশ্লেষকরা এমন আভাস দিয়েছেন। জ্বালানি তেলের বাজারে অতিরিক্ত অস্থিরতার কারণে এয়ারলাইনসগুলো ভাড়া কমানোর ক্ষেত্রে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে। খবর এপি।
কলম্বিয়া বিজনেস স্কুলের অর্থনীতিবিদ ব্রেট হাউজ জানান, জ্বালানির দামের ক্ষেত্রে প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো এর অনিশ্চয়তা ও বারবার ওঠানামা। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন তেলের দাম বাড়ে, এয়ারলাইনসগুলোর পরিচালন ব্যয় এক লাফে অনেক বেড়ে যায়। কিন্তু তেলের দাম কমলে সঙ্গে সঙ্গে টিকিটের দাম কমানো সম্ভব হয় না। কারণ এয়ারলাইনসগুলো বেশ কয়েক মাস আগেই ফ্লাইটের সময়সূচি ও টিকিটের দাম নির্ধারণ করে ফেলে।
ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে বিশ্বজুড়ে শোধনাগারগুলোর উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে। ফলে ডিজেল ও জেট ফুয়েলের সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার (আইএটিএ) তথ্য অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক বাজারে জেট ফুয়েলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। চলতি বছর এয়ারলাইনসগুলোর মোট পরিচালন ব্যয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশই চলে যাচ্ছে জ্বালানি কিনতে, যা আগের বছর ছিল চার ভাগের এক ভাগ।
যুক্তরাষ্ট্রের লেবার ডিপার্টমেন্টের তথ্যে দেখা যায়, গত বছরের তুলনায় চলতি বছরের আগস্টে উড়োজাহাজ ভাড়া গড়ে ২৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। ছুটি ও উৎসবের সময়কে সামনে রেখে আকাশপথে ভ্রমণের খরচ গত এক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
ট্রাভেল বুকিং প্রতিষ্ঠান হপার জানায়, বিশ্বজুড়ে আসন্ন উৎসবের দিনগুলোয় ভ্রমণের খরচ গত বছরের তুলনায় ২৩-৩১ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে আমেরিকান এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড ও সাউথওয়েস্টের মতো বড় সংস্থাগুলো নিজেদের তুলনামূলক কম লাভজনক রুটে ফ্লাইটের সংখ্যা কমিয়ে আনছে। ফ্লাইট কমে যাওয়ায় শেষ মুহূর্তে যারা টিকিট কিনছেন, তাদের দিতে হচ্ছে দ্বিগুণের বেশি ভাড়া।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকিটের দাম টেকসইভাবে কমতে হলে জেট ফুয়েলের দাম দীর্ঘমেয়াদে কম থাকা প্রয়োজন। কিন্তু বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে স্বল্পমেয়াদে জ্বালানি সারচার্জ বা টিকিটের দাম কমার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।










