নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৮ সাল থেকে ব্যাংকগুলোকে সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ঋণের জন্য আগাম প্রভিশন (সঞ্চিতি সংরক্ষণ) রাখতে হবে। তবে এ নির্দেশনা অনুসরণে শিথিলতা চেয়েছে ব্যাংক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)। একই সঙ্গে ব্যাংক কর্মকর্তাদের বোনাস দেয়ার শর্তেও শিথিলতা চেয়েছে সংগঠনটি। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমানের সঙ্গে গতকাল এক বৈঠকে এ দাবি জানিয়েছে বিএবি।

২০২৫ সালের ডিসেম্বরে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক নির্দেশনায় বলা হয়, কোনো ব্যাংক যদি আর্থিক লোকসান বা মূলধন ঘাটতিতে থাকে, তাহলে তারা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উৎসাহ বোনাস দিতে পারবে না।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, যেসব ব্যাংক মূলধন ও প্রভিশন ঘাটতিতে রয়েছে, তাদের কর্মকর্তাদের বোনাস দিতে গভর্নরকে বিশেষ ছাড় দেয়ার অনুরোধ করেছেন ব্যাংকের উদ্যোক্তা পরিচালকরা। ব্যাংকগুলো এরই মধ্যে সংকটে রয়েছে। এ অবস্থায় আইএফআরএস-৯ অনুযায়ী নতুন প্রভিশনিং নীতি কার্যকর করতে গেলে ব্যাংকগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে বলেও গভর্নরকে জানিয়েছেন তারা।

বৈঠক শেষে বিএবি চেয়ারম্যান আবদুল হাই সরকার সাংবাদিকদের বলেন, ‘প্রভিশন-সংক্রান্ত আন্তর্জাতিকভাবে প্রচলিত এ পদ্ধতি বাংলাদেশের অবকাঠামো ও বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাস্তবায়ন করা উচিত। এটিকে কীভাবে আরো ফলপ্রসূ করা যায়, তা নিয়ে গভর্নরের সঙ্গে কথা বলেছি আমরা।’

গভর্নরের সঙ্গে বৈঠকটি পরিচিতিমূলক সভা ছিল বলে জানিয়ে বিএবি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বৈঠকে ব্যাংক খাতের উন্নয়ন, নীতিগত সমন্বয় ও ভবিষ্যতে পারস্পরিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। দেশের স্বার্থে বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সঙ্গে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় জোরদারের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।’

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিএবি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশী কর্মীদের কাজের পরিবেশ বিঘ্নিত হলে তা দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এর প্রভাব কতটা হবে, তা নির্ভর করছে এ সংঘাত কতদিন স্থায়ী হয় তার ওপর।’

বৈঠকে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরো শক্তিশালী করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বিএবি চেয়ারম্যান।