১৯৮৬ সালের ২৬ মার্চ প্রগতি ইন্স্যুরেন্স কোম্পানির মাধ্যমে বীমা শিল্পে আমার পদার্পণ। বীমার বিভিন্ন বিভাগে কাজ করতে করতে ২৮ বছর পর ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেডে ২০১৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও হিসেবে কর্মরত আছি। আমার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বীমা শিল্পে যারা কর্মরত আছেন এবং বীমা শিল্পের যে অস্থিরতা বর্তমানে বিরাজমান ও বীমা পেশায় যারা আসতে আগ্রহী, তাদের সঙ্গে শেয়ার করার জন্যই এ লেখা।
বীমা পেশার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সততা, দৃঢ়তা, ধৈর্য, সাধনা ও একাগ্রতা। পেশার প্রতি সম্মান, শিক্ষা, জানার আগ্রহ ও সফলতার জন্য কাজ করে যাওয়া। নিজেকে এবং পেশাকে অন্যদের কাছে সুন্দর ও স্বচ্ছন্দের সঙ্গে উপস্থাপন করা।
বীমা ব্যবসা একদিনে হয় না। সবাই সফল হন না, কি লাইফ কি নন-লাইফ। ঝরে পরা লোকের সংখ্যাই বেশি, গুটি কয়েক কেবল সাফল্যের হাসি হাসতে পারেন। এ কারণে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষিত জনগোষ্ঠী বা শিক্ষিত তরুণ-তরুণী এ পেশায় কাজ করতে আগ্রহী হন না। কারণ শিক্ষাজীবন শেষ করার পর কেউই পরিবার-পরিজনের কাছে হাত পাততে চান না। তাই বীমা পেশার মতো কঠিন পেশায় তাদের জীবনের কয়েকটি বছর ‘ট্রাই অ্যান্ড এরর’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে চান না। সবাই নিশ্চিত জীবন চান, মাস শেষে নির্ধারিত বেতন চান, রাতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে চান। টার্গেটবিহীন স্বচ্ছন্দ জীবন চান। কিন্তু বীমার জীবন তো ছোট বড় সবাইকে টার্গেটের পেছনে ছুটিয়ে ছাড়ে। তাই তো সবাই সফল হতে পারেন না।
আমাদের দেশে বীমা নিয়ে অনেক নেতিবাচক কথা হয়। কারণ বীমায় শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর আনাগোনা কম। নন-লাইফ বীমার ব্যবসা চলে রেফারেন্সে, চলে কোনো শিল্পগোষ্ঠীর আশীর্বাদে, ব্যাংক কর্মকর্তাদের খেয়ালখুশিতে। তাই এদেরকে সুবিধা দিতে না পারলেই বীমা সম্পর্কে এত নেতিবাচক কথা হয়।
ট্যারিফ সংশোধন কমিটি গার্মেন্টের ফায়ার ট্যারিফ সংশোধন করতে গিয়ে অসতর্কতাবশত গার্মেন্ট ফ্যাক্টরির জন্য ফায়ার অ্যান্ড আরএসডি প্রিমিয়ামের যে রেট দিয়েছেন, তা আগের রেটের চেয়ে বর্তমানে অতিরিক্ত প্রিমিয়াম হওয়ায় বাজারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। যে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়কে খুশি করতে বীমার প্রিমিয়াম হার বিদেশের অনুকরণে কমানো হয়েছে, তা মোটেও যুক্তিযুক্ত হয়নি। সব কাজে বিদেশী ভাবধারা অনুসরণ দেশের বা শিল্পের জন্য সুখকর হয় না। ট্যারিফ সংশোধন কমিটির বিজ্ঞজনেরা দেশের বীমা শিল্পের কথা বিবেচনায় নিলে ট্যারিফ সংশোধনের কারণে এই বছর থেকে বীমা শিল্পের প্রিমিয়াম আয় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা কম হতো না। তার পরেও প্রিমিয়াম আন্ডারকাট (বিদেশ থেকে প্রিমিয়াম রেট এনে) ব্যবসায়ীদের সুবিধা দিয়ে কিছু কোম্পানি নিজেরা সুবিধাভোগ করছে, আর সরকার ট্যাক্স, ভ্যাট থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এ কারণে মার্কেটে বীমা সম্পর্কে বিরূপ ধারণার সৃষ্টি হচ্ছে।
ট্যারিফ সংশোধনের পরেও ব্যবসায়ীদের চাপে বীমা কোম্পানিগুলো বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এজেন্ট কমিশনটাও বীমা গ্রহীতাদের দিয়ে দিচ্ছে। এটাই বর্তমান বাজারের বাস্তবতা। কমিশন বন্ধ করার জন্যই ট্যারিফ সংশোধন করা হয়েছে, যা প্রমাণ করে অতীতের মতো এবারো মস্ত বড় ভুল হলো।
এ অবস্থায় আমরা যারা নন-লাইফ বীমায় কাজ করছি, তাদের অবস্থা তথৈবচ। আমরা ব্যবসায়ী, ব্যাংকারদের খুশি করতে করতে বেতনের টাকাটাও নিয়ে বাসায় যেতে পারি না। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, সংসার খরচ, অসুখবিসুখ, তার পরে করোনার প্রভাব—সব মিলিয়ে নাভিশ্বাস অবস্থা। সবাই যার যার মতো বাঁচার জন্য একে অন্যের ব্যবসা দখলে নেয়ার চেষ্টা করছে অবিরত, অথচ বিআইএর নির্দেশনার পরেও কোনো পরিবর্তন আসছে না। সবাই যেন অবৈধ প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত। বিআইএর পরিচালনায় থেকে বীমা কোম্পানিগুলোকে যারা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছেন, তাদের কোনো কোনো কোম্পানির নামও এ কাজে যুক্ত আছে বলে মার্কেটে শোনা যায়।
মার্কেট সার্ভে করে এত নির্দেশনার পরেও যারা বীমাবাজার অস্থির করে তুলেছেন, তাদের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করে মার্কেট নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা যায় কিনা, তা ভেবে দেখা দরকার। ছোটবেলায় পড়েছিলাম চোর ধরতে চোর নিয়োগ দিতে হয়। আজ সেকথা সত্যি বলে মনে হচ্ছে।
এমন অবস্থায় বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কমিশন বন্ধ বা নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। তাই প্রয়োজন সব বীমা কোম্পানিকে ভিজিল্যান্স টিমের মাধ্যমে পরিদর্শন করিয়ে বীমা শিল্পের বাস্তব অবস্থা নিরূপণ করে টেকসই কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা; যাতে অবৈধ ও অনৈতিক প্রতিযোগিতা বন্ধ করা যায়। বীমা শিল্পে যারা কাজ করছেন, তারা যেন আত্মমর্যাদার সঙ্গে কাজ করে এ শিল্পকে উন্নত দেশের পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারেন।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক জারীকৃত ৬৪ নং সার্কুলারটি বীমা শিল্পের আর্থিক মানদণ্ডকে উন্নত করেছে। তার পরেও বিআইএর মিটিংয়ে শোনা যাচ্ছে কোনো কোনো কোম্পানি ওই সার্কুলারের নির্দেশনা অমান্য করে অতিরিক্ত ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে বাজারে অর্থ সরবরাহ করে বাজারকে অস্থির করে তুলছে। তা সত্যি কিনা, এটি খতিয়ে দেখার সময় এসেছে।
কেননা আমাদের বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মহোদয় পেশায় একজন হিসাব বিশেষজ্ঞ (চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট), অর্থনীতি এবং বীমা পেশার বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার সবিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ আজ তিনি একজন সত্যিকার পেশাজীবী হিসেবে এই উচ্চতর পদে আসীন হয়েছেন। তার টিমে অত্যন্ত মেধাবী সদস্য, পরিচালক ও নির্বাহী পরিচালকরা আছেন। যারা স্ব-স্ব কর্মক্ষেত্রে দক্ষতার পরিচয় দিয়ে আজ বীমা শিল্পের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ করে সরকারের রাজস্ব খাতকে চাঙ্গা করার মহান ব্রত নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।
নন-লাইফ বীমায় বর্তমান ইস্যুকৃত সার্কুলার নং-৭৫ ও ৭৮ বীমা শিল্পকে ভালো করার আরো একটা সুন্দর পদক্ষেপ। আমরা চাই সার্কুলার বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বীমা পেশায় বিশেষ করে যারা উন্নয়ন কর্মকর্তা হিসেবে বিভিন্ন পদে কাজ করছেন, তাদের সম্মানজনক অবস্থা বজায় রেখে কীভাবে শিল্পে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা যায়, তা নিয়ে বীমার সঙ্গে জড়িত সব পক্ষকে উদার মনোভাব নিয়ে সঠিক ও বাস্তবসম্মত মতামত দিয়ে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করা।
বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের কাছে নিবেদন শিল্প বিকাশে এখন দরকার দক্ষ হাতে নার্সিং ও দক্ষ জনশক্তি তৈরি করে পেশার মান উন্নয়ন এবং নৈতিক অবক্ষয় থেকে বীমা পেশাজীবীদের উদ্ধারে সঠিক পদক্ষেপ নেয়া। ছোট বড় কোম্পানি বাছবিচার না করে সবার প্রতি সমান মনোভাব দেখানো। কেউ যেন অযাচিত নির্যাতিত না হন, সেদিকে খেয়াল রাখা। সর্বক্ষেত্রে অফিশিয়াল সহমর্মিতা ও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে শিল্পের উন্নয়নের জন্য সবাইকে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করা। তাহলে অবশ্যই শিল্পের নিয়ন্ত্রণ আসবে। আমাদের মনে হয়, বর্তমানে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের যে টিম রয়েছে, তারা সবাই এ ব্যাপারে অত্যন্ত সজাগ এবং তারা সফল হবেন।
বীমা পেশায় বড় কোম্পানির তুলনায় ছোট কোম্পানিগুলোয় আনুপাতিক হারে বেশি লোক বীমা ব্যবসা সংগ্রহে কাজ করেন। বড় কোম্পানিগুলো সেবায় এবং মানে তৃতীয় প্রজন্মের কোম্পানির তুলনায় অনেক এগিয়ে আছে। তৃতীয় প্রজন্মের কোম্পানিগুলো খুব কষ্ট করে ছোট ছোট অনেক কর্মীর মাধ্যমে ব্যবসা সংগ্রহ করে, যা বড় কোম্পানির ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হয় না। তাই কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতা প্রিমিয়াম আয়ের ১০ শতাংশ দিয়ে তৃতীয় প্রজন্মের কোম্পানির পক্ষে কাজ করে যাওয়া সম্ভব নয়। আবার বড় কোম্পানির জন্য ১০ শতাংশ অনেক টাকা, যা অনৈতিক কাজ করতে সহায়ক হবে। ফলে তৃতীয় প্রজন্মের কোম্পানিগুলোর টিকে থাকা দায়। এক্ষেত্রে ব্যবস্থাপনা ব্যয়ের মতো প্রিমিয়াম আয়ের ভিত্তিতে বেতনের স্লাব করে দেয়া যায় কিনা, তা বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষকে ভেবে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি।
বর্তমানে বাংলাদেশ সড়ক ও পরিবহন সংস্থা এই মর্মে ৩০/০৯/২০২০ ইং তারিখে এক সার্কুলার ইস্যু করেছে যে ‘তৃতীয় পক্ষীয় বীমা ঝুঁকি না থাকলে সংশ্লিষ্ট মোটরযান বা মোটরযানের মালিকের বিরুদ্ধে সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মামলা করার সুযোগ নেই।’ আমরা জানি পুলিশ বীমার জন্য মামলা না করলে কেউ তা করতে আগ্রহী হয় না। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থার সার্কুলারের বলে সব ক্ষেত্রে থার্ড পার্টি বীমা বন্ধ প্রায়।
অনেক কোম্পানিই বিআরটিএ অফিসকে ঘিরে তাদের শাখা বা বুথ দ্বারা বীমার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এ সার্কুলারের ফলে সেসব অফিসে কর্মরত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেকার হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। বিষয়টি জরুরি ভিত্তিতে ভেবে দেখা দরকার।
সম্প্রতি চালুকৃত ‘ইউএমপি’ বীমা শিল্পে স্বচ্ছতার মানদণ্ডে বিরাট ভূমিকা পালন করছে সত্যি। কিন্তু সেই সেবা বীমাগ্রহীতারা সত্যিকারভাবেই পাচ্ছেন কিনা, তার খোঁজখবর নেয়া উচিত। তাছাড়া নন-লাইফ বীমার পলিসির পিরিয়ড হলো এক বছর। তার জন্য কোয়ার্টারলি ইউএমপি চার্জ প্রদান করা যুক্তিসংগত কিনা, তাও ভেবে দেখা দরকার। খরচ নিয়ন্ত্রণ করেই আমাদের শিল্পে আর্থিক সচ্ছলতা আনতে হবে।
বর্তমান পৃথিবীতে শিক্ষা, পরিশ্রম, মেধা, দক্ষতা, প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ইত্যাদির মাধ্যমেই অর্থনীতির চাকা ঘূর্ণায়মান রাখতে হয়। বীমা ব্যবসায় কাউকে বসিয়ে খাওয়ানোর সুযোগ নেই। যার যার ক্ষেত্রে তাকে কাজ করে প্রজ্ঞার পরিচয় দিতে হবে। সবার সার্বিক সহযোগিতার মাধ্যমে বীমা শিল্প এগিয়ে যাবে।
তাই বীমা পেশায় জড়িত আমার বন্ধু-সহকর্মীদের কাছে করজোড়ে আবেদন, আসুন আমরা সবাই নীতি ও নৈতিকতার চর্চা করি। উন্নয়ন কর্মকর্তা ও এজেন্ট এই দ্বৈত সত্তার মাঝে একটি মধ্যম পন্থা বের করে শিল্প রক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করি। এ ব্যাপারে বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ এবং বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত এবং তা পরিপালনে আমাদের নৈতিক সমর্থন বীমা শিল্পকে আমাদের দেশে সর্বাধিক স্বচ্ছতার সঙ্গে এগিয়ে নিয়ে যাবে।
বাংলাদেশের স্বপ্নদ্রষ্টা জাতির জনক এ পেশার লোক ছিলেন। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বীমা পরিবারের সদস্য। ১ মার্চ ২০২০ বীমা দিবসে তিনি কথার ছলে অবসর সময়ে বীমা শিল্পে যোগদানের জন্য আশা ব্যক্ত করেছেন। আমাদের অর্থমন্ত্রী মহোদয়ও হিসাব বিজ্ঞানে, ব্যবসা-বাণিজ্যে, মেধায়, মননে একজন প্রজ্ঞাবান চৌকস ব্যক্তিত্ব। বীমার প্রতি যার ছোটবেলা থেকে পাণ্ডিত্য রয়েছে এবং পরিণত বয়সে সরাসরি বীমা ব্যবসায় জড়িত হয়েছেন। তার সমর্থন ও সহযোগিতা আজ আমাদের বড় বেশি প্রয়োজন।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকীতে আমাদের দেশের বীমা পেশাজীবীরা আর ১০টা দেশের বীমা কর্মজীবীদের মতো নিজ পেশার স্বীকৃতি বর্তমান কর্তৃপক্ষের হাত ধরেই পাবে—এ আশাবাদ রইল।
মীর নাজিম উদ্দিন আহমেদ: ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও
ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোং লি.










