সব কিশলয়
থেকে
মহীরুহ
কালে
কালে
দেশে
দেশে
সচরাচর
হয়
না।
যেখানে
যখন
হয়,
তার
বিস্তৃতি,
বিশালতা
এবং
ছায়া
যেমন
ছড়িয়ে
পড়ে,
তেমনি
জনারণ্যে
সুউচ্চ
বিশালতায়
জনগৌরব
হয়ে
দাঁড়িয়ে
রয়।
জাতি
ও
সমাজে
এমনই
মনুষ্য
মহীরুহ
থাকেন
স্ব-স্ব
ক্ষেত্রের
মহানুভবতায়,
মহার্ঘ্যতায়।
বাংলাদেশের
ভাষা,
সাহিত্য,
শিক্ষা,
গবেষণা
আর
জাতীয়
চেতনার
ক্ষেত্রে
আমাদের
এমনই
আত্মশ্লাঘার
ব্যক্তিত্ব
ছিলেন
জাতীয়
অধ্যাপক
ড.
আনিসুজ্জামান।
বয়স
এবং
প্রতিকূল
পরিস্থিতির
পরম্পরায়
আমরা
হারিয়েছি
এক
মহীরুহ।
প্রচণ্ড
বাত্যাক্ষুব্ধ
প্রক্ষেপে
বুঝি
মাথা
উঁচু
করে
থাকা
গৌরবই
বিধ্বস্ত
হয়।
এটি
প্রকৃতি
আর
কালের
বিধান
হলেও
মেনে
নেয়া,
আত্মস্থ
করা,
শূন্যস্থান
পূরণের
আশু
প্রত্যাশা
করা
দুরাশা
বৈ
আর
কী?
তাঁর জীবনসারণি
অনুসরণে
নয়,
বরং
সামাগ্রিকভাবে
আমাদের
চেতনা
ও
বোধে
তিনি
অধ্যাপক
আনিসুজ্জামান—স্মর্তব্য
তিনি
আন্দোলন,
গবেষণা
শিক্ষা,
সাহিত্য
ক্ষেত্রে
রাখেন
বহুমাত্রিক
পরিচয়।
জীবনাবসান পূর্বেকার
তাঁর
সম্পৃক্তি,
বাংলাদেশ
আন্দোলনে
সুমাত্রিক
ভূমিকা,
বিশেষ
করে
অতঃপর
স্বাধীন
বাংলাদেশের
রূপকল্পে
আনিসুজ্জামানের
অবদান
তাঁকে
আমাদের
কাছে
স্মরণে
ও
বিবেচনায়
অপরিহার্য
করেছে।
মাত্র ১৩
বছর
বয়সে
যে
কিশোরের
গল্প
প্রকাশিত
হয়,
সেই
কিশলয়
যে
কালান্তরে
মহীরুহে
সুপ্রসিদ্ধ
হবে,
তার
প্রতিভা
মূল্যায়নে
গুরুত্ব
না
পাওয়ার
নয়।
পাকিস্তান
রাষ্ট্রে
বাংলা
ভাষা
আর
এই
ভাষী
বৃহত্তর
জনগোষ্ঠীর
ওপর
যখন
কয়েমি
শাসকদের
ভাষা-সাংস্কৃতিক-রাষ্ট্রীয়
আধিপত্যের
আরোপণ
আপতিত
হচ্ছে,
তখনকার
বিক্ষুব্ধ
‘প্রতিরোধ
আন্দোলনের’
বৃহৎ
চলকশক্তি
ছাত্রসমাজের
মধ্যে
এক
বিশেষ
গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকায়
কর্তব্য
পালন
করেন
আনিসুজ্জামান।
১৯৫২-এর
জানুয়ারিতে
গঠিত
‘রাষ্ট্রভাষা
সংগ্রাম
পরিষদের’
আশু
প্রয়োজনীয়তা
হিসেবে
সামনে
আসে—ভাষার
দাবি
আসলে
কী,
পাকিস্তানি
শাসকদের
সামনে
সেই
দাবি
তুলে
ধরার
কারণ
ও
তার
জন্য
সর্বশক্তিমান
বয়ান-বিবৃতি
তুলে
ধরা।
সবে
ম্যাট্রিক
(স্কুল পর্যায়-শেষে
মাধ্যমিক
পরীক্ষা—আজকের
এসএসসি)
পাস
করে
আনিসুজ্জামান
তখন
জগন্নাথ
কলেজে
আইএ
ক্লাসে
অধ্যয়নরত।
তার
ওপরই
অর্পিত
হলো
গুরুদায়িত্ব—সাধারণ
মানুষকে
জানানো-বোঝানোর
জন্য
একটি
পুস্তিকা
রচনার।
আনিসুজ্জামান
রচনা
করলেন
ভাষা
আন্দোলনের
অর্থ,
এক
ঐতিহাসিক
দলিল—‘রাষ্ট্রভাষা
কী
ও
কেন?’
মাধ্যমিক শিক্ষা
পর্যায়ে
কোনো
রাজনৈতিক
দল-মতবাদ
সম্পৃক্তি
হেতু
নয়,
বরং
মুক্তচিন্তা
ও
সামাজিক
ন্যায়বোধ
থেকে
তিনি
সম্পৃক্ত
হয়েছিলেন
অরাজনৈতিক
ছাত্র
সংগঠনের
সঙ্গে।
ক্রমে
আদর্শিক
অনুশীলনী
ও
চর্চার
মাধ্যমে
সংগঠনের
উদ্দেশ্যকে
ধারণ
করেন
এবং
সংগঠনের
আস্থায়
অন্তর্ভুক্ত
হন।
‘ভাষা
আন্দোলনের
উত্তুঙ্গ
পর্যায়ে’
সামনের
সারির
নেতারা
১৪৪
ধারা
ভঙ্গ
করার
সংকল্প
করলেও
আন্দোলনের
কৌশলের
অংশ
হিসেবে
তাদেরকে
আত্মগোপনে
যাওয়ার
সম্ভাবনার
পরিপ্রেক্ষিতে
সংগঠন-কার্যালয়ের
চাবি
গচ্ছিত
থাকে
আনিসুজ্জামানের
কাছে।
উত্তরকালে
যে
তিনি
বাংলাদেশ
আন্দোলনে
গুরুত্বপূর্ণ
দায়িত্বে
নিয়োজিত
হবেন,
সেটাই
তো
স্বাভাবিক।
১৯৭১-এ
মুক্তিযুদ্ধ
শুরু
হলে
ভারতে
শরণার্থী
শিক্ষকদের
সংগঠন
‘বাংলাদেশ
শিক্ষক
সমিতির’
সাধারণ
সম্পাদকের
দায়িত্বপ্রাপ্ত
হন
তিনি
এবং
যুগপৎ
যুদ্ধকালীন
অস্থায়ী
বাংলাদেশ
সরকারের
পরিকল্পনা
কমিশনের
সদস্য
হিসেবে
যোগ
দেন।
গবেষণাকর্ম তাঁর
উচ্চতর
শিক্ষাচর্চার
জীবনের
প্রারম্ভ
ঘটিয়েছিল।
১৯৫৮-তে
বাংলা
একাডেমীর
গবেষণাবৃত্তি
লাভ
করে
ইংরেজ
আমলের
বাংলা
সাহিত্যে
বাঙালি
মুসলমানের
চিন্তাধারা
(১৭৫৭-১৯১৮)
বিষয়ে
পি-এইচ.
ডির
কাজ
শুরু
করা
থেকেই
তাঁর
ভবিষ্যৎ
জীবনের
সারণি
নির্ধারিত
হয়ে
যায়।
১৯৫৯
সালে
পাকিস্তান
কেন্দ্রীয়
সরকারের
গবেষণা
বৃত্তি
লাভ,
১৯৬২
সালে
পি-এইচ.
ডি
ডিগ্রি
লাভ
এবং
১৯৬৫
সালে
শিকাগো
বিশ্ববিদ্যালয়
থেকে
পোস্ট
ডক্টরাল
ডিগ্রি
অর্জন
(উনিশ শতকের
বাংলার
সাংস্কৃতিক
ইতিহাস:
ইয়ং
বেঙ্গল
ও
সমকাল)
সেই
সারণিতে
প্রাগ্রসরতার
পরিণামের
কিছু
ধাপ
মাত্র।
১৯৭৮-১৯৮৩
সময়কালে
জাতিসংঘ
বিশ্ববিদ্যালয়ের
গবেষণা
প্রকল্পে
অংশগ্রহণ
একটি
ধাপ
হিসেবে
গণনা
করলেও
এখানেই
পর্ব
শেষ
নয়,
ড.
আনিসুজ্জামান
সদা-সার্বিকভাবেই
সম্পৃক্ত
ছিলেন
গবেষণামনস্কতায়।
ঋদ্ধ
গবেষণা
তত্ত্বাবধায়কের
পরিচয়ের
সূত্রে
গবেষণামূলক
কোন
কর্মযোগে
কী
করে
অগ্রসর
হওয়া
যায়,
কোন
তথ্যটি
কী
বা
কোথায়
সন্ধান
করা
যায়—এমন
সমস্যায়
তাত্ক্ষণিকভাবে
দিকনির্দেশনা
দেয়ায়
তাঁর
ছিল
অসাধারণ
ক্ষমতা
ও
পারদর্শিতা।
গবেষণা-সন্দর্ভভিত্তিক
একটি
তথ্যসমৃদ্ধ
প্রকাশনা
কেমন
হওয়া
উচিত,
তার
আদর্শ
হতে
পারে
তাঁর
‘মুসলিম
মানস
ও
বাংলা
সাহিত্য’
নামের
আকর
গ্রন্থটি।
বিষয়ের
উপস্থাপনা,
পর্যায়ক্রমে
বিবৃতকরণ,
তথ্য-উপাত্ত
সহযোগে
বিশ্লেষণ
এবং
ক্রমধাপ
অতিক্রমণে
একটি
‘থিসিসে’
উপনীত
কী
করে
হতে
পারেন
গবেষক,
তার
প্রকৃষ্ট
উদাহরণ
হিসেবে
নেয়া
যায়
তাঁর
এই
প্রকাশনাটিকে।
উত্তরকালে
বহু
শিক্ষার্থী
ও
গবেষক
এ
গ্রন্থে
বিধৃত
রূপকল্প
থেকে
উপকৃত
হয়েছেন
এবং
হচ্ছেন।
গবেষণা
কর্মযোগে
তাঁর
গোছানো
কাজের
ধারার
প্রশংসা
করেছেন
বয়োজ্যেষ্ঠ
বিদ্বজ্জনও।
পুরনো
বাংলা
গদ্য
নিয়ে
তাঁর
সুচিন্তনের
শংসা
বচন
তাঁর
গুণগ্রাহীর
কাছে
থেকে
পাওয়া
যায়
(দেখুন মোহাম্মদ
আজম,
বণিক
বার্তা,
১৭
মে
২০২০)।
‘আঠারো
শতকের
বাংলা
চিঠি’
নামের
গ্রন্থে
তিনি
যা
দিয়েছেন,
তার
প্রাক-কর্মযোগের
দালিলিক
প্রমাণ
(Factory Correspondence and other Bengali Documents in the India
Official Library and Records) দেখার
সুযোগ
হয়েছিল
আমার
ইন্ডিয়া
অফিস
লাইব্রেরিতে।
বিশাল
গ্রন্থ
সংগ্রহশালায়
দীর্ঘকাল
অবহেলায়
পড়ে
থাকা,
ইস্ট
ইন্ডিয়া
কোম্পানির
আমলের
তাঁত
শিল্পসংক্রান্ত
পত্ররাশি
ও
বাংলায়
লেখা
দস্তাবেজকে
তিনি
সুশৃঙ্খলভাবে
তালিকাবদ্ধ
করে
দেন।
দেখা
যায়,
ইস্ট
ইন্ডিয়া
কোম্পানির
ঢাকাস্থ
আবাসিক
বাণিজ্যিক
কর্মকর্তা
ছিলেন
জন
টেলর।
ঢাকা
অঞ্চল
তখন
জগদ্বিখ্যাত
অত্যন্ত
উন্নত
মানের
মসলিনের
জন্য।
আঠারো
শতকের
শেষ
ভাগ
ছাড়িয়ে
কিছু
সময়
(১৭৭৪-১৮১৪)
কালের
ঢাকার
তাঁত
শিল্পের
ওপর
জন
টেলর
অনুপুঙ্খ
প্রতিবেদন
রেখেছিলেন।
দেখা
গেছে
এগুলোর
তিনটি
প্রধান
শ্রেণী
(ক্যাটাগরি) রয়েছে।
সবচেয়ে
গুরুত্বপূর্ণ
মনে
হয়েছে
কোম্পানির
ঢাকাস্থ
বাণিজ্যিক
আবাসিক
প্রতিনিধি
এবং
যেসব
বাঙালি
কর্মচারী
দায়িত্বে
ছিলেন,
তাঁত
বস্ত্র
তৈরির
আদেশ
দেয়া
এবং
সরবরাহের
পর
ইউরোপে
রফতানির,
তাঁদের
মধ্যকার
পত্রাপত্রির
নমুনা।
দ্বিতীয়
রকমটি
হলো
ঢাকা,
সেই
সঙ্গে
উত্তরবঙ্গের
কারখানার
হিসাব
বিবরণী।
তৃতীয়
রকমে
ছিল
বিবিধ
কাগজপত্র—কিছু
বেচাবিক্রির
হিসাব,
আদায়কৃত
করের
টাকার
হিসাব।
ক্যাটালগকৃত
প্রত্যেক
পৃথক
আইটেম
সংক্ষেপে
বর্ণিত,
সঙ্গে
রয়েছে
টোকা।
ড.
আনিসুজ্জামান
একটা
সংহত
ও
মূল্যবান
ভূমিকা
লিখেছেন,
দিয়েছেন
নির্বাচিত
বাংলা
পাণ্ডুলিপির
তালিকা
ও
অনুবাদ,
পারিভাষিক
শব্দাবলি
এবং
পাণ্ডুলিপিতে
উল্লিখিত
কর্মকর্তাদের
নাম।
এই
অসাধারণ
ঐতিহাসিক
গবেষণা
তথ্য-উৎস
থেকে
যেকোনো
আগ্রহী
সুচারুরূপে
তত্কালীন
ভাষা
ব্যবহার
ও
অর্থনৈতিক
ইতিহাসের
চিত্র
তুলে
আনতে
পারবেন।
বাংলাদেশ সংবিধান
চূড়ান্তকরণে
ভাষা
প্রকৌশলী
আনিসুজ্জামানের
এক
ঐতিহাসিক
অবদান
রয়েছে।
১৯৭২-এর
ফেব্রুয়ারিতে
বাংলাদেশের
প্রথম
সংবিধানের
খসড়া
ইংরেজিতে
প্রণয়ন
করেন
আন্তর্জাতিক
খ্যাতিসম্পন্ন
আইনজ্ঞ
ড.
কামাল
হোসেন।
সংসদ
নির্ধারিত
সংবিধানের
খসড়া
প্রণয়ন
কমিটির
সভাপতি
ছিলেন
তিনি।
ড.
আনিসুজ্জামান
যদিও
সেই
কমিটির
সদস্য
ছিলেন
না,
কিন্তু
ড.
কামাল
হোসেন
তাঁকে
অনুরোধ
করেন
বাংলায়
একটি
উপযুক্ত
খসড়া
প্রস্তুত
করার
দায়িত্ব
গ্রহণের
জন্য।
ড.
আনিসুজ্জামান
তাঁর
ভাষা
ও
সাহিত্যের
অভিজ্ঞতা
নিয়ে
অরাজনৈতিক
মানসে
সে
কাজে
আত্মনিয়োগ
করেন।
অনুবাদের
আইনি
গ্রহণযোগ্যতার
ত্রুটিহীনতার
জন্য
তিনি
সর্বদা
অনুভব
করেছেন
কর্ম-দলের
প্রাতিষ্ঠানিক
স্বীকৃতি
লাভের
কথা।
তিনি
যখন
এ
বিষয়টি
খসড়া
প্রণয়ন
কমিটির
কাছে
উত্থাপন
করেন,
তখন
ড.
কামাল
হোসেন
খসড়া
প্রণয়ন
কমিটির
অনুমোদন
লাভের
পর
গঠন
করেন
ভাষা
বিশেষজ্ঞ
কমিটি।
ড.
আনিসুজ্জামানকে
করা
হলো
সেই
কমিটির
আহ্বায়ক—ভাষাতাত্ত্বিক
উত্কর্ষ
ও
ভাষিক
সাদৃশ্য
পর্যবেক্ষণের
জন্য,
ভাষা
বিশেষজ্ঞ
হিসেবে
থাকলেন
জাহাঙ্গীরনগর
বিশ্ববিদ্যালয়ের
উপাচার্য
কবি
ও
বাংলার
বিশিষ্ট
অধ্যাপক
সৈয়দ
আলী
আহসান
এবং
বাংলা
একাডেমীর
তদানীন্তন
মহাপরিচালক
অধ্যাপক
মাজহারুল
ইসলাম।
ড.
আনিসুজ্জামান
যে
খসড়াটি
দাঁড়
করান,
তা-ই
পরবর্তীক্রমে
সংবিধিবদ্ধ
পাঠ
হিসেবে
গৃহীত
হয়
৪
নভেম্বর,
১৯৭২
সালে।
এভাবেই
প্রফেসর
আনিসুজ্জামানের
নাম
ও
অবদান
বাংলাদেশের
মৌলিক
দলিলের
আলোচনার
ক্ষেত্রে
ঐতিহাসিকভাবে
উল্লিখিত।
সংবিধানের বাংলা
ভাষ্যের
গুরুত্ব
রয়েছে।
সংসদ
নির্ধারিত
বিধানে
সেখানে
সুনিশ্চিত
করা
হয়েছে
যে
সংবিধানের
কোনো
ধারা
বা
অংশবিশেষের
মর্মার্থ
ও
ব্যাখ্যায়
অস্পষ্টতা
দেখা
দিলে
তার
বাংলা
ভাষ্যটি
ইংরেজির
ওপর
প্রাধান্য
পাবে
[...বাংলা ও
ইংরেজি
পাঠের
মধ্যে
বিরোধের
ক্ষেত্রে
বাংলা
পাঠ
প্রাধান্য
পাইবে।’
—বিবিধ
শিরোনাম,
১১শ
ভাগ,
১৫৩
অনুচ্ছেদ]
সংবিধিবদ্ধ রাষ্ট্রীয়
দলিলাদির
বাংলা
ভাষ্য
রচনা
সাহিত্যিক
বা
ফিচারজাতীয়
রচনার
অনুবাদের
মতো
সহজসাধ্য
আনন্দদায়ী
কর্মযোগ
নয়।
প্রসঙ্গত,
স্মরণ
করি
সেই
উনিশ
শতকের
বাংলা
গদ্যের
গঠমান
যুগে
ইংরেজ
রাজ্য
শাসনের
প্রয়োজনে
ইংরেজি
আইনের
বঙ্গানুবাদ
প্রচেষ্টা
হয়েছে।
কেননা
রাজকার্যে
আইনকানুনের
বাংলা
অনুবাদই
প্রথম
প্রয়োজন
হয়ে
পড়েছিল
ইংরেজ
শাসকদের।
[উদাহরণ: ফরস্টারের
কর্নওয়ালীসি
কোড-১৭৯৩]।
সেগুলো
ছিল
বাংলা
বিভাষীদের
প্রচেষ্টা—যারা
বাংলা
ভাষার
বাচ্যার্থ
ও
মেজাজ
অনুধাবনে
সক্ষম
ছিলেন
না,
তাই
সার্থক
হয়নি
অনুবাদ।
ভাষা প্রকৌশলে
অভিজ্ঞ
ব্যক্তি
জানেন
যে
অনুবাদকর্মটি
বিশ্বব্রহ্মাণ্ডের
দুরূহতম
কর্মযোগের
মধ্যে
অন্যতম
[‘Translation probably is the most complex type of event yet
produced in the evolution of the cosmos.’ – I.A.Richard, 1953.] আর
বিশেষ
করে
তা
যদি
হয়
আইনি
পাঠ,
তবে
সমস্যা
হয়ে
ওঠে
দ্বিধারিক—একদিকে
মূলানুগ
বাচ্যার্থের
মৌলিকত্ব
ও
বিশ্বস্ততা
রক্ষা
করা
এবং
অন্যদিকে
উপযুক্ত
পারিভাষিক
শব্দের
ব্যবহার।
ভারতবর্ষে
বহুল
পরিচিত
আইনি-আকবরির
সর্বৈব
সন্তোষজনক
অনুবাদ
[Sir Syed Ahmad Khan (1855), Heinrich Blochmann (1873), Col.
Henry Sullivan Jarrett (1891)] কি অদ্যাবধি
আলোচনার
ঊর্ধ্বে
রয়েছে?
উচ্চ
আদালতের
নির্দেশ
সত্ত্বেও
কি
এ
দেশে
বিচারের
সব
কাজ
বাংলায়
হতে
পারছে?
অসুবিধা
বা
বাধা
মূলত
এক
জায়গায়:
আইনি
ভাষার
বাংলা
রূপ
নির্ধারণ।
বাংলাদেশের
সংবিধানের
যথার্থ
বাংলা
ভাষ্য
প্রণয়ন
(রূপান্তর বা
অনুবাদ
যা-ই
বলা
হোক
না
কেন)
সে
বিবেচনায়
প্রথম
যুগান্তরী
নিদর্শন।
‘গণপ্রজাতন্ত্রী
বাংলাদেশের
সংবিধান’
এক
ধ্রুপদী
সর্বোচ্চ
আইনি
দলিল।
এর
মোক্ষম
বাক্যটি
স্বাধীন
বাংলাদেশের
আকাঙ্ক্ষার
দিকনির্দেশনা
প্রকাশ
করে
মাত্র
তিনটি
শব্দে—‘প্রজাতন্ত্রের
রাষ্ট্রভাষা
বাংলা।’
(‘প্রজাতন্ত্র’
শিরোনমের
তৃতীয়
অনুচ্ছেদ)।
অথচ
ইংরেজিতে
এ
কথাটিই
আটটি
শব্দে
বিধৃত:
[The state language of the Republic is Bangla.]
ড. আনিসুজ্জামান
এই
গুরুগম্ভীর
দলিলটির
অনুবাদ
সম্পন্ন
করেন
সিদ্ধহস্তে।
সার্বিক
ভাষাতাত্ত্বিক
পর্যবেক্ষণে
পূর্বোক্ত
দুই
বয়োজ্যেষ্ঠ
ছাড়াও
অনুলিখন
কর্মে
সহায়তায়
ছিলেন
পাকিস্তান
পার্লামেন্টের
বাংলা-উর্দু-বাংলা
অনুবাদ
খ্যাত
নিয়মল
বছির।
ড. আনিসুজ্জামানকৃত
সংবিধানের
খসড়াটি
৪
নভেম্বর
১৯৭২-এ
সংসদে
গৃহীত
হওয়ার
পর
বিজয়
দিবস
১৬
ডিসেম্বর
থেকে
বলবৎ
হয়।
এভাবেই
প্রতিষ্ঠালগ্নেই
বাংলাদেশের
সংবিধান
রূপ
পেল
রাষ্ট্রভাষা
বাংলাতেই
এবং
বাংলা
ও
ইংরেজি
পাঠের
মধ্যে
বাংলা
পাঠের
প্রাধান্যও।
কিন্তু
বিভিন্ন
সময়ে,
বিবিধ
পরিস্থিতিতে
১৬
বারের
সংশোধনীর
ফলে
আনিসুজ্জামানকৃত
মূল
বাংলা
রূপটি
এতে
আর
বজায়
নেই।
সচেতনভাবে
এমন
পরিবর্তনের
ফলে
ক্ষেত্রবিশেষে
এই
সংবিধানের
ভাষা
ত্রুটিযুক্ত,
দুর্বোধ্য,
দ্ব্যর্থবোধক,
কখনো
বাক্য
দুর্বল-জটিল
(ড. আবুল
বারাকাত)।
এমন
পরিণতি
ড.
আনিসুজ্জামানের
কৃতকর্মের
উদ্দিষ্ট
ছিল
না।
তবে
সংবিধানের
ভাষা
ঝরঝরে
সুখপাঠ্য
ও
সর্বজনবোধ্য,
এমনটি
পৃথিবীর
ইতিহাসে
বিরল।
যেখানে
অনুবাদকের
স্বাধীনতা
আইনের
নিগড়ে
বাঁধা,
সেখানে
প্রাঞ্জলতা
আনা
এক
দুরূহ
কর্মযোগ।
অতএব,
ঝরঝরে
আইনি
অনুুবাদ
এক
প্রতিবোধের
নামান্তর।
কেননা
আইনের
দালিলিক
ভাষার
খুঁটিনাটি
বোধ
শুধু
জ্ঞাতজনেই
সম্ভবে।
এমন
দলিলাদির
ভাষার
বাক্যবিন্যাস
এবং
সুদীর্ঘ
বাক্যে
ধৃত
অন্বয়
এক
শাস্ত্রীয়
বৈশিষ্ট্য।
তাকে
যথাযথভাবে
লিপিবদ্ধ
করা
সুদক্ষ
ভাষা
প্রকৌশলীর
পক্ষেই
সম্ভব।
ভারসাম্যপূর্ণ
গুরুগাম্ভীর্যের
ওজস্বী
বাক্যরাশিতে
সেরূপ
অনুবাদই
তিনি
করে
দিয়েছিলেন।
সংবিধানের
ইংরেজি
পাঠের
অনেক
বাক্য
দীর্ঘ
ও
সুদীর্ঘ।
এই
দুই
দূরবর্তী
ভাষার
বাক্য
গঠন
রীতি
ও
বিন্যাসে
সামঞ্জস্য
আনা
এক
যৌগিক
ক্রিয়াবিশেষ।
তাই
অনুবাদে
তিনি
এটুকু
ব্যত্যয়
গ্রহণ
করেন
যে
বক্তব্যকে
বাংলায়
সুস্পষ্ট
করার
জন্য
তাকে
একাধিক
ছোট
বাক্যে
উপস্থাপন
করেছেন।
অনুবাদের ক্ষেত্রে
পারিভাষিক
শব্দ
নির্বাচন
ও
তার
উপযুক্ত
ব্যবহার
একটি
গুরুত্বপূর্ণ
বিবেচ্য,
আইনি
দলিলের
ক্ষেত্রে
তা
অধিকতর
গুরুতর—সেখানে
একটি
শব্দের
অযথার্থ
প্রয়োগ
বিস্তর
পার্থক্য
ও
সংশ্লেষের
কারণ
হতে
পারে।
আইনবিশারদের
কাছে
যে
মানদণ্ড,
ভাষা
প্রকৌশলীর
সঙ্গে
তার
সাজুয্য
না-ও
হতে
পারে।
এমন
এক
পারিভাষিক
শব্দের
ব্যবহার
নিয়ে
তদানীন্তন
প্রধান
বিচারপতি
আবু
সাদাত
মোহাম্মদ
সায়েমের
সঙ্গে
ড.
আনিসুজ্জামানের
মতপার্থক্য
সৃষ্টি
হয়। Justice-এর
প্রতিশব্দ
হিসেবে
ড.
আনিসুজ্জামান
লেখেন
‘বিচারপতি’
এবং
Judge-এর
জন্য
‘বিচারক’।
প্রধান
বিচারপতি
চাইছিলেন
সুপ্রিম
কোর্টসহ
বিচারালয়ের
সবাইকে
(হাইকোর্ট ডিভিশন
এবং
এপিলেট
ডিভিশনের
সব
বিচারককে)
Justice
হিসেবে
অভিহিত
করা
হোক।
কিন্তু
ড.
আনিসুজ্জমানের
মতে,
Justice-Judge
পারিভাষিক
শব্দ
দুটির
ভাষাগত
পার্থক্যের
জন্য
ভিন্ন
দুইভাবে
ব্যবহার
করা
উচিত।
ভাষিক
বিবেচনায়
ড.
আনিসুজ্জামানকে
অধিকতর
যুক্তিযুক্ত
মনে
করা
যায়।
তাই
শুধু
প্রধান
বিচারপতির
জন্য
Justice অভিধাটি
সংবিধানে
নির্ধারিত।
অনুবাদবিদ্যার মুরুব্বিরা
অবশ্য
গুরুত্বারোপ
করেন
সমতাভিত্তিক
চতুর্ধা
প্রয়োজনীয়তার
ওপর:
সমানানুভব,
মূলের
মর্ম
সঞ্চালন,
স্বাভাবিক
এবং
সহজ
প্রকাশ
ভঙ্গি
ও
এমন
পাঠ,
যা
মূলের
অভিন্নরূপ
সাড়া
ফেলবে।
কিন্তু
আইনি
দলিলের
অনুবাদে
শেষোক্তটি
ব্যতীত
অন্যগুলোর
গুরুত্ব
বেশি
নয়।
দ্ব্যর্থবোধকতাহীন,
স্বচ্ছ
ভাষা—যাতে
যা
বোঝানো
হবে
শুধু
তা-ই
বোঝাবে—এমন
হতে
হবে।
ড.
আনিসুজ্জামান
বিশ্বস্ত
থাকতে
চেয়েছেন
‘সমতার’
প্রতি।
কিন্তু
তার
মধ্যে
আছে
ভাষা
কারুশিল্পীর
যত্ন
ও
আত্মনিয়োগ।
ভাষা
বিবরণীতে
স্বচ্ছতা
রক্ষা
অনুরূপ
ক্ষেত্রে
একটি
চ্যালেঞ্জ
হয়ে
থাকে।
এখানে
সাধু
ভাষা
আইনের
গাম্ভীর্য,
সুচিন্তন
এবং
আবেষ্টন
যথার্থই
ধারণ
করেছে।
ক্ষেত্রবিশেষে যদিও
অনূদিত
(অনুবাদিত) কোনো
কোনো
অংশের
আরো
ভালো
বিকল্প
ভাষারূপ
আজকের
দিনে
উপস্থাপন
করা
যায়,
তবু
মানতেই
হবে
যে
৪৮
বছর
আগের
বাংলা
ভাষার
তেমন
প্রসারতা
ঘটেনি।
তদ্বিচারে
ড.
আনিসুজ্জামানের
অনুবাদকে
অনবদ্য
বলতেই
হয়।
পরবর্তী পর্যায়েও
তিনি
প্রায়ই
লিখতেন
সাংবিধানিক
আইন
নিয়ে,
বিশেষ
করে
সংবিধানের
মৌলিক
নীতি
নিয়ে—যেমন
ধর্মনিরপেক্ষতা,
অসাম্প্রদায়িকতা,
আমাদের
মুক্তিযুদ্ধের
ইতিহাস
প্রসঙ্গে।
পেছনে
ফিরে
তাকিয়ে
দেখা
যায়,
পাকিস্তান
সরকার
রবীন্দ্রসংগীতের
ওপর
নিয়ন্ত্রণের
চেষ্টা
করলে
তার
প্রতিবাদ
তিনি
করেছেন,
স্বৈরাচারী
সরকারের
নীতি
ও
কার্যকলাপেরও
বিরোধিতা
করেছেন।
তাঁর ব্যক্তিক
জীবনভাবনা
নিয়ে
মতপার্থক্য
কারো
হয়তো
থাকতে
পারে,
কিন্তু
মানতেই
হবে
বাংলা
ভাষা-সাহিত্য
ও
বাংলাদেশের
প্রেক্ষাপটে
অধ্যাপক
ড.
আনিসুজ্জামান
আমাদের
ইতিহাস-ঐতিহ্যের
অংশ
হয়েই
থাকবেন।
মহাম্মদ দানীউল হক: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের
বাংলা
বিভাগের
সাবেক অধ্যাপক










