মনে আছে সেলবাজার ডটকমের কথা?

২০০৬ সালের প্রথমার্ধে এ দেশে প্রথমবারের মতো এই প্লাটফর্ম মোবাইলের এসএমএসের মাধ্যমে সেকেন্ড হ্যান্ড দৈনন্দিন বা নিত্যব্যবহার্য পণ্য বিক্রি করার আইডিয়া নিয়ে অনলাইনে আত্মপ্রকাশ করেছিল।

সে সময়ের নিরিখে কামাল কাদির সাহেবের সেই সেলবাজারের আইডিয়াটা খুবই ইউনিক, ক্রিয়েটিভ ও ইনোভেটিভ ছিল। তিনি মূলত তার সেলবাজারের মাধ্যমেই বাংলাদেশে পরিচিতি লাভ করেন।

কামাল কাদির হচ্ছেন বিশিষ্ট উদ্যোক্তা, তার হাত ধরেই বিকাশ লিমিটেড গড়ে ওঠে এবং তিনি বর্তমানে বিকাশের সিইও। ছোটবেলা থেকেই তার ইচ্ছে ছিল বাংলাদেশে একটা অনলাইন সেবাভিত্তিক খাত গড়ে তুলবেন। এমআইটি থেকে এমবিএ করা তার একাডেমিক ও প্রফেশনাল ক্যারিয়ার অত্যন্ত বর্ণাঢ্য! সেলবাজারের আঁতুড়ঘর হচ্ছে এমআইটি মিডিয়া ল্যাব। সেলবাজারকেই পরবর্তীতে এখানেই ডটকম-এ রূপান্তর করা হয়।

সাইট চালু করার পরই এটি দেশে তুমুল জনপ্রিয়তা লাভ করে। ২০১৫ সালের আগষ্ট পর্যন্ত এলেক্সা র্যাংকিংয়ে এটি ছিলে বাংলাদেশের টপ শপিং সাইট। আর বিজনেস ও ইকোনমি সাইটে পঞ্চম।

একের পর এক মালিকানা বদল হওয়ার গল্প

এটি বেশ কয়েকবার মালিকানা বদল করে। চালু করার কিছুকাল পরেই কাদের সাহেবের সঙ্গে পার্টনারশিপ গড়ে দেশের টেলকো জায়ান্ট গ্রামীণফোন লিমিটেড। এর নাম হয় ‘গ্রামীণফোন সেলবাজার’, আর জিপির হাত ধরেই যাত্রা শুরুর পরবর্তী দুই বছরে ২০০৭ ও ২০০৮ সালে সেলবাজার জিতে নেয় দুটি আন্তর্জাতিক পুরস্কার। যথাক্রমে ‘টেক অ্যাওয়ার্ড (ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট ক্যাটাগরিতে)’, আর ‘জিএসএম গ্লোবাল মোবাইল অ্যাওয়ার্ড (বেস্ট ইউজ অব মোবাইল ফর সোস্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট) ক্যাটাগরিতে’।

পরবর্তী সময়ে ২০১০ সালে সেলবাজারকে কিনে নেয় জিপির প্যারেন্ট নরওয়েইজিয়ান মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি ‘টেলিনর এএসএ’। সে বছরই কামাল কাদির সাহেব সেলবাজারের সিইও পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে নিজের আরেকটি সফল উদ্যোগ বিকাশ লিমিটেডে জয়েন করেন। সে সময় সেলবাজারের ইউজার ছিল ৪০ লাখেরও বেশি। পরবর্তী সময়ে ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সাবেক গুগল কর্মকর্তা শৈলেন্দ্র নাথানকে এখানেই ডটকমের সিইও পদে নিয়োগ দেয়া হয়, যিনি কিনা ২০১৭ সালে কোম্পানি বন্ধ হওয়া পর্যন্ত ওই পদে থাকেন।

যেহেতু এর মালিক ছিল জিপি ও পরবর্তীতে টেলিনর, সেহেতু ২০১১-১৩ পর্যন্ত এটি শুধু জিপি সিম ব্যবহারকারীদের জন্য ভ্যালু অ্যাডেড সেবা হিসেবে ব্যবহূত হয়েছে। এর এক বছর পর ২০১৪ সালের জুনে নরওয়ের কোম্পানি স্কিবস্টেড (Schibsted) এটিকে টেকওভার করে। সে সময় টেলিনরের শেয়ার থাকে মাত্র ৩৩ দশমিক ৩ শতাংশ। কারণ টেলিনর, ন্যাসপার আর স্কিবস্টেড—এই তিনটা কোম্পানি সেলবাজারকে সমান তিন ভাগে কিনে নিয়েছিল। সে সময়ে এখানেই ডটকম-এর অভ্যন্তরীণ কর্মী ছিল প্রায় ৭০ জন। আর বন্ধ হওয়ার বছরে প্রতি সপ্তাহে অ্যাড পোস্টের সংখ্যা ছিল ১০-১২ হাজার।

পুরনোকে ঝেড়ে ফেলে নতুন ব্র্যান্ডিং

স্কিবস্টেড টেকওভার করার পর একে ঢালাওভাবে রিব্র্যান্ডিং করা হয় ‘এখানেই ডটকম’ নামে। তবে কী ধরনের সেবা অফার করা হচ্ছে নতুন নামে সেটা বোঝার কোনো উপায় রাখা হয়নি। তার ওপর সে সময় বাজারে এখনই ডটকম নামে একটি ই-কমার্স সাইট ছিল, যেটা পরে বাগডুম ডটকম-এ পরিণত হয়। সুতরাং এত কনফিউজিং নামে রিব্র্যান্ডিং করাটা নিঃসন্দেহে এখানেই ডটকম-এর জন্য আত্মঘাতী ছিল।

এর পতনটি বাংলাদেশের ক্লাসিফায়েড মার্কেটপ্লেসের ইতিহাসে একটি ট্র্যাজিক অ্যাকসিডেন্ট। কারণ সেলবাজার ডটকম ছিল দেশের দ্বিতীয় অনলাইন মার্কেটপ্লেস (প্রথমটি ছিল ‘ক্লিক বিডি ডটকম’)। সেলবাজারের মালিক ছিল জিপি-টেলিনরের মতো প্রচণ্ড শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ কোম্পানি, ব্যবসায় হারার রেকর্ড যাদের খুবই কম, তদুপরি যথেস্ট সময়, মানবসম্পদ, ফিন্যান্সিয়াল রিসোর্স, অবকাঠামো, তুখোড় বিজনেস ও মার্কেটিং টিম ইত্যাদি পাওয়ার পরও কেন শেষ রক্ষা হলো না এখানেই ডটকম-এর?

অনেকেই বলেছেন, নতুন নামটা কোনো সেন্স মেইক করে না। তার ওপর সে সময় অলরেডি ‘এখনই ডটকম’ নামে একটা ই-কমার্স সাইট ছিল, যেটা পরে বাগডুম ডটকমে পরিণত হয়। সুতরাং এত কনফিউজিং নামে রিব্র্যান্ডিং করাটা নিঃসন্দেহে তাদের জন্য আত্মঘাতী ছিল।

বিজ্ঞজনদের মতে, রিব্র্যান্ডিংয়ের পর থেকেই শুরু হয় এর অধঃপতন!

এখানেই ডটকমের পতনটি বাংলাদেশের ক্লাসিফায়েড মার্কেটপ্লেসের ইতিহাসে একটা ট্র্যাজিক অ্যাক্সিডেন্ট।

এটি ট্র্যাজিক অ্যাক্সিডেন্ট, তার কারণ সেলবাজার ডটকম ছিল দেশের দ্বিতীয় অনলাইন মার্কেট প্লেস (প্রথমটি ছিল ‘ক্লিক বিডি’)। সেলবাজারের মালিক ছিল জিপি-টেলিনরের মতো প্রচণ্ড শক্তিশালী ও অভিজ্ঞ কোম্পানি, ব্যবসায় হারার রেকর্ড যাদের খুবই কম। সেই সঙ্গে তারা যথেষ্ট সময়, হিউম্যান রিসোর্স, ফিন্যান্সিয়াল রিসোর্স, হিউম্যান রিসোর্স, ইনফ্রাস্ট্রাকচার, তুখোড় বিজনেস ও মার্কেটিং টিম ইত্যাদি পাওয়ার পরেও দিন শেষে সার্ভিসটির শেষ রক্ষা হলো না। এ কোম্পানির পরিণতি প্রমাণ করে দিয়েছে যে আকাশচুম্বী সুযোগ-সুবিধা থাকার পরেও একটি উদ্যোগ ভেস্তে যেতে পারে সে ফ এক্সিকিউশনের ভুলের দোষে।

এখানেই ডটকমের ক্যাম্পেইন স্ট্র্যাটেজি

কয়েকটি বিষয় ও ইউনিক সেলিং প্রপোজিশন বা ইউএসপিকে ফোকাস করে এর ক্যাম্পেইন ডিজাইন করা হয়। তাদের ভিজুয়াল, কপি, সোস্যাল মিডিয়া, জিডিএন—সব জায়গার কমিউনিকেশন সে অনুযায়ীই ডিজাইন করা হতো। যেমন—

১. বিনা মূল্যে বিজ্ঞাপন: বিজ্ঞাপন দিতে কোনো টাকা-পয়সা লাগবে না, একেবারে শুরুর দিকে এটা প্রচার করত তারা।

২. বিজ্ঞাপন পোস্ট করার নিরাপদ প্লাটফর্ম: লোকে তখন অপরিচিত মানুষজনের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে পণ্য বেচাকেনা করতে নিরাপত্তার ব্যাপারে কনসার্ন ছিল। এ কারণে তারা নিরাপদ শব্দটা যোগ করে কমিউনিকেশন দাঁড় করিয়েছিল। এটাকে সাপোর্ট দেয়ার জন্য তারা Varified Profile, user safety, ম্যানুয়ালি নাম্বার ভেরিফাই করা, ইত্যাদি সুবিধাও কমিউনিকেট করতে শুরু করল।

৩. Fastest way to buy and sell your products: এরপর যখন বিক্রয় ডটকম আর ফেসবুক গ্রুপের সঙ্গে প্রতিযোগিতা বাড়ল, তখন এই ইউএসপির মাধ্যমে তারা তাদের টিজিকে এ রকম প্রতিশ্রুতি দেয়া শুরু করল যে অন্য জায়গায়ও অ্যাড দেয়া যায়, তবে তাদের প্লাটফর্মে অ্যাড দিলে জিনিসপত্র দ্রুত কেনাবেচা হয়।

৪. তাদের একাধিক ভিডিও কমার্শিয়াল আর ক্যাম্পেইন ট্যাগ লাইন ছিল: ‘অপ্রয়োজনীয় জিনিস না জমিয়ে টাকা জমান’, ‘যেকোনো কিছুই বিক্রি করে দিতে পারবেন’ ইত্যাদি। এসবের মূল থিম ছিল—turn anything into money!

৫. গাড়ির স্টিকার: কোনো ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন হিসেবে ঢাকা শহরে সেলবাজারই প্রথম গাড়ির স্টিকারে প্রবর্তন করে। এর পর থেকেই এ ট্রেন্ডটি দ্রুত জনপ্রিয়তা লাভ করে অন্যান্য অনলাইন সেবাদাতা ওয়েবসাইটের মধ্যেও।

৬. কোরবানি পশুর সঙ্গে অ্যাপ্লায়েন্স: ২০১২ সালের অক্টোবরে বাংলাদেশে যাত্রা করে এখানেই ডটকমের প্রধান প্রতিযোগী বিক্রয় ডটকম, তারা ২০১৫-তে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো কোরবানি পশু বিক্রি শুরু করে। এরপর ২০১৬-তে এখানেই ডটকমও একই কাজ শুরু করে, তবে তারা পশুর সঙ্গে সঙ্গে ইলেকট্রিক হাউজ হোল্ড অ্যাপ্লায়েন্সের ক্যাম্পেইন লঞ্চ করে (কারণ কোরবানি ঈদে ফ্রিজ/ওভেন/বিবিকিউ গ্রিল এসবের বিক্রি বেড়ে যায়) ‘কোরবানির সবকিছু এখানেই’ শিরোনামে।

৭. নীতিগত সেবাদান: নীতিগত চর্চার দিক থেকে বিক্রয় ডটকম-এর চেয়ে এগিয়ে ছিল এখানেই ডটকম। ব্যবহূত মেডিকেল সরঞ্জাম, বেআইনি বস্তু, ইলেকট্রিক সিগারেট, দুর্লভ প্রাণী (যা বিক্রি করা সরকারিভাবে দণ্ডনীয় অপরাধ ছিল), সেক্স টয়—এ ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়া পুরোপুরি নিষিদ্ধ ছিল এবং এখানেই ডটকমের বিশাল মডারেশন টিম এসব অ্যাডকে কড়াকড়িভাবে মডারেট করত। অথচ বিক্রয় ডটকমে ওই ধরনের পণ্যের বিজ্ঞাপন দেয়ার ব্যাপারে কোনো বিধিনিষেধ ছিল না। এমনকি তাদের বিরুদ্ধে চোরাই মোটরবাইক বিক্রি করারও অসংখ্য অভিযোগ ছিল।

৮. টিভিসি-ওভিসির ঘনঘটা: ওই বছরই অর্থাৎ ২০১৪ সালে দেশের প্রথিতযশা অ্যাড ফার্ম এশিয়াটিক (জেডব্লিউটি) দিয়ে বেশ কয়েকটি টিভিসি-ওভিসি বানিয়ে বিভিন্ন টিভি চ্যানেল (শুধু টিভিসি) আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হয়, আর তার অডিও ভার্সন প্রচার করা হয় দেশের জনপ্রিয় রেডিও শোগুলোয়ও!

এশিয়াটিক যতগুলো ভিডিও কমার্শিয়াল বানায় এখানেই ডটকমের জন্য, তার মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় হয় প্রতীক-ইয়াশনার টিভিসিগুলো। টিভিসিগুলোয় ডিরেকশন দেন মোস্তফা সারোয়ার ফারুকি, আর এতে অভিনয় করেন জনপ্রিয় অভিনেতা ও এশিয়াটিকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ইরেশ জাকের এবং মডেল মারিয়া নূর। সে সময় টিভি বিনোদনের জগতে রীতিমতো একটা হাইপ তৈরি করেছিল তাদের টিভিসি সিকুয়েলটা। আলাদা জিংগেল, আলাদা গান, আলাদা থিম—সবকিছু এখানেই ডটকম-এর জন্য আলাদা করে বানানো হয়েছিল। খুব সম্ভবত বাংলাদেশের ইতিহাসে আর কোনো ক্লাসিফায়েড অ্যাড প্লাটফর্মের টিভিসি এত তুমুল জনপ্রিয়তা পায়নি।

এখানেই ডটকমের সব টিভিসি-ওভিসি

১. এবার তোর কী হবে রে প্রতীক? (টিভিসি) ২. কছ কি মমিন (টিভিসি) ৩. লিফট লাগবে (টিভিসি) ৪. Prodigal Son (টিভিসি) ৫. Looking for Real Bikes? (ওভিসি) ৬. হাতের কাছে টাকা, কেন ফেলে রাখা? (ওভিসি) ৭. বেচে দাও ভালো দামে, এখানেই ডটকমে (ওভিসি, পুরোটা ছড়ার মতো ছন্দে ছন্দে জিংগেল) ও ৮. একুশে ফেব্রুয়ারি (ওভিসি)

একই বছরে তত্কালীন আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী OLX.com-এর সঙ্গে এটিকে মার্জ করা হয়, যার প্যারেন্ট কোম্পানি NASPERS-এর এক-তৃতীয়াংশ শেয়ার ছিল এখানেই ডটকমে। এ কারণে ওএলএক্সের সাউথ আফ্রিকান টিভিসিকে লোকালি অ্যাডপ্ট করেও এশিয়াটিক দুটি ওভিসি বানায়। এর একটার ক্যাম্পেইনের নাম ছিল: ‘হাতের কাছে টাকা, কেন ফেলে রাখা?’ (ওভিসি লিংক কমেন্টে)। অন এয়ার হয় ২০১৭ সালে।

কিন্তু টিভিসি জনপ্রিয়তা পেলে কী হবে, সাইটে বেচাবিক্রি খুব একটা বাড়ল না। এমনকি সাইটের রেজিস্টার্ড ইউজার অথবা ট্রাফিকও যে খুব বেশি বাড়ল, তাও না। পাঁচ বছর আগেকার কথা বলছি, সে সময় টিভিসি যত লোকে দেখত, তার চেয়ে অনেক কম লোক নেট ব্রাউজ করত।

এত বড় একটা কোম্পানি একটা ব্যক্তিমালিকানাধীন সেবাকে কিনে নেয়ার পর স্বভাবতই সবাই ধারণা করেছিল যে সেলবাজার তথা এখানেই ডটকম আরো বিশাল পরিসরে এ দেশে কাজ শুরু করবে।

কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, কয়েক কোটি টাকা দিয়ে রিব্র্যান্ডিং করা সত্ত্বেও ২০১৭ সালের মে মাসে মাত্র একদিনের নোটিসে আক্ষরিক অর্থেই রাতারাতি ‘এখানেই ডটকমকে’ একটি অনলাইন প্রজ্ঞাপন জারি করে অফিশিয়ালি বন্ধ ঘোষণা করে টেলিনর। প্রজ্ঞাপনের বক্তব্যও ছিল ধোঁয়াশায় মোড়ানো।

বন্ধ করার ঠিক আগে ২০১৭ সালের মার্চে ‘এখানেই বাইক বাজার’ নামে ব্যবহূত বাইক নিয়ে তারা একটি বর্ণাঢ্য মেলার আয়োজন করেছিল রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে। এ ধরনের মেলা দেশে সেটাই ছিল প্রথম। এর মাত্র দুই মাস পর হঠাৎ কী হলো যে রাতারাতি এখানেই ডটকমকে বন্ধ করে দিতে হলো? একজন প্রাক্তন কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, বন্ধ হওয়ার ঘোষণাটা এতটাই অতর্কিত হয়েছে যে এর অভ্যন্তরীণ কর্মীরাও হতভম্ব ও অপ্রস্তুত হয়ে গিয়েছিলেন। কারণ তাদেরও আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।

সারা দেশের বিভিন্ন জেলায় থাকা তাদের শত শত BP (বিজনেস প্রমোটার) ঢাকার গুলশান ১-এর হেড অফিসে এসে ভিড় জমাতে শুরু করেছিলেন তার পরের দিন থেকে। এক্সিকিউটিভ লেভেলের অনেককেই পরবর্তী সময়ে টেলিনর হেলথ আর জিপিতে চুক্তি ভিত্তিতে নিয়োগ দেয়া হয়, অনেকে অন্য কোম্পানিতে সুইচ করেন। তারাও টিভিসি ক্যাম্পেইনের সমালোচনা করেছিলেন এবং প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে দেয়া টেলিনরের অফিশিয়াল বক্তব্য নিজেরাও বিশ্বাস করেননি।

[বাকি অংশ আগামীকাল]


প্রলয় হাসান: ব্র্যান্ড অ্যানালিস্ট ও কনটেন্ট মার্কেটার