গত ডিসেম্বরের একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রারম্ভে সরকারি দল বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দুর্নীতি প্রতিরোধের বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিল। এ পরিপ্রেক্ষিতে গত এক বছরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতি প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম কতটুকু সফল হয়েছে, তা সার্বিকভাবে মূল্যায়নের সময় এখনো আসেনি। তবে এ সময়ে বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানের উচ্চ-মাঝারি-নিম্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের দুর্নীতিতে জড়িত থাকার বিষয়, গ্রেফতার, দুদকের মামলা দৃশ্যমান ছিল।
বছরের মাঝামাঝিতে সরকারি দলের সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি জনমনে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে এবং সরকারের শুদ্ধি অভিযানে জনগণ কিছুটা আশার আলো দেখেছে। এতে সরকারি দলের ভাবমূর্তি প্রশ্নবিদ্ধ হলেও সরকার কঠোর অবস্থানের জন্য প্রশংসার দাবি রাখে। জুয়া ও মাদকবিরোধী অভিযানও সরকারের ভাবমূর্তিকে কিছুটা উজ্জ্বল করেছে। কিন্তু কয়েক দিন যেতে না যেতেই বাজার নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চরম ব্যর্থতা, বিশেষ করে পেঁয়াজের মূল্য ১০ গুণের বেশি বাড়ায় এবং তা দীর্ঘদিন চলমান থাকার পরিপ্রেক্ষিতে বাজারে সিন্ডিকেটের অস্তিত্ব, তদারকির ঘাটতি, আমদানিতে অনিয়মসহ নানা বিষয় আলোচিত হচ্ছে। এ বিষয়ে সরকারের নানামুখী উদ্যোগ এখন পর্যন্ত পেঁয়াজের বাজার শান্ত করতে পারেনি।
বছরজুড়ে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের বালিশ বিপর্যয় আলোচনার বিষয় ছিল। কার্যত বিভিন্ন ছোট-বড় দুর্নীতির ব্যাপকতা এত বেশি বেড়েছে যে, সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কর্মকাণ্ড সাধারণ মানুষকে স্বস্তি ও আস্থার জায়গায় পৌঁছতে দিচ্ছে না। জনগণ সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ-দুর্নীতির শিকার হয়নি, এমন দৃষ্টান্ত এখনো উল্লেখযোগ্য মাত্রায় স্থাপিত হয়নি গুটিকয়েক ব্যতিক্রম ছাড়া। গুরুত্বপূর্ণ সেবা খাত, বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা, ভূমি, পাসপোর্ট, বিদ্যুৎ, সড়ক পরিবহন, ভূমি নিবন্ধন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে সেবার অভিগম্যতার ক্ষেত্রে সেবাগ্রহীতার অভিজ্ঞতার ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন দৃশ্যমান নয়। এসব খাতের বিভিন্ন চিহ্নিত সমস্যা সমাধানেও সরকারের আন্তরিকতা দৃশ্যমান ছিল না। আবার সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকার আইন প্রণয়ন করেও প্রয়োগে যেতে পারছে না বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর অন্যায় চাপের মুখে। এছাড়া বিভিন্ন সেবা খাতের কর্মীদের কোটিপতি, ভূস্বামী বনে যাওয়ার বাস্তবতা বিদ্যমান রয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতির জন্য কতিপয় ব্যক্তির হাতেনাতে গ্রেফতার হওয়ার সংবাদ গণমাধ্যমে আলোচিত হলেও সেবাপ্রাপ্তির ক্ষেত্রে ইতিবাচক সংবাদ ছিল প্রায় অনুপস্থিত। সরকারের স্বল্প হলেও দুর্নীতি প্রতিরোধের নানামুখী উদ্যোগ দুর্নীতিবাজদের মনে ভয়ভীতি সৃষ্টি করতে পারেনি।
আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা আসেনি, বেড়েছে খেলাপি ঋণ। যুবকের কিংবা ডেসটিনির গ্রাহকরা তাদের অর্থ ফেরত পাচ্ছেন না এক যুগের বেশি। অথচ সরকার একটু কঠোর হলে এসব সমস্যা হয়তো এতদিন টিকে থাকত না। দেশের অর্থনীতির আকার অনুপাতে বাড়েনি সেবা খাতের সক্ষমতা এবং দক্ষতা। উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়ে চাপিয়ে দিব্যি পার পাওয়া যায়। বড় বড় শহরের নানা কর্তৃপক্ষের পারস্পরিক দোষারোপের পরিপ্রেক্ষিতে বছরের পর বছর সমস্যা টিকে থাকে। বায়ুদূষণ, নদীদূষণ, নদী দখলে, ভূূমি দখলে অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে চলছে দেশ। উন্নয়ন ও পরিবেশকে বিপরীতার্থক শব্দে পরিণত করা হচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে বিদ্যমান আইন










