করোনার প্রভাবে সবচেয়ে বেশি দুরবস্থায় পড়েছে দেশের হতদরিদ্র ও নিম্নবিত্ত মানুষ। পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ হিসাবমতে, বাংলাদেশের জনসংখ্যার ২০ দশমিক ৫ শতাংশ দরিদ্র এবং দেশের জনসংখ্যার ১০ দশমিক ৫ শতাংশ হচ্ছে অতিদরিদ্র। অর্থাৎ দেশের ১৬ কোটি ৫০ লাখ জনসংখ্যার ৩ কোটি ৩০ লাখ দরিদ্র এবং এর মধ্যে ১ কোটি ৭০ লাখ অতিদরিদ্র। বর্তমানের স্থবির অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে এই অতিদরিদ্র ও দরিদ্র মানুষের খাদ্যনিরাপত্তা দিতে সরকার ও বেসরকারি পর্যায়ে নানা ত্রাণ কার্যক্রম হাতে নেয়া হয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই এ কার্যক্রমগুলোয় সমন্বয়হীনতা, বিভিন্ন এলাকার চাহিদাভিত্তিক ত্রাণের জোগান না থাকা, প্রকৃত দরিদ্র মানুষের সঠিক অবস্থান না জানা, ঝুঁকিহীনভাবে ত্রাণ বণ্টন ইত্যাদি সমস্যা পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাছাড়া এ বিপুল জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য ও জীবনের মৌলিক চাহিদার নিরাপত্তা দিতে বর্তমানে ও আগামীতে যে পরিমাণ অর্থের প্রয়োজন, তার নিশ্চয়তা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। এ অবস্থায় বিপুলসংখ্যক দরিদ্র, অতিদরিদ্রসহ নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জীবনের মৌলিক প্রয়োজন মেটাতে কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হবে। তাছাড়া আমাদের অর্থনীতিতে যারা বিত্তশালী, যাদের সঙ্গে দরিদ্রদের আয়বৈষম্য সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বেড়েছে, সেই বিত্তশালীদের এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়গুলো নিয়েই এ প্রবন্ধে আলোকপাত করা হয়েছে।
স্বাভাবিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতেও অতিদরিদ্র মানুষ দৈনিক পুষ্টির জন্য যে খাদ্য দরকার, তা পূরণে পর্যাপ্ত আয় করতে পারে না। পুষ্টি গ্রহণের বিচারে দারিদ্র্যের পরিমাপ অনুযায়ী, যে ব্যক্তি প্রতিদিন ২ হাজার ১২২ কিলোক্যালরি খাবারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ উপার্জন করতে পারেন না, তাকেই আমরা বলছি দরিদ্র। অন্যদিকে যে ব্যক্তি প্রতিদিন ১ হাজার ৮০৫ কিলোক্যালরি খাবারের অর্থ উপার্জন করতে পারছেন না, তাকে আমরা বলছি অতিদরিদ্র। তবে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো দারিদ্র্য পরিমাপের ক্ষেত্রে খাদ্য ছাড়াও খাদ্যবহির্ভূত জরুরি প্রয়োজনীয় বিষয়কে অন্তর্ভুক্ত করে জীবনযাত্রার মৌলিক প্রয়োজনের খরচের হিসাবে দারিদ্র্য পরিমাপ করে, যাকে বলা হয় কস্ট অব বেসিক নিডস (সিবিএন)-ভিত্তিক পরিমাপ। একে আয় দারিদ্র্যও বলা হয়। চার সদস্যের একটি পরিবারে মোটামুটিভাবে ৬ হাজার টাকা হলে তা দিয়ে দরিদ্র অবস্থার উপরে থাকা যায়। এখন ত্রাণের ক্ষেত্রে জরুরি হচ্ছে, হয় এসব দরিদ্র পরিবারে প্রয়োজনীয় খাদ্য ও অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেয়া অথবা তাদের প্রয়োজনীয় অর্থ প্রদান করা। যে পদক্ষেপই নেয়া হোক, সেক্ষেত্রে সুস্পষ্টভাবে জানতে হবে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর অবস্থান কোথায়।
গ্রাম ও শহর এলাকায় দরিদ্রদের যে অবস্থান, তার কিছু ভিন্ন চরিত্র আছে। গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ সাধারণত নির্দিষ্ট এলাকায় বসবাস করে। তাদের মধ্যে ভাসমান দরিদ্র জনগোষ্ঠীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে শহরের চেয়ে কম। আবার কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে গ্রামে পরিবার থাকা সত্ত্বেও পরিবারের কোনো সদস্য সাময়িকভাবে অন্য এলাকায় গিয়ে কাজকর্ম করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শহরাঞ্চলের দরিদ্র মানুষ সাধারণত বিভিন্ন বস্তিতে অবস্থান করে অথবা ভাসমান অবস্থায় থাকে। ত্রাণ কার্যক্রমের জন্য কোথায় কত দরিদ্র আছে, সেটি জানা এবং তাদের সবার অবস্থান ও পরিচয় নিশ্চিত করাটা জরুরি। সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় যারা রয়েছে, তাদের তালিকা সরকারের কাছে আছে। স্থানীয় প্রতিনিধিদের সহায়তায় এ মুহূর্তে বিভিন্ন মৌজায় মোটামুটি কত দরিদ্র মানুষ কোন কোন এলাকায় অবস্থান করছে, তার একটা তালিকা প্রস্তুত করতে হবে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, নভেল করোনাভাইরাসের প্রভাবজনিত অচলাবস্থা লম্বা সময় ধরে চলতে পারে। ফলে দ্রুত দরিদ্র মানুষের অবস্থান ও তালিকা প্রস্তুত করা জরুরি। এ রকম একটি ধারণা থাকলে বেসরকারি পর্যায়ে যারা ত্রাণ বিতরণ করছেন, তারাও জানবেন কোন এলাকায় ত্রাণ বিতরণের কেমন প্রস্তুতি নিতে হবে। তাছাড়া স্বাস্থ্যঝুঁকি কমিয়ে ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য বিভিন্ন এলাকায় দরিদ্র মানুষের অবস্থান সম্পর্কে জানাটা জরুরি। স্থানীয় সরকারের অনেক প্রতিনিধির বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতির অভিযোগ থাকলেও তাদের সঙ্গে যদি প্রশাসন যোগ দেয়, তবে প্রতিটা উপজেলার দরিদ্রদের অবস্থান সম্পর্কে এ মুহূর্তের চিত্র পাওয়া সম্ভব।
শহরের দরিদ্রদের অবস্থান জানার জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো সম্পাদিত ২০১৪ সালের ‘বস্তিবাসী ও ভাসমান মানুষের জরিপ’ ব্যবহার করা যেতে পারে। এ জরিপে দেশের বিভিন্ন জেলায় কোন কোন এলাকায় কতটি বস্তি আছে, সেই বস্তিগুলোর নাম কী, সেগুলোয় কত লোক বসবাস করে, ভাসমান লোকজনের অবস্থান মূলত কোথায় ইত্যাদি বিষয়ে বিস্তারিত তালিকা দেয়া আছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর ওয়েবসাইটে এ প্রতিবেদন আছে। বস্তিবাসী ও ভাসমান মানুষের জরিপ ২০১৪ অনুযায়ী, দেশে বিভিন্ন নগর ও মিউনিসিপালিটিতে বসবাসকারী মোট খানা বা পরিবারের সংখ্যা হলো ৫ লাখ ৯৪ হাজার ৮৬১। এসব খানায় সব মিলিয়ে ২২ লাখ ৩২ হাজার মানুষের অবস্থান। সংখ্যাটি হয়তো জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে এই কয় বছরে কিছু বেড়েছে। তবে দরিদ্রের পরিমাণ কমে যাওয়ায় আবার কিছু কমতেও পারে। সঠিক সংখ্যাটি এ মুহূর্তে জানা নেই, তার পরও যেহেতু এই দরিদ্র মানুষরা শহরাঞ্চলের কোন কোন বস্তি বা কোন এলাকায় অবস্থান করছে তার তালিকা আছে, সেহেতু সে অনুযায়ী শহরাঞ্চলের ত্রাণ তত্পরতার পরিকল্পনা সুবিন্যস্ত করা যায়। যেমন ঢাকা সিটি করপোরেশনে যত দরিদ্র পরিবার রয়েছে, তার ৭৭ শতাংশই আছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায়, আর বাকি ২৬ শতাংশ আছে ঢাকা দক্ষিণে। কাজেই ঢাকা উত্তরের ত্রাণ তত্পরতা জোরদার করতে হবে অনেক বেশি। এভাবে এলাকাভিত্তিক পরিকল্পনা না করলে ত্রাণ তত্পরতার সমন্বয়হীনতার জন্য একদিকে যেমন অপচয় ঘটবে, অন্যদিকে যাদের জরুরি প্রয়োজন তারা হয়তো বঞ্চিত থেকে যাবে।
চলমান ২০১৯-২০ অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে সরকারের বরাদ্দ রয়েছে ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা। সরকারের ১০০টিরও ওপর কর্মসূচির যারা সুবিধাভোগী, তাদের কাছে স্বাভাবিক অবস্থার অর্থ ছাড়াও এ মুহূর্তের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে বাড়তি অর্থ প্রেরণ করা উচিত। এ ব্যক্তিরা আবার খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে যাতে অংশ নিতে না পারেন, সেক্ষেত্রে তাদের মৌজাভিত্তিক তালিকা স্থানীয় সরকার ছাড়াও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে থাকা উচিত।
এ মুহূর্তে অর্থনৈতিক স্থবিরতার সময় মূল্যস্ফীতির খুব বড় সম্ভাবনা নেই। বিপুলসংখ্যক দরিদ্র ও অতিদরিদ্র মানুষ ছাড়াও নিম্নমধ্যবিত্তের সংকটের কথা ভাবতে হবে আমাদের। এদের অনেকেই তাদের কাজ হারাচ্ছেন। তাছাড়া বিভিন্ন উৎস থেকে তাদের আয় করতে হয়। সেই উৎসগুলো কমে এসেছে, তাই নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের জন্য প্রণোদনার কথা ভাবতে হবে। নিম্নমধ্যবিত্তের অনেকেই অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করে তাদের জীবিকা নির্বাহ করেন। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকার কারণে অনেকেই এরই মধ্যে চাকরি হারিয়েছেন। আবার দৈনিক ভিত্তিতে কাজে যাদের আয় হয়, যেমন ইলেকট্রিক মিস্ত্রী, স্যানিটারি মিস্ত্রী, ছোটখাটো দোকানের মালিক, পরিবহন কর্মী, ট্যাক্সিচালক, পণ্য পরিবহন, রেস্টুরেন্ট কর্মী, বিভিন্ন কলকারখানার অস্থায়ী শ্রমিক—এমন অনেকেরই আয় সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। অতিদরিদ্র, দরিদ্র এবং এই নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের কথা ভেবে একটি প্রণোদনা প্যাকেজ অনতিবিলম্বে ঘোষণা করা উচিত। যদিও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ দেশে কেউ না খেয়ে থাকবে না, কিন্তু মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্তের মধ্যে এমন অনেক পরিবার আছে, যারা এ সংকটে খাদ্যের জন্য অন্যের কাছে হাত পাততে পারছে না, তবে তারা এবং তাদের পরিবার নিদারুণ সংকটে পড়েছে। এ অবস্থায় মানুষের জন্য নগদ টাকার সহযোগিতা প্যাকেজ নিতে হবে। নগদ টাকা কত পরিমাণ সরবরাহ করা হবে কাদেরকে এবং কোন পদ্ধতিতে, সে ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া দরকার। জরুরিভাবে এরূপ প্রণোদনা না দিতে পারলে দেশের অর্থনীতি গভীর সংকটে পড়বে। এক্ষেত্রে যারা বিভিন্ন কলকারখানায় শ্রমিক হিসেবে থেকে সেই কলকারখানা মালিকের কাছ থেকে বেতন পাচ্ছেন, তারা যাতে দুবার সাহায্য না নিতে পারেন, সেটা তদারকির ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি সরকারের এরই মধ্যে ঘোষিত ব্যবসায়িক প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে ঋণ নেয়ার ক্ষেত্রে শ্রমিককে বেতন দেয়া এবং শ্রমিক ছাঁটাই না করার শর্ত রাখতে হবে। আর্থিক সাহায্য প্রণোদনা দিতে হতে পারে মোটামুটি আট কোটি মানুষকে। সেই লক্ষ্য মাথায় রেখেই আর্থিক সাহায্য তহবিলের কথা ভাবতে হবে।
চলমান অর্থনৈতিক অচলাবস্থার কারণে সরকারের রাজস্ব আয় এ বছর কম হবে। কিছু জায়গায় ব্যয় কম হলেও আয় যত কমবে, ব্যয় তত কমবে না। ফলে সরকারের বাজেট ঘাটতি বাড়বে। বর্তমান সংকটাপন্ন অবস্থায় বাজেট ঘাটতি বাড়লেও মানুষের জীবন বাঁচানো মূল বিষয়। তাছাড়া এ মুহূর্তে চাহিদা ও জোগান উভয়েই সংকট থাকায় সার্বিকভাবে মূল্যস্ফীতির সম্ভাবনা কম। বরং অর্থনীতির মন্দা ভাব দূর করতে সামষ্টিক অর্থনীতির যুগান্তকারী অর্থনীতিবিদ কেইনসের অর্থনৈতিক তত্ত্ব অনুসারে সরকারের ব্যয় বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়াতে হবে। যাতে অর্থনীতিতে বিভিন্ন পণ্যের চাহিদা থাকে এবং তা দিয়ে আবার অর্থনীতির চাকা ঘুরতে পারে। বর্তমানে যে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও মন্দা, তা কাটাতে সরকারকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে অর্থ নেয়া কিংবা নতুন মুদ্রা ছাপানোর চিন্তাভাবনা করতে হবে।
সার্বিকভাবে বিপুলসংখ্যক জনগণের দায়িত্ব নিতে সরকারের পাশাপাশি বিত্তশালীদের এগিয়ে আসতে হবে। খানা আয়-ব্যয় জরিপ ২০১৬ অনুযায়ী, এ দেশের ৫০ শতাংশ বা অর্ধেক জনসংখ্যার সম্মিলিত আয় জাতীয় আয়ের ১৯ দশমিক ২৪ শতাংশ। অন্যদিকে দেশের বিত্তবান ৫ শতাংশের আয় মোট জাতীয় আয়ের ২৭ দশমিক ৮৯ শতাংশ। অর্থাৎ জাতীয় আয়ে দেশের ৮ দশমিক ২৫ কোটি মানুষের অংশের চেয়েও বিত্তবান সাড়ে ৮২ লাখ মানুষের অংশ বেশি। সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা-পর্যালোচনাতেই বাংলাদেশের এই আয়বৈষম্যের চিত্র উঠে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ওয়েলথ-এক্সের ২০১৯ সালের ওয়ার্ল্ড আলট্রা ওয়েলথ রিপোর্ট অনুযায়ী, বাংলাদেশে অতিধনীর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়েছে। ধনীদের সংখ্যা বাড়ার হারের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান পৃথিবীতে তৃতীয় বলে ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছিল। আমাদের অর্থনীতির বর্তমান এ সংকটে এই বিত্তশালীদের অংশগ্রহণ দরকার। দেশের মোট ৮৭ হাজার ২২৩টি গ্রামের দরিদ্র ব্যক্তিদের পাশে সরকারের সঙ্গে সঙ্গে দেশের সর্বোচ্চ আয়সম্পন্ন ৫ শতাংশ মানুষ অর্থাৎ বিত্তবান ৮২ লাখ ৫৫ হাজার ব্যক্তি যদি এগিয়ে আসেন তাহলে এ দেশে কোনো মানুষ না খেয়ে থাকবে না।
প্রতিটা গ্রামের কয়েকজন বিত্তবান মিলে সেই গ্রামের দায়িত্বে এগিয়ে আসতে পারেন এবং প্রতিটা গ্রামের সাধারণ মানুষকে খাদ্যনিরাপত্তার পাশাপাশি স্বাস্থ্যনিরাপত্তার বিষয়গুলোয় নজর রাখার জন্য গ্রামভিত্তিক কমিটি করে যায়, যারা যেকোনো জরুরি অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসতে পারবে। এক্ষেত্রে যোগাযোগ হবে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে। ত্রাণ তত্পরতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে এনজিওগুলোর সহযোগিতা নেয়া দরকার। তাছাড়া পল্লী কর্মসহায়ক ফাউন্ডেশন, পল্লী সঞ্চয় ব্যাংক, আমার বাড়ি আমার খামার, বাংলাদেশ এনজিও ফাউন্ডেশন ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমও জোরদার করতে হবে। এসব সংস্থা ও প্রকল্পের নানা কর্মসূচিতে দরিদ্র মানুষের জন্য নানান কার্যক্রম চালু আছে। সেসব কার্যক্রমকেও এ সংকটে সুবিন্যস্তভাবে পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে কাজে লাগাতে হবে।
বর্তমানের এ সংকটকাল আরো বেশি মানবিক হওয়ার এবং সরকারের সঙ্গে মিলে নিম্নবিত্তের মানুষকে খাদ্যনিরাপত্তা দিতে এগিয়ে আসার।
ড. নাজনীন আহমেদ: সিনিয়র রিসার্চ ফেলো, বিআইডিএস










