সাধারণত সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা হয়ে থাকে। পরীক্ষার বেশ কয়েক মাস আগে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের পরীক্ষার তারিখ জানিয়ে দেয়। তবে এ বছর একটু ব্যতিক্রম, কারণ করোনাভাইরাস সবকিছু লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে। করোনার কারণে সরকার জেএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা বাতিল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষাও অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিল। 

সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ। এ বছর খোলার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। কারণ শীতে করোনা বাড়তে পারে এমনটাই আভাস দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। আগের বছরগুলোতে আমরা লক্ষ্য করেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিতে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে। বিশেষ করে মেয়েদের ভোগান্তি পরিমাণ একটু বেশি হয়, সাথে নিরাপত্তার বিষয়তো থাকেই। শিক্ষার্থীদের আজ ঢাকা তো কাল খুলনা যেতে হয় পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে। ফলে আর্থিক ও মানসিকভাবে তারা সমস্যায় পড়ে। বেশ কয়েক বছর আগে সিলেট ও যশোরে অবস্থিত দুটি বিশ্ববিদ্যালয় সমন্বিত ভর্তি পরীক্ষার উদ্যোগ নিলেও তা আর আলোর মুখ দেখেনি।

এ বছর করোনার কারনে ভর্তি পরীক্ষা নিয়ে নতুন ভাবতে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে। কারণ অন্যান্য সময় শীত মৌসুমে পরীক্ষা হলেও এ বছর শীতে করোনার প্রাদুর্ভাব বাড়ার সম্ভাবনা থাকায় সঠিক দিন-ক্ষণ নির্ধারণ করা সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক দিন আগে গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবরের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নেওয়া হবে। কিন্তু পরবর্তীতে খবরে প্রকাশ সশরীরে উপস্থিত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীদের অংশ নিতে হবে। 

অনলাইনে ভর্তি পরীক্ষা নিলে অনেক শিক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়বে। কারণ আমাদের দেশের অনেক শিক্ষার্থীর স্মার্ট ফোন নেই, গ্রামে নেটওয়ার্কের সমস্যা, পূর্বে এ ধরনের পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের অভিজ্ঞতা না থাকা ইত্যাদি তাদের ভোগান্তির পরিমাণ বাড়িয়ে দিবে। আবার করোনার কথা বিবেচনায় রেখেই পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে শীতের পরে অথবা করোনায় আক্রান্তের হার বিবেচনায় রেখে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে ভর্তি পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করা যেতে পারে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে বৃহত্তর জেলা শহরগুলোতে সম্ভব হলে প্রতিটা জেলা শহরে পরীক্ষার আয়োজন করাতে হবে যেখানে সরকার ও জেলা প্রশাসন বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভর্তি পরীক্ষায় সহায়তা করবে এবং স্বল্প সময়ের মধ্যে পরীক্ষা শেষ করতে হবে। অবশ্যয় করোনার কথা বিবেচনায় রেখে ভর্তি পরীক্ষার আয়োজন করতে হবে, কোন ভাবেই শিক্ষার্থীদের জীবন হুমকির মুখে ফেলা যাবে না। 

এখন পর্যন্ত কোন বিশ্ববিদ্যালয়েরই প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ হয়নি। ক্লাস শুরুর কিছু দিন পরই করোনার কারনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। ফলে খুব দ্রত ভর্তি পরীক্ষা নিলেও প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনায় রাখতে হবে, কারণ একই সাথে প্রথম বর্ষের দুটি ব্যাচের ক্লাস পরিচালনা করা দুরূহ কাজ। আমাদের প্রত্যাশা থাকবে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ও করোনার কথা বিবেচনায় রেখে বাস্তব সম্মত পদক্ষেপ নিবে।

লেখক : মো. শাহিন রেজা, শিক্ষক
ও মুসফেরা জাহান শর্মি, নগর পরিকল্পনাবিদ