আমার লেখার এই শিরোনাম দেখে অবাক হচ্ছেন অনেকেই। কিন্তু কেন এভাবে ভাবছি, তার ব্যাখ্যা দিতেই এ লেখা। সরকার করোনার স্বাস্থ্যঝুঁকির মাঝেও দোকানপাট, শপিংমল খোলার অনুমতি দেয়ায় নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে সংবাদপত্র, অন্যান্য মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোয়। সেই নিন্দার যৌক্তিকতা আছে বৈকি। বিশেষ করে যারা বলছেন শপিংমল, দোকানপাট খোলায় স্বাস্থ্যঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে গেল এবং এতে করোনার সংক্রমণ বাড়বে, দীর্ঘায়িত হবে, তাদের বক্তব্য অবশ্যই যুক্তিসংগত। স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ আশঙ্কার সঙ্গে আমি একমত এবং আমিও মনে করি, এ সময়ে এভাবে শপিংমল খুলে দেয়া ঠিক হয়নি। সেই ঐকমত্যের জায়গা থেকেই এখন কিছু বাস্তবতা আলোচনা করব, আর তারপর সে পেরিপ্রেক্ষিতে করণীয় নিয়ে আমার ভাবনাগুলোর আলোচনা।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ অর্থনৈতিক জরিপ হয়েছিল ২০১৩ সালে। সেই জরিপ অনুযায়ী কৃষিবহির্ভূত খাতে দেশের মোট ৭৮ লাখ এন্টারপ্রাইজের মধ্যে প্রায় ৩৬ লাখ এন্টারপ্রাইজ হলো পাইকারি ও খুচরা বিক্রয় বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত। অর্থাৎ কৃষিবহির্ভূত খাতের প্রায় ৪৬ শতাংশই হচ্ছে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায় নিযুক্ত প্রতিষ্ঠান। এসব প্রতিষ্ঠানের ৮৫ শতাংশ হলো অতিক্ষুদ্র, যাদের কর্মচারীর সংখ্যা ১০ জনের কম। দেশের কৃষিবহির্ভূত কর্মসংস্থানের ৩৫ শতাংশ হয় পাইকারি ও খুচরা বিক্রয়ের ব্যবসায়। এই ব্যবসা-বাণিজ্যে ২০১৩ সালে নিযুক্ত ছিল প্রায় ৮৪ লাখ মানুষ। গত সাত বছরে প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে বছরে প্রায় ৭ দশমিক ২ শতাংশ হারে। সে হিসাবে বর্তমানে প্রায় ৫৯ লাখ এন্টারপ্রাইজ আছে। আর ২০১৬-১৭ সালের শ্রম জরিপ অনুযায়ী পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায় নিয়োজিত প্রায় ৮৭ লাখ মানুষ। আর এসব দোকানপাট-ব্যবসার পেছনে দেশীয় বহু ক্ষুদ্র-মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন নির্ভর করে। কারণ দোকানপাটের মাধ্যমে বিক্রির জন্য উৎপাদন করা হয়। নভেল করোনাভাইরাসের স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণে মুদি দোকান, ওষুধ ও জরুরি প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান ছাড়া বাকি সব বন্ধ আছে গত প্রায় দেড় মাস। এরই মধ্যে দেশীয় উদ্যোক্তাদের বড় বিক্রয়ের উৎসব বৈশাখ চলে গেছে। কোনো উৎসব হয়নি, বেচাবিক্রিও হয়নি। ক্ষুদ্র, অতি ক্ষুদ্র, কুটির শিল্প, মাঝারি উদ্যোক্তা পর্যন্ত উদ্যোক্তাদের সঞ্চয় খুবই কম থাকে। উদ্যোক্তারা এবং তাদের সঙ্গে যেসব শ্রমিক-কর্মচারী, ডিজাইনার শিল্পী কাজ করেন, তাদের সবার আয় নির্ভর করে উৎপাদিত পণ্য বিক্রয়ের ওপর। দোকানপাট বন্ধ থাকার ফলে লাখ লাখ উদ্যোক্তা ও শ্রমিকের জীবন বিপর্যস্ত। যেখানে বড় উদ্যোক্তারা সরকারের কাছে প্রণোদনা চেয়েছেন শ্রমিকের মজুরি দেয়ার জন্য, সেখানে ছোট উদ্যোক্তাদের সমস্যার কথা ভাবতে হবে। ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য যে প্রণোদনা দেয়া হয়েছে, তা হলো ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল। কিন্তু এই ওয়ার্কিং ক্যাপিটাল নিয়ে উদ্যোক্তা যে পণ্য তৈরি করবেন, সেটার বিক্রি করতে না পারলে তিনি ঋণ নেবেন কেন? বিক্রয়ের সম্ভাবনা না থাকলে তিনি যে প্রণোদনার টাকা ঋণ হিসেবে গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে তাকে খেলাপি হতে হবে। ফলে আগামীতে অনেক ঋণখেলাপিকে নিয়ে আর্থিক খাতে ধস নামতে পারে। তাছাড়া সব ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা সরকারি প্রণোদনার সুবিধা পাবেন না, কারণ তাদের ব্যবসা আনুষ্ঠানিক নয়। কাজেই দেশের অতি ক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের উৎপাদন, জীবিকা বাঁচিয়ে রাখতে হলে এবং তাদের সঙ্গে নিযুক্ত শ্রমিক-কর্মচারীদের জীবিকা ঠিক রাখতে হলে পণ্য বিক্রির ব্যবস্থা করতে হবে।

এ মুহূর্তে আমাদের অর্থনীতি সারা বিশ্বের অন্য দেশের মতোই জীবন ও জীবিকার সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। সবচেয়ে আশঙ্কার ব্যাপার হচ্ছে, এই সংকট কতদিন চলবে তা আমরা জানি না। কিন্তু মানুষকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে তাদের কর্মসংস্থান থাকতে হবে, জীবিকা থাকতে হবে। এক অনিশ্চিত অবস্থার মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ রাখা যাবে না। সেক্ষেত্রে প্রশ্ন হলো, কতদিন আমরা এসব কর্মকাণ্ড বন্ধ রাখব? এ কথা মানতে হবে যে যতদিন পর্যন্ত কভিড ১৯ ভাইরাসের প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কার না হয় অথবা কার্যকর কোনো ওষুধ না আবিষ্কার হয়, ততদিন পর্যন্ত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বা জীবনযাত্রা কোনো কিছুই স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরবে না। বিল গেটসের মতে, সেই পরিস্থিতি আসতে নয় মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত লেগে যেতে পারে। তাহলে কি আমরা আরো অন্তত নয় মাস দোকানপাট সব বন্ধ রাখব? পণ্যের বিক্রি বন্ধ রাখব? তাহলে দোকানপাটে কর্মরত শ্রমিক কর্মচারী এবং পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক কর্মচারীসহ এই কোটি কোটি মানুষের জীবন চালিয়ে যাওয়ার সংস্থান কি আমাদের আছে? যেসব মানুষ ঠিক খাদ্য সাহায্যের জন্য লাইনে দাঁড়াবেন না, যাদের জন্য নগদ সহায়তার প্রয়োজন হবে, তাদের সংখ্যা যদি দিন দিন বাড়তে থাকে, তা সামাল দেয়ার সক্ষমতা কি আমাদের আছে? জীবন আর জীবিকার এই দ্বিমুখী টানাপড়েনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নানান প্রশ্নের সঠিক উত্তর আসলে আমাদের কারোরই জানা নেই। তবে আমরা এটা বুঝি যে আমাদের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা যদি ভালো হতো, যদি আমরা বিপুলসংখ্যক করোনা টেস্ট প্রতিদিন দেশের আনাচে-কানাচে সর্বত্র করতে পারতাম, তাহলে হয়তো আমাদের আশঙ্কা কম হতো। অথবা আমাদের যদি সক্ষমতা থাকত, সব মানুষকে ঘরে রেখে আগামী অন্তত দুই মাস মানুষের খাদ্য, বাড়িভাড়া ইত্যাদি প্রয়োজন মেটানোর, তাহলে হয়তো সবাইকে ঘরে রাখা সম্ভব হতো। আমাদের সে সক্ষমতা নেই, প্রতিদিন মানুষের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে। কর্মহীন নিম্নমধ্যবিত্ত, এমনকি মধ্যবিত্তও এখন জীবিকা নিয়ে চিন্তিত।

স্বাস্থ্য ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিপুলসংখ্যক টেস্ট করার সুযোগ, তার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন খাতের জন্য স্বাস্থ্যবিধি মেনে কর্মকাণ্ড চালানোর বিস্তারিত পরিকল্পনা—এ বিষয়গুলোর ওপরই নির্ভর করবে আমরা কম ক্ষতিতে অর্থনৈতিক কাজ কতটা শুরু করতে পারব। তবে জ্যাক মায়ের মতোই মনে রাখতে হবে এ বছরের ব্যবসা-বাণিজ্য উৎপাদন কোনো কিছুই লাভ করার জন্য নয়, এখন কেবল টিকে থাকার সংগ্রাম। কাজেই ব্যবসা-বাণিজ্য টিকিয়ে রেখে শ্রমিক-কর্মচারীসহ নিজেদের জীবন-জীবিকা যদি বাঁচিয়ে রাখা যায়, সেটাই হতে হবে লক্ষ্য। এ বছর লাভের জন্য ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা উৎপাদন হবে না, বেঁচে থাকার জন্য শুধু চেষ্টা করতে হবে। এই লক্ষ্য মাথায় এই মুহূর্তে কী করব? আমার মতে, পদক্ষেপগুলো নিম্নরূপ হতে পারে।

১. আমরা কেউ শপিংমলে যাব না আগামী অন্তত এক মাস। এই কথাটা প্রথমে স্পষ্ট করে নিতে চাই। এই সময়টা আরো বেশিও হতে পারে। কিন্তু আমরা কেনাকাটা করব। নিজেদের প্রয়োজনে কেনাকাটা নয়, বরং দেশকে বাঁচিয়ে রাখার দায়বদ্ধতা থেকে। অর্থনীতিকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে কেনাকাটা করতে হবে। তবে তার জন্য দোকানে যেতে হবে এমন কোনো কথা নেই, সেটা পরে ব্যাখ্যা করছি। যাদের সামর্থ্য আছে, তাদেরকে প্রয়োজন না থাকলেও কেনাকাটা করতে হবে। এই কেনাকাটা বিলাসিতার জন্য নয়। আমি একটি দেশীয় শাড়ি কিনলে সেই শাড়ির দাম যদি ১ হাজার টাকা হয়, তবে তা থেকে উদ্যোক্তার লাভ হয় ২০০ থেকে ২৫০ টাকা। বাকি ৭৫০ টাকা কিন্তু চলে যায় কারিগর, শ্রমিকের মজুরি, পরিবহন কর্মচারী, ইউটিলিটি বিল ইত্যাদিতে। একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে নানা মানুষের জীবন-জীবিকা জড়িয়ে আছে। কাজেই ওই একটি শাড়ি কেনার বিনিময়ে যে অর্থ আমি প্রদান করছি, তা চলে যাচ্ছে বিভিন্ন মানুষের কাছে তাদের আয় হিসেবে। ফলে যাদের সামর্থ্য আছে, তারা যত বেশি কেনাকাটা করবেন, আসলে তারা তত বেশি অবদান রাখছেন অর্থনীতির চাকা ঘোরাতে। তাদের এই ব্যয় সাধারণ মানুষের জীবন-জীবিকা কাজে লাগবে। বিশেষ করে যে মানুষগুলো অন্যের সাহায্য নিয়ে চলতে অভ্যস্ত নন, যারা শিল্পী, ডিজাইনার, কারিগর, ব্যবসার বাজারজাত কিংবা প্রশাসনিক দায়িত্বে আছেন, তাদের কর্মসংস্থান ও আয় ধরে রাখতে এই কেনাকাটা সহায়তা করবে।

২. যেসব দোকান বা উৎপাদনকারীর পক্ষে অনলাইন ব্যবসা সরাসরি করা সম্ভব, তারা অনলাইনে বিক্রি করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবেন। এক্ষেত্রে পুরনো ক্লায়েন্টদের ব্যক্তিগতভাবে অনুরোধ করতে পারেন তারা। তবে মনে রাখতে হবে স্বাভাবিক অবস্থার মতো বিক্রয় এখন হবে না, কোনো মতন যদি শ্রমিক-কর্মচারীদের মজুরি ওঠে, তাহলেই তারা সার্থক। ডেলিভারি সার্ভিস প্রসার করার ক্ষেত্রে ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশনকে এগিয়ে আসতে হবে, সরকারকেও সহায়তা দিতে হবে।

৩. বিভিন্ন মার্কেটের বিক্রেতারা মিলে সম্মিলিতভাবে দ্রুত ওয়েবসাইট খুলতে পারেন। অথবা এ মুহূর্তে যেসব পোর্টাল নানা রকম পণ্য কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত, সেগুলোর সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। মার্কেটের বিভিন্ন ধরনের দোকানের তালিকা করে বিক্রেতাদের ফোন নাম্বার সংযুক্ত করতে হবে। আইটি এক্সপার্টদের সহযোগিতা নিলে আরো অনেক ধরনের আধুনিক উপায় বের হয়ে আসতে পারে।

৪. বিভিন্ন মার্কেটভিত্তিক ডেলিভারি সার্ভিস গড়ে তুলতে হবে। এক্ষেত্রে দোকানের কর্মচারীদের কাজে লাগানো যায়। আবার বর্তমানে বিদ্যমান নানা রকম ডেলিভারি সার্ভিস কাজে লাগানো যায়।

৫. আগামী এক মাসের মধ্যে করোনা মোকাবেলার স্বাস্থ্যসেবায় আমাদের প্রস্তুতি বাড়াতে হবে। সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন হাসপাতালে করোনাসংশ্লিষ্ট চিকিৎসা সুবিধা বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে হাসপাতালগুলোয় অক্সিজেন সুবিধা বাড়ানো সবচেয়ে জরুরি। যত বেশিসংখ্যক রোগীকে চিকিৎসা দেয়ার সুযোগ থাকবে, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড খুলে দেয়ার স্বাস্থ্যঝুঁকি তত বেশি  মোকাবেলা করা যাবে।

৬. বিভিন্ন কলকারখানা, দোকানপাটে স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানোর জন্য কী ধরনের ব্যবস্থা থাকতে হবে, সে অনুযায়ী আলাদা আলাদা দিকনির্দেশনা দিতে হবে। বিভিন্ন সেক্টরকে তাদের উপযোগী নিজস্ব কর্মপরিকল্পনা করতে হবে।

৭. যাদের পক্ষে ঘরে থেকে জীবন-জীবিকা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব, তারা অবশ্যই ঘরে থাকবেন এমনকি নিজের সঞ্চয় ভেঙে যদি আরো অন্তত ছয় মাস ঘরে থাকা সম্ভব হয়, থাকুন। শুধু শপিংমল না, প্রয়োজন ছাড়া খাবারের দোকানে কিংবা কাঁচাবাজারে যাওয়াও ঠিক নয়।

৮. কেউ যখন অনলাইনে তার পণ্য বিক্রির চেষ্টা করছেন কিংবা কেউ যখন কেনাকাটা করছেন, সেটাকে নেতিবাচকভাবে দেখা ঠিক হবে না। বরং কোনো ব্যবসায়ী উদ্যোক্তা যেন তার শ্রমিক-কর্মচারীকে ছাঁটাই না করেন, সেদিকে নজর রাখতে হবে।

৯. অনেক পরিবারে ঈদের সময় যে জামাকাপড় কেনা হয়, সেটাই সারা বছরের একমাত্র অথবা ভালো পোশাকের কেনাকাটা। আমরা সবাই বুঝতে পারছি এ বছর কোনো আনন্দের ঈদ হবে না। কিন্তু এ সময়টাতেই যারা কাপড় কিনতেন, এবার তারা সেটুকু করতে পারবেন না। তাই এবার ধনী ব্যক্তিরা নিজেদের জন্য কম কিনে বরং সেই অর্থ দিয়ে সাধারণ পরিবারের জন্য ঈদের পোশাক কিনতে পারেন। যে সংস্থাগুলো নানা রকম খাদ্যসামগ্রী, ত্রাণ বিতরণের সঙ্গে জড়িত আছেন, তারা বিভিন্ন পরিবারের মাঝে ধনীদের দেয়া এরূপ পোশাক-আশাকও বিতরণ করতে পারবেন। তাদের প্লাটফর্মগুলো ব্যবহার করা যায় ক্রেতা ও বিক্রেতার সংযোগস্থল হিসেবে।

১০. কেনাকাটার সব ক্ষেত্রে যতটা সম্ভব দেশীয় পণ্য কিনতে হবে। যত বেশি দেশী পণ্য কিনব, তত বেশি ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এ দেশের শ্রমজীবী মানুষের জীবন-জীবিকায়। ‘দেশ বাঁচাতে দেশের পণ্য’—এ স্লোগান হোক আমাদের আগামী অন্তত এক বছরের কেনাকাটার মূলমন্ত্র।

আসুন, আমরা সম্মিলিতভাবে চিন্তা করি, কী করে জীবন ও জীবিকার মধ্যে ভারসাম্য আনা যায়। কোনোটাই পুরো সঠিকভাবে এখন করা সম্ভব না। নানা পদক্ষেপের পরও বিপুল মানুষকে খাদ্য ও অর্থসাহায্য দিতে থাকতে হবে। কতদিন, সেটা আমরা জানি না। তবে আর্থিক কষ্টে পড়া ব্যক্তির সংখ্যা যত কমানো যায়, ততই ঠেকানো যাবে দেশের অর্থনৈতিক বিপর্যয়। স্বাস্থ্যগত বিপর্যয়ের সঙ্গে এখন অর্থনৈতিক বিপর্যয় বাড়তে থাকলে জাতি হিসেবে বহু বছর সেই ক্ষতির মুখোমুখি হতে হবে। তাই এই দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য গঠনমূলকভাবে ভাবতে হবে আমাদের।

 

ড. নাজনীন আহমেদ: সিনিয়র রিসার্চ ফেলো

বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস)