সম্প্রতি গণমাধ্যমের প্রকাশ পাওয়া কয়েকটি খবর আমাকে যেমন খুব ব্যথিত করেছে, তেমনি চিন্তিতও করে তুলেছে। দু-সপ্তাহের ব্যধানে তিন তিনটি খবর, একই ধরনের। প্রথম ঘটনা, সাভারের আশুলিয়ায় শত্রুতা করে ৬৬ বিঘা আয়তনের বড় একটি পুকুরে বিষ দিয়ে ১০০ টনেরও বেশী মাছ মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা (সূত্র: সমকাল, ১৪ আগস্ট)। দ্বিতীয়টি, সিলেটের জৈন্তাপুরে ক্ষুদ্র নৃ-গোস্টির একটি সুপারি বাগানে লাগানো ২০০ গাছ রাতের আঁধারে কেটে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা (সূত্র: ডেইলি স্টার, ২৫ আগস্ট)। তৃতীয়টি, টাঙ্গাইলের মধুপুরে করোনাকালে চাকরি হারানো এক যুবকের গড়ে তোলা একটি হাঁস খামারের এক হাজারের অধিক হাঁস বিষ দিয়ে মেরে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা (সূত্র: সমকাল, ২৪ আগস্ট)। উল্লেখিত তিনটি দুঃসংবাদের মধ্যে একটি যোগসূত্র আছে, যেটা সন্মানিত পাঠকরা হয়েতো ইতিমধ্যে আঁচ করতে পেরেছেন। হ্যাঁ, সেটা হল হিংসা এবং প্রতিহিংসা।
মানুষের চরিত্রের অন্যতম একটি খারাপ দিক হল হিংসা। প্রায় প্রতিটি ধর্মেই হিংসা বা বিদ্বেষ পোষণকারীকে খুবই নিকৃষ্ট চোখে দেখা হয়েছে। যদিও আমি আমার এই লেখাটির সূচনা করেছিলাম হিংসা নিয়ে আলোচনা করবো বলে। কিন্তু তারপরও কয়েকটি ব্যাপার না চাইলে ও কথার সূত্র ধরে উঠে আসে, যা উল্লেখ না করলে হয়তো আমার এই লেখাটা পূর্ণাঙ্গ হবে না। মানুষের পাপের তিনটি উৎস যা মানুষের জীবনকে অশান্তিময় করে তুলতে পারে এবং ক্ষেত্র বিশেষে ধ্বংসও করে দিতে পারে। সেগুলো হচ্ছে- হিংসা, লোভ এবং অহংকার। হিংসা, লোভ, অহংকার আরো বহু ক্ষুদ্র এবং মহা পাপের জন্ম দেয়। চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, কালোবাজারি, অকৃতজ্ঞতা, সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, সুদ-ঘুষ খাওয়া, খুন, গুম, মানবপাচার, যৌতুক, মাদক, যৌনাচার, জঙ্গিবাদ, অস্ত্রবাজি, সাংস্কৃতিক আগ্রাসন, অর্থনৈতিক শোষণ, ক্ষমতার অপব্যবহার, যোগ্য নেতৃত্বশূন্যতা, হলুদ সাংবাদিকতা, ক্ষমতার দাপট, টেন্ডারবাজি, মজুদদারি, খাদ্যে কেমিক্যালের মিশ্রণ, এমনকি বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এই সবকিছুর মূল হচ্ছে হিংসা, লোভ, অহংকার।
আমি বিশ্বাস করি সবার প্রথমে জন্ম নেয় হিংসা এবং তারপর এই হিংসা থেকেই জন্ম নেয় লোভ এবং অহংকারের। একজন মানুষ যখন সুখে শান্তিতে সাধারণ জীবন যাপন করেন ঠিক সেই সময় যখন ঐ ব্যক্তি দেখে তার পাশের কেউ অনেক ধন, সম্পদ, প্রভাব, প্রতিপত্তি নিয়ে মহাসুখে আছে। তখন সেই সুখি ব্যক্তির মনে শুরু হয় হিংসা। সে পারলে আমি কেন পারবো না, এই ধরনের তাড়না থেকে শুরু হয় লোভের। লোভ মানব চরিত্রের এক দুর্দমনীয় প্রবৃত্তি। মানুষ নিজের ভোগের জন্য যখন কোন কিছু পাওয়ার প্রবল ইচ্ছা পোষণ করে তাকে ‘লোভ’ বলে। তখন যা নিজের নয়, যা পাওয়ার অধিকার তার নেই, তা পাওয়ার জন্য মানুষ লোভী হয়ে ওঠে। লোভের মোহে সে সত্য-মিথ্যা, ভালো-মন্দ সব বিসর্জন দেয়। তার ন্যায়-অন্যায় বোধ লোপ পায়। সে পাপের পথে ধাবিত হয়। তাই তো সচরাচর বলা হয়ে থাকে, লোভে পাপ-পাপে মৃত্যু। এর পরেরটি হচ্ছে অহংকার। ‘অহংকার’ মানব স্বভাবের একটি নিকৃষ্ট অংশ। আমার মতে বিশুদ্ধ-অশুদ্ধ সকল মতবাদে বিশ্বাসিদের মধ্যেই অহংকার বিদ্যমান। এর উপকারিতার চেয়ে অপকারিতাই বেশী। একে দমন করে সৎকর্মে লাগানোর মধ্যেই মানুষের কৃতিত্ব নির্ভর করে। অহংকারের অপর নাম বড়ত্ব। অন্যের চেয়ে নিজেকে বড় মনে করাই এর অন্তর্নিহিত বক্তব্য। এর পারিভাষিক অর্থ, সত্য জেনেও সত্যকে অস্বীকার করা এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা। অহংকারী ব্যক্তি সর্বদা নিজের উচ্চ মূল্যায়ন কামনা করে। ফলে তার আশানুরুপ মূল্যায়ন না পাওয়াতেই সে অন্যকে হেয় জ্ঞান করে। তাইতো আমরা বলি, অহংকার পতনের মূল। অহংকারকে দমন করতে গ্রীক দার্শনিক সক্রেটিসের একটা উক্তি না বললেই নয়। সেটা হল, “সবচেয়ে বড় জ্ঞানের পরিচয় হল, তুমি কিছুই জানো না – এটা জানা”।
আসুন, যে কারনে আমার এই লেখার সুচনা সেই হিংসা নিয়ে আমার কিছু বক্তব্য আপনাদের সামনে তুলে ধরি। স্বাভাবিকভাবে আমরা আমাদের স্কুল জীবনের পুরোনো বন্ধুদের সাথে অনেকদিন পর দেখা হলে কি করি? তারা জীবনে কে কি করছে তা সচরাচর জিজ্ঞেস করি বা জানতে চেষ্টা করি। দু:খজনক হলেও সত্য যে, আমরা আমাদের বন্ধুরা জীবনে সুখে শান্তিতে আছে কিনা তা জানার চেয়েও, তারা কে কি ধরনের চাকরি বা ব্যবসা করছে সেগুলো জানতেই বেশী উৎসুক হয়ে পড়ি। এই জানার যে অতি উৎসাহ, সেটা যে সবসময় আমরা বন্ধুদের সুখ সমৃদ্ধিতে আনন্দিত বা গর্বিত হয়েই করি তা কিন্তু নয়। দূর্ভাগ্যক্রমে, আমাদের সবারই কিছু বন্ধু আছে, যারা এই তথ্যগুলো জানার মাধ্যমে কার চেয়ে কে বেশী সফল তা যাচাই করে কাকে বেশী মাথায় তুলবে এবং কাকে হেয় বা ছোট করবে তা নির্ধারণ করতে চেষ্টা করে। বিশেষ করে তাদের আল্টিমেট গোল হচ্ছে, কে কার চেয়ে কত টাকা বেশী কামাই করে তা যাচাই করা। তাদের কাছে বৈধ অবৈধ পথে টাকা কামাই করার মধ্যে কোন পার্থক্য নাই।
আজকাল সোস্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ফেইসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রামের বরাতে আমাদের পরিচিতরা কে কখন কি করছে তার সবই দেখতেই পাই। দেখতে পাওয়ার কারন হচ্ছে মানুষের দেখানোর যে প্রবণতা সেই প্রবণতা থেকে তারা কে পরিবার নিয়ে কখন কোন রেস্টুরেন্টে খাচ্ছে, পরিবার নিয়ে দেশের বাইরে কোথায় বেড়াতে যাচ্ছে, কে কখন নতুন দামী পোশাক-গাড়ি-বাড়ি কিনছে সব কিছুই সোস্যাল মিডিয়াতে আপলোড করে দেয় যাতে তাদের পরিচিত জনেরা সেগুলো দেখে লাইক দেয়, এপ্রিসিয়েট করে। ২০১৫ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া স্টেটের মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে যে, ফেসবুকে বন্ধুর দামি গাড়ি, বাড়ি কিংবা বিলাসবহুল জীবনযাপন দেখে যারা হিংসা করেন, তাদের সচেতন হওয়া প্রয়োজন। এই গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, যদি সামাজিক যোগাযোগের ওয়েবসাইট ব্যবহারকারীদের মধ্যে হিংসাত্মক মনোভাব বেড়ে যায়, তবে তা থেকে বিষণ্নতা সম্পর্কিত নানা রকম মানসিক রোগের উপসর্গ দেখা যেতে পারে। মিসৌরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক মার্গারেট ডাফি বলেছেন, ফেসবুক তখনই কেবল মজার ও স্বাস্থ্যকর কার্যকলাপের অংশ হয়ে ওঠে, যখন এর ব্যবহারকারীরা এই সাইটটির সুবিধা কাজে লাগিয়ে পরিবার ও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ, মজার বিষয় বিনিময় এবং জীবনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে আনতে পারে। কিন্তু যদি ফেসবুককে হিংসা বিনিময়ের স্থানে পরিনত করা হয় অর্থাৎ পরিচিত কারও অর্থসম্পদ, উন্নতি নিয়ে হিংসাত্মক কথাবার্তা বলা হয় বা কারো ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে উপহাস বা ঠাট্টা করা হয়, তখন পারস্পরিক হিংসা বেড়ে যায়, যা ব্যবহারকারীদের বিষণ্ন অনুভূতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মানুষের কিসের তাড়নায় এই ধরনের ঘৃণ্য কর্মে লিপ্ত হয়? এই প্রশ্নে আমার উত্তর হচ্ছে, ঈর্ষা বা হিংসার বশবর্তী হয়ে। হিংসা এবং পরনিন্দা নিয়ে বলতে গেলে অনেক কিছুই বলার আছে, তবে লেখাটা সংক্ষিপ্ত করার স্বার্থে আজ আমি শুধু ঈর্ষা বা হিংসা নিয়ে আলোচনাটা সীমাবদ্ধ রাখতে চাই। হিংসা কাকে বলে? অন্যের সুখ-সম্পদ, মান-সম্মান নষ্ট হওয়ার কামনা, কেন ওই ব্যক্তি আমার চেয়ে বড় হয়ে গেল, উন্নতি লাভ করলো, এমন মানসিকতাকে হিংসা বলা হয়ে থাকে। হিংসুকের তিনটি বিশেষ চিহ্ন রয়েছে। এক, পিছে নিন্দা করা। দুই, সামনা সামনি তোষামোদ করা এবং তিন, অন্যের বিপদে আনন্দিত হওয়া। মূর্খ কিংবা শিক্ষিত দুই পক্ষই হিংসা পোষণ করতে পারে। ক্ষেত্র বিশেষে মূর্খ বা অশিক্ষিতদের চেয়ে শিক্ষিতরাই মনে বেশী হিংসা-বিদ্বেষ পোষণ করে। হিংসুক ব্যক্তি অন্যের ভালো দেখতে পারে না। হিংসুক ব্যক্তি সবসময় নিজের মনে অশান্তির আগুন জ্বালিয়ে রাখে। হিংসা মানুষের ভালো কাজগুলোকে ধ্বংস করে দেয়। হিংসা পরস্পরের মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি করে। হিংসার অপকারিতা সীমাহীন। হিংসা মানুষের অন্তরের এমন একটি দুরারোগ্য ব্যাধি, যা সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করে, সমাজে ঝগড়া-ফ্যাসাদ, মারামারি এবং অশান্তি সৃষ্টি করে।
তাহলে প্রশ্ন উঠতেই পারে, এই হিংসার উৎপত্তিস্থল কোথায়? আমি বলবো লোভ থেকে। তাহলে লোভের উৎপত্তিস্থল কোথায়? আমি বলবো পারিবারিক বা সামাজিক মুল্যবোধ থেকে। পারিবারিক বা সামাজিক মুল্যবোধ কি? আমার যা আমাদের পরিবারের মুরুব্বী বা সমাজের গুরুজনদের কাছ থেকে শিখি তা? কিন্তু পরিবারের মুরুব্বী বা গুরুজনরাই যদি মুল্যবোধের অভাবে নীতিভ্রষ্ট হয়, তাহলে? এর উত্তর খুব সোজা। আমরা সচরাচর বুঝে বা না বুঝেই এই কথাটা বলে থাকি, ‘কাঁঠাল গাছে আম ধরে না’। কথাটি সহজ হলেও এর গভীরতা কিন্তু অনেক বেশী। তাহলে মুল্যবোধ কি? মুল্যবোধ হল, ন্যায্য বা ন্যায় চিন্তা করার এবং ন্যায়ের পক্ষে কথা বলার সক্ষমতা। একজন মানুষ শুধু শিক্ষিত হলেই যে সে শুধু ন্যায় বুঝবে আর মূর্খ হলে বুঝবেনা ব্যপারটা এরকম না। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে মুল্যবোধের কোন সম্পর্ক নেই। তা না হলে, আজ স্বাধীনতার ৪৯ বছর পর করোনার মত বিশ্ব মহামারীর প্রাক্কালে হাসপাতালের ডাক্তারদের কোটি টাকার নকল ফেইস মাস্ক বরাদ্ধ করা, হাসপাতাল পরিচালনা কমিটির কোটি টাকার ভুঁয়া বিল করা, এমনকি রিলিফের চাল ডালসহ মাথাপিছু প্রণোদনার মাত্র আড়াই হাজার টাকা মেরে দেয়ার মত যে তুচ্ছ চুরি চামারির কাজগুলো আমাদের দেখতে হতো না। আর এই সব দূর্নীতি যারা করছে তাদের বেশীর ভাগই কিন্তু শিক্ষিত পরিবারের মানুষ। আবার আমরা এমন ঘটনার স্বাক্ষীও হয়েছি যেখানে একজন অশিক্ষিত রিকশাওয়ালা বা সিএনজি ড্রাইভর ভুলে যাত্রীদের ফেলে যাওয়া ৪০-৫০ লাখ টাকার ব্যাগ পেয়েও মূল মালিকের কাছে ফেরত দিয়েছেন। এই থেকে এটাই প্রমাণ হয় যে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সাথে মূল্যবোধের কোন সম্পর্ক নাই। আর মূল্যবোধের বোধটা আসতে হবে মানুষের অন্তর থেকে, পারিবারিক শিক্ষা থেকে। তাহলে এটা কীভাবে আসবে?
পরিবারের প্রধান কর্তা যদি ঘুষ, জালিয়াতি, দুর্নীতিসহ অসামাজিক কর্মে লিপ্ত থাকেন তাহলে সেই পিতা বা মাতা তার সন্তানদের কী শিক্ষা দেবেন বা সন্তানেরাই তাদের কাছ থেকে কী শিখবে? আর এই ছোট অবুঝ বাচ্চাগুলোরইবা কী দোষ? তারা তো তাদের পরিবারের মুরুব্বিদের কাছ থেকে যাই দেখবে তা শিখবে এবং শিখছে। তাই তো বাংলাদেশের মত দেশগুলোর আজ এই সামাজিক এবং নৈতিক অধঃপতন। সন্তানেরা দেখেছে, বাবা খুব সাধারন বেতনের চাকরি করলেও তাদের দামী বাড়ি-গাড়ি আছে। সন্তানেরা দেখছে তাদের সামান্য বেতনভুক্ত ব্যাংকার বাবা-মা দেশ বিদেশে বাড়ি গাড়ি কিনছে। সন্তানেরা দেখছে তাদের ব্যবসায়ী বাবা কীভাবে বাজারে পন্যের সংকট তৈরি করে বাড়তি মুনাফা করছে। সন্তানেরা দেখেছে, তাদের বাবা-মা প্রতিদিন ঝগড়া করে। এগুলো দেখতে দেখতে অবুঝ সন্তানেরা একদিন ধরে নেয় এটাই মনে হয় মানব জীবন। সন্তানেরা ধরে নেয় তাদের বাবা মায়েরা যাই করেছে সেগুলোই জীবনের মুল উদ্দেশ্য। তাই প্রত্যেকটি পরিবারে প্রকৃত মুল্যবোধের চর্চা তৈরী করতে হলে আগে পরিবারের মুরুব্বীদের মুল্যবোধ সম্পর্কে বুঝতে হবে, জ্ঞান রাখতে হবে। পরিবারের মুরুব্বিদের মধ্যে মূল্যবোধ সম্পর্কে জ্ঞান না থাকলে ওই পরিবারের ভবিষ্যৎ প্রজন্মদের মধ্যে সেই মূল্যবোধের চর্চা কোন কোনভাবেই প্রবাহিত হবে না।
আমরা মানুষ, আমাদের মাঝে মানবীয় দোষ-ত্রুটির অন্যতম হিংসা কোনো না কোনোভাবে অন্তরে প্রবেশ করতেই পারে। এটা বিচিত্র কিছু নয়। কথায় বলে, পাপের সীমানায় যাদের চলাফেরা তারাও একদিন পাপ কর্মে লিপ্ত হয়ে পড়ে। তাই আমাদের সদা সচেষ্ট থাকতে হবে, যেসব কারণে এমন বদঅভ্যাস আমাদের মনে জায়গা করে নিতে পারে, সেসব কারণ থেকে দূরে থাকা। আমরা কেউ মহামানব নই। দোষে-গুণেই তো মানুষ। আমাদের ভুল হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ভুল যে হচ্ছে সেটা বোঝার বোধ বা অনুভুতিই যদি কারো মধ্যে না থাকে তাহলে তাদের জন্য কী করণীয়?










