বিশ্ব অর্থনীতিতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোর অবদান যতটা দেখা যায়, বাস্তবে তার চেয়েও অনেক বেশি। সব ক্ষেত্রে এ ব্যবসাগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে এবং নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের আগে এসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অধিকাংশ দেশে ৬০-৭০ শতাংশ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। ফেসবুক-ওইসিডি-ওয়ার্ল্ড ব্যাংক (২০২০) কর্তৃক পরিচালিত ‘ফিউচার অব বিজনেস’ জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। বলা যেতে পারে যে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা একটি দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড গঠনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বাংলাদেশও এর ব্যতিক্রম নয়। লাইট ক্যাসল পার্টনারের মতে, বাংলাদেশের জিডিপিতে এসএমইর অবদান ২৫ শতাংশ, যদিও সংখ্যাটি আমাদের প্রতিবেশী দেশ যেমন ভিয়েতনাম (৪০ শতাংশ), শ্রীলংকা (৫২ শতাংশ) ও কম্বোডিয়ার (৫৮ শতাংশ) চেয়ে কম, তবুও যত দিন যাচ্ছে, এসএমইর ভূমিকা বেড়েই চলেছে।

বিশ্বজুড়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে এসএমই খাতে বিরূপ প্রভাব পড়েছে। যদিও এটি সত্য যে এসএমইগুলো দ্রুতই পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে, তবুও নগদ টাকা ও মূলধনের ওপর তারা অনেক বেশি নির্ভরশীল। সে কারণেই লকডাউনে অন্যান্য ব্যবসার চেয়ে এসএমই খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাদের অনেকেরই ব্যবসা বন্ধ করতে হয়েছে এবং কবে লকডাউন শেষ হবে সেই অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে।

বাংলাদেশের এসএমই খাতেও একই ব্যাপার ঘটেছে। ফিউচার অব বিজনেসের এক জরিপে দেখা গেছে, ২০২০-এর জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যে ৫০ শতাংশের বেশি ব্যবসা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। বাংলাদেশে লকডাউন প্রত্যাহার করা হলেও মহামারীর প্রকোপ এখনো আছে। আমরা এখনো বিপদমুক্ত নই এবং এসএমইগুলোর জন্য টিকে থাকা আরো কঠিন হয়ে উঠছে। বলা বাহুল্য, কভিড-১৯ মহামারীর কারণে ব্যবসার প্রচলিত পদ্ধতি বদলে গেছে অনেকখানি। নতুন স্বাভাবিকে যোগাযোগ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতির ব্যবহার এখন আবশ্যক হয়ে উঠেছে। ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলো এখন ব্যবসার নতুন মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।

ব্যবসাগুলো অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলো কতটা দক্ষতার সঙ্গে এই ডিজিটাল প্লাটফর্মগুলোকে কাজে লাগাতে পারছে। ডিজিটাল প্লাটফর্ম অনেক বড় একটা জায়গা। সঠিক দিকনির্দেশনা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান না থাকলে উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য কার্যক্রম চালানো বেশ কঠিন হতে পারে।

লাইট ক্যাসেল পার্টনার্সের ওই প্রতিবেদনে এটিও উল্লেখ আছে যে নভেল করোনাভাইরাসের কারণে ৪২ শতাংশ উদ্যোগকে তাদের বিপণন খাতের ব্যয় একদম শূন্যের কোটায় নামিয়ে আনতে হয়েছে এবং বাকিদের বিপণন ব্যয় তাদের মোট ব্যয়ের ১০ শতাংশেরও নিচে নামিয়ে আনতে হয়েছে।

তাই এসএমইগুলো সীমিত বাজেটের মধ্যেই যেন প্রচারণা সঠিকভাবে ও দক্ষতার সঙ্গে চালাতে পারে সেটি গুরুত্বপূর্ণ।

ডিজিটাল মাধ্যম, বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করে ব্যবসার প্রচারণা চালানোর কাজটি সবচেয়ে সহজে করা সম্ভব। আর এসএমইগুলো তাদের পণ্য ও সেবাগুলোর প্রচারণার ক্ষেত্রে যেন সঠিক দিকনির্দেশনা পায়, তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন উপায় রয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো, যেকোনো পরামর্শ ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা এবং তা কাজে লাগিয়ে প্রতিনিয়ত শিখতে থাকা। যেমন ফেসবুক অনুমোদিত সেলস পার্টনার এইচটিটিপুলের বিশেষজ্ঞরা কীভাবে ফেসবুক বিজ্ঞাপন ব্যবহার করে সর্বোচ্চ প্রচারণা চালানো যায়, সে সম্পর্কে প্রশিক্ষিত। প্রচারণার ক্ষেত্রে তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে।

এসএমই খাত আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডিজিটাল মাধ্যমের সর্বোচ্চ ব্যবহার করে কীভাবে প্রচারণার কাজে লাগানো যায়, সে সম্পর্কে যদি সঠিক দিকনির্দেশনা ও বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ পাওয়া যায় তাহলে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলো ডিজিটাল মাধ্যমে অনেক এগিয়ে যেতে পারবে। আর তাই কভিড-পরবর্তী সময়ে যেকোনো ব্যবসার সাফল্য নির্ভর করছে উদ্যোক্তারা ডিজিটাল বিজ্ঞাপনকে কতটা দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে পারছে তার ওপর। এইচটিটিপুলের অংশ হিসেবে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলোকে ডিজিটাল পথে পরিচালিত করে তাদের জ্ঞান আরো সমৃদ্ধ করতে পেরে সম্মানিত বোধ করছি।


কাজী মনিরুল কবির: দুবাইভিত্তিক ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন সংস্থা স্পাইডার ডিজিটাল ইনোভেশনের প্রতিষ্ঠাতা; ফোর্বস প্রযুক্তি কাউন্সিলের সদস্য ও কান্ট্রি ডিরেক্টর, এইচটিটিপুল