শিক্ষা হচ্ছে একটি সফরের মতো। জীবনের প্রতিটি মুহূর্তই শিক্ষণীয়। একজন মানুষ জীবনের পথচলায় প্রতিটি ক্ষণ থেকেই শিক্ষা লাভ করে এগিয়ে যায় নিজের লক্ষ্যপানে। শিক্ষা হতে হবে অবধারিত এবং সবার জন্য উন্মুক্ত।
জন্মলগ্ন থেকে মানুষের প্রারম্ভিক শিক্ষার সূচনা ঘটে পরিবারের কাছ থেকে। আর এই শিক্ষার পূর্ণতা পায় প্রাতিষ্ঠানিক, পারিবারিক, সামাজিকসহ সামগ্রিক পারিপার্শ্বিকতার সম্মিলনে। নির্লোম নির্লিপ্তে মানুষের জীবন পরিপূর্ণ হয় শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে।
শিক্ষা ছাড়া মানুষ নিজের ও সমাজ সর্ম্পকে অন্ধকারে নিমজ্জিত থাকে। তাই একটি জাতিকে ধ্বংস করতে হলে তার শিক্ষা নীতিকে দুর্বল করে দিলেই হয়। যা ছিল পাকিস্তানের শিক্ষা সচিব এস এম শরীফের নেতৃত্বে গঠিত শরীফ কমিশনের রিপোর্টে শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা-পরিকল্পনা। কিন্তু, লড়াকু ছাত্রসমাজ শরীফ কমিশনের শিক্ষা সংকোচন নীতি পরিকল্পনার সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে। শহীদের রক্তের বিনিময়ে প্রতিষ্ঠা পায় ১৭ সেপ্টেম্বর ‘মহান শিক্ষা দিবস’।
১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতে গিয়ে পুলিশের গুলিতে প্রাণ দিয়েছিল মোস্তফা , ওয়াজিউল্লাহ, বাবুলসহ নাম না জানা অসংখ্য ছাত্র। বাংলাদেশের ছাত্র শিক্ষক সমাজ প্রতি বছর এই দিনটিকে শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে। ১৯৬২ সালের ২৬ আগস্ট পাকিস্তানের শিক্ষা সচিব এস এম শরীফের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি তার রিপোর্টে শাসকগোষ্ঠীর শিক্ষা-পরিকল্পনা তুলে ধরে। আইয়ুব খানের সামরিক সরকার ওই রিপোর্ট গ্রহণ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এই ভূখন্ডের লড়াকু ছাত্রগোষ্ঠী শরীফ কমিশনের সুপারিশ প্রত্যাখ্যান করে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন গড়ে তোলে।
বাংলাদেশের ইতিহাসে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আনন্দোলনের গুরুত্ব অপরিসীম। কারণ ১৯৬২ সালের এই শিক্ষা আন্দোলনে দেশের সকল ছাত্র-ছাত্রী, শিক্ষকমন্ডলি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন শ্রেণী পেশাজীবীর মানুষও এই আন্দোলনে একাত্মতা পোষন করে। পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর এই শিক্ষা নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনটা সার্বজনীন আন্দোলনে রূপ লাভ করে। এই শিক্ষা আন্দোলন ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে বড় প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছিল। দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বাধীনতার প্রতি গভীর আলোড়ন সৃষ্টিতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে ভূমিকা পালন করেছে ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন।
কিন্তু দুঃখের বিষয় বর্তমান তরুণ প্রজন্মের অনেকে ১৯৬২ সালের সার্বজনীন এই শিক্ষা আন্দোলন সম্পর্কে অনেকে কিছু জানে না। জানে না শিক্ষা আন্দোলনের গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস ও গুরুত্বতা। শিক্ষা আন্দোলনের ইতিহাস তাৎপর্য ও মাহাত্ম্য তরুন প্রজন্ম সহ সবশ্রেণীর মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ুক। এটাই হোক এই বছরের শিক্ষা দিবসের মূল প্রতিপাদ্য।
* শাহ মুনতাসির হোসেন মিহান, শিক্ষার্থী
নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়










