পণ্য বা সেবা ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে ‘ক্যাশ ব্যাক’ শব্দটির বয়স ২০ বছরের বেশি নয়। গত শতকের একেবারে শেষের দিকে আমেরিকা ও ইউরোপের কিছু কোম্পানি নতুন পণ্যের চাহিদা তৈরি এবং ব্যবসায় সম্প্রসারণের উদ্দেশ্যকে মাথায় রেখে ক্যাশ ব্যাককে কৌশল হিসেবে নেয়। কিন্তু ‘ক্যাশ ব্যাকের’ প্রচলন তারও এক যুগ আগে। ১৯৮৬ সালে শুরুটা হয়েছিল আমেরিকার একটি ক্রেডিট কার্ড কোম্পানির মাধ্যমে। ক্রেডিট কার্ডের প্রচলন ও ব্যবহার বৃদ্ধির কৌশল হিসেবে ক্যাশ ব্যাক অফার ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে, ক্যাশ ব্যাক ধারণার উদ্ভব হয় ‘রিওয়ার্ড অফারের’ ধারণা থেকে। আঠারো শতকে ইউরোপ ও আমেরিকার বাজারে রিওয়ার্ড অফারের প্রচলন ছিল। এটি মূলত রিওয়ার্ড পয়েন্ট ভিত্তিক ধারণা, যেটি ক্রয়ের উপর নির্ভর করে। বর্তমানেও বিশ্বের নামিদামি কোম্পানি এ রিওয়ার্ড অফার চালু রেখেছে। বিশেষ করে টেলকম, সুপারশপ, ব্রান্ড শপগুলোতে রিওয়ার্ড অফারের প্রচলন অনেক বেশি।

বাংলাদেশেও ক্যাশ ব্যাক চালু হয় ক্রেডিট কার্ড কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে। সময়ের পরিক্রমায় ক্যাশ ব্যাক প্রোগ্রাম বা কৌশলটিকে জনপ্রিয় করে মোবাইল মানি কোম্পানি। বর্তমানে এটি অনেক বেশি আলোচিত ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোর লোভনীয় সব ক্যাশ ব্যাক অফরের কারণে। আদর্শিকভাবে লাভের একটি অংশ ক্যাশ ব্যাক হিসেবে গ্রাহকদের জন্য অফার হিসেবে দেয়া হতো। পরবর্তীতে কোম্পানি বা বিক্রেতার প্রচারণার বাজেট থেকেও ক্যাশ ব্যাক করা শুরু হয়। এর পর বলা হয়, কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন থেকেও ক্যাশ ব্যাক দেয়া হচ্ছে। যদিও এটির অর্থনৈতিক মূল্যায়ন নিয়ে বিতর্ক আছে। কিছু কিছু অন লাইন প্ল্যাটফর্মে ৯০% পর্যন্ত ক্যাশ ব্যাক বা ক্রয় মূল্যের চেয়ে বেশি ক্যাশ ব্যাক দেয়াতেই জনমনে ক্যাশ ব্যাক নিয়ে সন্দেহ, বিতর্ক, আলোচনা-সমালোচনার জন্ম হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে, ৯০% ক্যাশ ব্যাক বা ক্রয় মূল্যের চেয়ে বেশি ক্যাশ ব্যাক বাস্তব সম্মত কিনা, বা এটির অর্থনৈতিক মূল্যায়ন কেমন?

বাজারে কয়েক ধরনের ক্যাশ ব্যাক অফার রয়েছে। এক অর্থে রিওয়ার্ড পয়েন্ট পদ্ধতি এক ধরনের পরোক্ষ ক্যাশ ব্যাক। উদাহরণস্বরূপ, মোবাইল ফোন অপারেটর গ্রামীণফোনের অ্যাপসের ফ্ল্যাক্সিপ্ল্যান থেকে যে কোনো প্যাকেজ ক্রয় করলে রিওয়ার্ড পয়েন্ট জমা হয়। জমাকৃত রিওয়ার্ড পয়েন্ট দিয়ে পুনরায় ডাটা অথবা কল মিনিট ক্রয় করা যায়। এক্ষেত্রে রিওয়ার্ড পয়েন্টটি পরোক্ষভাবে নগদ অর্থ বা ক্যাশের ভূমিকা পালন করছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ রিওয়ার্ডের জন্য ব্যয়িত অর্থের যোগানের উত্স কী? নিশ্চিতভাবে এটি হওয়া উচিত কোম্পানির প্রচরণার ব্যয় অথবা মুনাফার অংশ। 

আরেক ধরনের ক্যাশ ব্যাক আছে যেটি সরাসরি নগদ বিনিময় যোগ্য অর্থে রূপান্তর করা যায়। এটিকে তরল অর্থও বলা চলে। মোবাইল মানি বা মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল কোম্পানিগুলো এ ধরনের ক্যাশ ব্যাক দিয়ে থাকে। উদাহরণস্বরূপ বিকাশের কথা বলা যায়। বিকাশের মাধ্যমে লেনদেন করলে ক্ষেত্র বিশেষে নির্দিষ্ট পরিমান ক্যাশ ব্যাক পাওয়া যায়। যে কোনো ব্যক্তি চাইলে প্রাপ্ত এ ক্যাশ ব্যাক ক্যাশ আউটের মাধ্যমে নগদ টাকায় রূপান্তর করতে পারবেন। বিপরীত চিত্র অনলাইন প্ল্যাটফর্মের ক্যাশ ব্যাকের। প্রায় সব ক্ষেত্রেই অনলাইন কেনা কাটার ওপর বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান বা প্ল্যাটফর্ম থেকে যে ক্যাশ ব্যাক দেয়া হয় সেটিকে সরাসরি নগদ অর্থে রূপান্তর করা যায় না। প্রাপ্ত ক্যাশ ব্যাক দিয়ে  কোম্পানি বা প্ল্যাটফর্ম থেকেই অন্য যে কোন অথবা নির্ধারিত পণ্য ক্রয় করতে হয়। পুরো বিষয়টি নির্ভর করে প্ল্যাটফর্মটির ব্যাবসায়িক পলিসির ওপর। এ পর্যন্ত বিতর্ক নেই। আলোচনার জন্ম ক্যাশব্যাক অফারের ধরন নিয়ে। অনেকের প্রশ্ন অন লাইন প্ল্যাটফর্মগুলো কীভাবে ১০%-৯০% পর্যন্ত ক্যাশ ব্যাক দিয়ে থাকে? ক্ষেত্র বিশেষে দেখা যায়, কোন একটি নিদিষ্ট পণ্যে ক্যাশব্যাকের পরিমান শো-রুম বা খুচরা ব্যবসায়ীর ক্রয়মূল্যের চেয়েও বেশি! এটির বাস্তবতা কি না বা এতে উত্পাদনকারী লাভ করে কূভাবে? প্রশ্ন উঠে, ক্যাশ ব্যাকের এ অর্থের যোগান আসে কোথা থেকে? অনেক সমালোচনাকারী এটিকে ফ্রড মানির কার্যকারণ বলেও আখ্যায়িত করেন। বাস্তবে আসলে বাংলাদেশে কী হচ্ছে ক্যাশ ব্যাক নিয়ে?

ই-কমার্সে ক্যাশ ব্যাকের প্রচলন বেশি কেন? 

সহজ অর্থে, তথ্য প্রযুক্তিভিত্তিক বেচাকেনার প্ল্যাটফর্মই হচ্ছে ই-কমার্স। পৃথিবী জুড়ে ই-কমার্স কেনা বেচার স্বাভাবিক ও জনপ্রিয় মাধ্যম হলেও বাংলাদেশে সে অর্থ জনপ্রিয় বা আস্থা অর্জণ করতে পারেনি। তবে, করোনাকালীন অনলাইনে ক্রয়-বিক্রয় অনেকগুণ বেড়েছে। প্রতিযোগিতামূলক মার্কেটে নতুন ক্রেতা তৈরি করার পাশাপাশি ধরে রাখার জন্যই মূলত ক্যাশ ব্যাক অফার। ধরুন আপনি একটি মোটরসাইকেল কেনার কথা ভাবছেন বা বাজেট তৈরি করেছেন। এমন সময় কোন একটি ই-কমার্স বিজ্ঞাপনে দেখলেন যে কোম্পানিটি নির্দিষ্ট ব্রান্ডের মোটর সাইকেলের ওপর ৫০% বা কম বেশি ক্যাশ ব্যাক দিচ্ছে। আপনি ই-কমার্সের নিয়মিত ক্রেতা না হলেও অফারটির কারণে প্ল্যাটফর্মটিতে লগইন করে অফারটির ভালোমন্দ দেখতে চাইবেন। লগইনের মাধ্যমে আপনি প্ল্যাটফর্মটির পটেনশিয়াল ক্রেতা হিসেবে নিবন্ধন করলেন। এটি সংশ্লিষ্ট ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানির প্রাথমিক সাফল্য। অফারটি সন্তোষজনক হলে আপনি হয়ত মোটরসাইকেলটি সেখান থেকেই ক্রয় করবেন। প্রাপ্ত ক্যাশ ব্যাকের টাকা দিয়ে একই প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য কয়েকটি পণ্যও ক্রয় করতে পারেন। ক্যাশ ব্যাক একটি অন্যতম কারণ, যার মাধ্যমে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো এভাবে নতুন ক্রেতা পায়। এখানে ক্যাশ ব্যাকের একটি অর্থনৈতিক প্রভাবও লক্ষ্য করা যায়। ক্যাশ ব্যাকের অর্থ দিয়ে ক্রেতা অন্য এক বা একাধিক পণ্য ক্রয় করে যেটি তার জন্য খুব দরকরি কিছু না। এর কারণে নতুন পণ্যের চাহিদা তৈরি হয়, বিক্রেতার বিক্রি বৃদ্ধি পায়, উত্পাদনকারী ইনসেনটিভ পায়, যার প্রভাব সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক। তবে, অর্থনীতিতে প্রভাবটি ইতিবাচক হবে নাকি নেতিবাচক হবে তা নির্ভর করবে  ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের পলিসি, সততা, কর্তৃপক্ষের রেগুলেশন, পণ্যের মান ইত্যাদির ওপর। বাস্তবিক অর্থে ক্যাশ ব্যাকের অর্থটি যদি মুনাফার অংশ বা প্রচারণা ব্যয় থেকে আসে তাহলে সমস্য নেই। 

এটি সহজে অনুমেয় যে ক্যাশ ব্যাকের পরিমাণ যখন ৪০%-৯০% তখন এটি কোনোভাবে মুনাফার অংশ হওয়ার কথা নয়। একটি চূড়ান্ত দ্রব্যে নরমালি এত মুনাফা হয় না। আর এটি যদি কোম্পানির প্রচারণার ব্যয় হয় তাহলে যে পরিমান ক্যাশ ব্যাক যাচ্ছে সে পরিমান অর্থ বাস্তবে বিনিয়োগ থাকতে হবে। কারণ, বাংলাদেশে ই-ভ্যালির যে মডেলটি আমরা দেখেছি সেরকম ই-কমার্স মডেলগুলো এক ধরনের ‘বাবল বিজনেস মডেল’। ক্যাশ ব্যাকের সম পরিমান বিনিয়োগ যদি বাস্তবে না থাকে তাহলে  এ বিজনেস মডেল টেকসই হবে না। ক্যাশব্যাকের চাপেই এক সময় কোম্পানি পথে বসবে। শেষোক্তে ভেন্ডরদেরকে পেমেন্ট দিতে না পারলে ক্রেতাদেরকে পণ্য ডেলিভারি দেয়া সম্ভব হবে না বা দেরি হবে। আরেকটি বিষয় অনেক বেশি গুরত্বপূর্ণ, এ ধরনের মডেলের ছায়ায় কেউ ক্যাশ ব্যাকের এসব অর্থ আন রেগুলেডেট ই-মানিতে কনভার্ট করছে কিনা অথবা সেগুলো পাচার হচ্ছে কিনা সেটাও নিয়ন্ত্রণ সংস্থাগুলোকে দেখতে হবে। ওয়ার্ল্ড ইকোনোমিতে আন রেগুলেটেড মানির প্রচলন কম দেখা যায় না। তবে, এর নিয়ন্ত্রণ অতীব জরুরি। তা না হলে নির্দিষ্ট খাত ধসে পড়ে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। ডেসটিনি, ইউনিপে টু-সহ অনেক এমএলএম কোম্পানি এর প্রমাণ। তবে, নিশ্চিতভাবে ই-কমার্স মডেলগুলো এমএলএম থেকে আলাদা।

ক্যাশ ব্যাক ও মুদ্রাস্ফীতি

বাণিজ্যিক ব্যাংক নোটের বাইরে মূলত দুই ধরনের অর্থ দেখা যায়। একটি হচ্ছে পণ্য বা সম্পদভিত্তিক অর্থ যেটি মূলত স্বর্ণের বিপরীতে অর্থনীতিতে থাকে। অন্যটি হচ্ছে Fiat Money; এটি হচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রয়োজনে যে টাকা ছাপায়। Fiat Money অর্থনীতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মনিটারি এবং ফিসক্যাল পলিসির সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। এখানে মুদ্রাস্ফীতে Fiat Money-এর ভূমিকা বেশি। এক্ষেত্রে অর্থনীতিতে ক্যাশ ব্যাকের পরিমান উল্লেখযোগ্যহারে বৃদ্ধি পেলে নিশ্চিতভাবে এটি মুদ্রাস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করবে। উল্লেখযোগ্য পরিমান বলতে অর্থনীতিতে মোট অর্থ প্রবাহকে প্রভাবিত করতে পারে এমন অংককে বুঝাচ্ছে। বর্তমানে যে হারে ডিজিটাল মানির প্রচলন বাড়ছে অদূর ভবিষ্যতে এটি মোট অর্থ প্রবাহে প্রভাবক হিসেবে ভূমিকা রাখার সম্ভাবনাই বেশি। চ্যালেঞ্জের বিষয় হবে, মুদ্রাস্ফীতি সম্পর্কে পূর্বানুমান করার সময় বা এ সম্পর্কিত অন্য যে কোনো পরিকল্পনা নেয়ার ক্ষেত্রে ক্যাশ ব্যাকের প্রভাব নিরূপণ করা ।

উদাহরণস্বরূপ, বাস্তবতা পর্যালোচনা করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যদি মনে করে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু পলিসি হাতে নিবে। সেক্ষেত্রে কয়েক ধরনের পলিসি নিয়ে থাকে। একটি হচ্ছে ঋনের সুদের হার বাড়িয়ে অর্থনীতিতে অর্থের প্রবাহ কমানো। 

প্রচলিত কৌশলটির সঙ্গে ‘বাবল বিজনেস’ মডেল বা ক্যাশ ব্যাকের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা? উত্তর হচ্ছে আছে! অর্থনীতিতে কেনাবেচার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য হারে ক্যাশ ব্যাকের প্রচলন হয়ে থাকে তাহলে সংকোচনমূল মুদ্রানীতিতে এর প্রভাব পড়বে। সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো যদি তাদের প্রদত্ত ক্যাশ ব্যাকের সমপরিমাণ অর্থ নগদে বিনিয়োগ না করে তাহলে সেটি মুদ্রাস্ফীতিকে ত্বরান্বিত করবে। সেক্ষেত্রে মুদ্রস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের কৌশলটি সঠিকভাবে কাজ করবে না। যার মূল ভুক্তভোগী হবে আপামর নিম্ন আয়ের মানুষ। মাঝে থেকে কোম্পানিগুলো মোটা অংকের মুনাফাও করে নিতে পারবে। 

৫০-৯০% ক্যাশ ব্যাকের রহস্য কী?

আপাত মনে হচ্ছে, নতুন গ্রাহক ধরার জন্য বা অফলাইনের ক্রেতাদেরকে অনলাইনে আনার জন্য এটা প্রচারণার কৌশল ছাড়া অন্য কিছু নয়। সাধারণত কোনো পণ্যেই ৫০%-৯০% মুনাফা হওয়ার কথা না। যদিও ই-কমার্সের পণ্যের ক্রয়মূল্য স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম। কারণ, এসব ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগী নেই বললেই চলে। সরাসরি উত্পাদনকারী বা বিক্রেতার সঙ্গে ক্রেতাদের যোগসূত্র স্থাপন করে দেয় অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলো। তাহলে কি কোম্পানিগুলো লসে বিক্রি করছে? সম্ভবত না! পণ্য অর্ডার করার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাশ ব্যাক পাওয়ার জন্য গ্রাহককে পুরো টাকাই পরিশোধ করতে হচ্ছে। তবে, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই পণ্যটি হাতে পেতে গ্রাহককে বেশ কিছু দিন অপেক্ষা করতে হচ্ছে। পণ্যের মূল্য পরিশোধ এবং পণ্যের ডেলিভারির মাঝের সময়টুকুর সর্বোচ্ছ ব্যবহার করে প্ল্যাটফর্মগুলো। কম সময়ে গ্রাহকদের এ টাকার অনেক ধরনের ব্যবহার করা যায়। কোম্পানি চাইলে স্বল্প সময়ে এ টাকা বিনিয়োগ করে রাখতে পারেন। চাইলে ব্যাংক লোনের বিপরীতে জমা করে মোটা অংকের সুদ এড়িয়ে যেতে পারে। আর ক্যাশব্যাকের টাকা দিয়ে অন্য যে সকল নির্দিষ্ট বা অনির্দিষ্ট পণ্য গ্রাহক কিনছেন সেগুলোতে প্রফিট মার্জিন তুলনামূলক বেশি থাকে। এখানে, কোনো পণ্যে যদি ৫০%-৯০% ক্যাশ ব্যাক দিয়ে থাকে তাহলে এর একটি অংশের যোগান আসে পণ্যটির বিক্রিত মূল্যের মুনাফা থেকে, আরেকটি অংশ আসে ক্যাশ ব্যাকের টাকা দিয়ে যে পণ্যটি ক্রয় করা হচ্ছে সেটির মুনাফার অংশ থেকে, আরেকটি অংশ আসে কোম্পানির প্রচারণা ব্যয় থেকে। এ ব্যয়ের একটি শেয়ার উত্পাদনকারী বা সরবরাহকারীও বহন করতে পারেন। মূল বিষয়টি হচ্ছে ক্যাশ ব্যাকের পরিমানের সঙ্গে যদি কোম্পানির বিনিয়োগ বা তারল্যের জোগানের ফারাকটি অনেক বেশি হয়ে যায় তাহলে এক সময় কোম্পানিটি ধসে পড়ার আশংকা আছে। কারণ, এটি নিয়ন্ত্রণহীণভাবে চললে এক সময় ভেন্ডর বা উত্পাদকারীদেরকে পণ্যের মূল্য পরিশোধ করা যাবে না। এর আগে আরেকটি ঘটনা নিশ্চিতভাবে ঘটবে, সেটি হলো ক্রেতাদের পণ্য ডেলিভারি দিতে বিলম্ব হবে। বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত এটিই হয়েছে। 

বাংলাদেশে ই-কমার্সের বয়স এবং ব্যাপ্তি খুব বেশি নয়। ই-কমার্সের জন্য সরকারি নীতিমালা রয়েছে। যদিও কেউ কেউ মনে করছেন এ  নীতিমালাটিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব মোকাবেলার জন্য বাস্তবসম্মত নির্দেশনা নেই। বাস্তব কারণেই বিশ্বের সঙ্গে তাল মেলাতে হলে ই-কমার্সের প্রসার জরুরি। এক্ষেত্রে অনলাইন প্ল্যাটফর্মগুলোকে অনেক বেশি সতর্ক ও নিয়ম মাফিক চলতে হবে। তা না হলে ই-কমার্সের ভবিষ্যত ভালো হবে না।

মো. নূর  ই আলম

বিজনেস এনালিস্ট, ব্র্যাক মাইক্রোফাইন্যান্স

alam19195@gmail.com