দারিদ্র্যের কারণ

কবি তারাপদ রায় তার দারিদ্র্যরেখায় যেভাবেই সংজ্ঞায়িত করুন না কেন, অর্থনীতিবিদরা গণদারিদ্র্যের আকার আর প্রতিকার নিরূপণে ব্যাপক গবেষণা করছেন বহুদিন ধরে। বিষণ্নবিদ্যার অপবাদ নিয়েও অর্থনীতিই একমাত্র সমাজবিজ্ঞান, যেখানে ব্যক্তি দারিদ্র্যের বিজ্ঞানসম্মত গবেষণা হয়ে আসছে গত শতকের মধ্যভাগ থেকে। কীর্তিমান অর্থতত্ত্ববিদ আর্থার লুইস, গনার মার্ডল, থিওডোর সুলয, অমর্ত্য সেন থেকে আজকের টমাস পিকেট্টি আর অভিজিৎ ব্যানার্জি প্রমুখ গবেষক দারিদ্র্যের হেতু এবং নিরসন নির্ণয়ে সহজে বাস্তবায়নযোগ্য এবং সর্বজনীন বোধগম্য একটি প্রতিপাদ্যের অন্ব্বেষণ করেছেন সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে। 

নিঃস্ব, বঞ্চিত, অসহায়, সর্বহারা আর সর্বস্বহীন যে বিশেষণের বিমর্ষ তুলিতেই এই মানবিক প্রবঞ্চনার প্রতিকৃতি আঁকা হোক না কেন, উন্নয়ন অর্থনীতিবিদরা দারিদ্র্যের যে মৌলিক প্রশ্নটি বিশ্লেষণ করেছেন তা হলো, ‘সমাজের কিছু মানুষ দরিদ্র কেন?’ এই সহজ প্রশ্নের উত্তরে শাস্ত্রীয় ও মার্ক্সীয় কিছু প্রান্তিক ও উদগ্র নিদান ব্যতিরেকে সমাজবিজ্ঞানসম্মত যে ব্যাখ্যা অর্থনীতির গবেষণায় প্রাধান্য পেয়েছে, তা মূলত দুই ধরনের।  

১. দারিদ্র্যের কারণ নির্ণায়ক প্রথম ব্যাখ্যায় মানুষের অন্তর্গত স্বভাব যেমন ব্যক্তিগত দক্ষতা, কর্মক্ষমতাসহ অন্যান্য যোগ্যতার তারতম্যের কারণে কিছু মানুষ নিম্নতম আয় ও অনুৎপাদনশীল কর্মে নিয়োজিত হতে বাধ্য হওয়ায় তারা দরিদ্র। এই ব্যাখ্যায় একজন দরিদ্র মানুষ তার নিজের অযোগ্যতা আর অদক্ষতার কারণেই দরিদ্র।   

২. কবির কল্পনায় নয়, বরং মানুষের বাস্তব জীবনে দারিদ্র্যরেখার অধতলে অবস্থানের কারণ নির্ণয়ে অর্থনীতিবিদরা যে দ্বিতীয় ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন, তার ভিত্তি হলো দারিদ্র্য ফাঁদের ধারণা। এই তত্ত্বানুসারে প্রারম্ভিক সম্পদহীনতার ফলে কিছু মানুষ সমাজে উঁচু মানের আয় এবং উৎপাদনশীল কর্মে নিয়োগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থাকে। দারিদ্র্যের এ ব্যাখ্যায় পূর্বাবস্থিত সম্পদের অনুপস্থিতির কারণেই কিছু মানুষ দরিদ্র। অর্থাৎ একজন মানুষ তার স্বভাবজাত নিজস্ব আনুকূল্যের অভাবে নয়, বরং সামাজিক প্রতিকূলতার কারণেই দরিদ্র।

দারিদ্র্য অর্থনীতির এই দ্বিজাতীয় বিশ্লেষণে দুটি প্রতিপাদ্য বিষয় প্রণিধানযোগ্য। এক. সমাজে সব মানুষ কোনো না কোনো কর্মে নিয়োজিত। দরিদ্ররা তাদের অনিয়মিত এবং নিরর্থক কাজের বিনিময়ে যথার্থ আয় থেকে বঞ্চিত হওয়ার কারণেই তারা দরিদ্র। দুই. সব দারিদ্র্যই সমসুযোগের অনুপস্থিতির পরিণতি। ব্যক্তিগত দক্ষতার অভাব অথবা উত্তরাধিকারী সম্পদের পূর্বানুপস্থিতি—যে কারণেই হোক, দারিদ্র্য মানুষের প্রতিকূল পরিস্থিতিজাত।

দারিদ্র্যের বাংলাদেশী প্রকরণ 

সম্প্রতি সমাজবিজ্ঞান গবেষণা নেটওয়ার্ক এবং লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের কয়েকজন অর্থনীতিবিদ (‘Why Do People Stay Poor?’ Clare Balboni, Oriana Bandiera, Robin Burgess, Maitreesh Ghatak and Anton Heil. March 10, 2020) দারিদ্র্যের এই দ্বিবর্গীয় তাত্ত্বিক ব্যাখ্যার ব্যবহারিক কার্যকারিতা সরজমিনে প্রতিপাদনের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশের দরিদ্রতম অঞ্চলের বেশকিছু গ্রামীণ মানুষের জীবনভিত্তিক গবেষণার ফল প্রকাশ করেছেন। আন্তর্জাতিক মানের এ গবেষণা বিশ্বের বরেণ্য অর্থনীতিবিদদের ব্যাপক মনোযোগ আকর্ষণ করেছে।      

বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে ১৩ শতাধিক গ্রামের ২৩ হাজার জরিপাধীন পরিবারের মধ্যে ছয় হাজার অতিদরিদ্র গৃহস্থালি সমন্বিত একটি ব্র্যাক প্রকল্পের আওতাধীন গ্রামীণ প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর পেশাগত দ্বৈতাচারজাত সম্পদ বণ্টনের দ্বিপ্রকারীয় বৈশিষ্ট্যের পটভূমিতে গবেষক অর্থনীতিবিদরা দারিদ্র্যের কারণ নির্ণয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি নির্ধারণের প্রয়াস পেয়েছেন তা হলো:

‘নিঃসম্বল আর অনর্থক কর্মে নিয়োজিত ব্যক্তিগত কর্মদক্ষতার অভাবেই কি মানুষ দরিদ্র, নাকি প্রাকবিদ্যমান দারিদ্র্যজনিত উৎপাদনশীল সম্পদ আহরণের মাধ্যমে আর্থিক অবস্থান্তরের অক্ষমতার কারণেই মানুষ দরিদ্র?’

এ প্রশ্নের একটি প্রায়োগিক উত্তর অন্বেষণে ব্র্যাক প্রকল্পাধীন বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের চরম দরিদ্র জনগণের জীবনযাপনভিত্তিক অর্থনীতির এই তৃণমূল গবেষণা সারা দেশের দারিদ্র্য দূরীকরণ নীতিমালা প্রণয়নে সহায়ক হবে বলে আশা করা যায়।    

বাংলাদেশের অধিকাংশ দরিদ্র মানুষের মতো গবেষণার আওতাধীন এই গ্রামীণ জনগণের পেশাগত জীবনধারণ বেশ সরল, যা আর্থিক সম্পদাধিকারের সঙ্গে সম্পৃক্ত। দুই ধরনের পেশায় নিয়োজিত জনগণের একদল জমি আর গবাদিপশুর মালিক, যারা নিজেদের শ্রম সংযুক্তির মাধ্যমে আয় সংবর্ধনে সক্ষম। অন্যদল গণি মিয়াদের শ্রেণীভুক্ত অসহায় আর সম্পদহীন, যাদের নিজের জমি নেই এবং অন্যের জমি চাষেরও সম্বল নেই। মালিক শ্রেণীভুক্ত অধিক আয়ের জনগণের জমিতে তারা চাষাবাদ আর গোসম্পদ সংরক্ষণে অদক্ষ শ্রমিক হিসেবে খুচরা কর্মে অনিয়মিতভাবে স্বল্প মজুরিতে নিয়োজিত। দেখা যাচ্ছে গ্রামীণ এই জনগণের মধ্যে অর্থকরী সম্পদের বণ্টন দ্বিপ্রকারীয় অর্থাৎ এক শ্রেণী সম্পদের অধিকারী, যাদের শ্রম অধিকতর অর্থকরী। আর অন্য শ্রেণী সম্পদহীন খুচরা কারবারি, যারা অনিয়মিত শ্রমের বিনিময়ে অনর্থক সময় অপচয়কারী। 

অর্থকরী মূলধন যেমন হাঁস-মুরগি, গবাদিপশু, যন্ত্রপাতি, যানবাহন এবং জমির ওপর মালিকানাই জরিপভুক্ত পরিবারগুলোর দারিদ্র্য সীমারেখা আর জীবনযাপনের বৃত্ত নির্ধারণ করে। এসব গরিব পরিবারের অর্থকরী সম্পদ বণ্টনের দ্বিপ্রকারীয় বৈশিষ্ট্য আর এ-সংশ্লিষ্ট আর্থিক, ভোগ, বিনিয়োগ ও নিয়োগ তাত্পর্য  সরজমিনে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ, পরীক্ষণ, নিরীক্ষণ এবং বিশ্লেষণের পর অর্থনীতিবিদরা বাংলাদেশের গণদারিদ্র্যের আকার, প্রকার ও নিরসনের উপায় নির্ণয়ে নিম্নে বর্ণিত উপসংহারে উপনীত হয়েছেন।

১. বাংলাদেশের সমাজে দারিদ্র্যের ফাঁদ মাকড়সার জালের মতোই চতুর্দিকে ব্যাপ্ত। দরিদ্র মানুষ ফলপ্রসূ বিনিয়োগ সুযোগ এবং অর্থকরী সম্পদের অভাবে অনুৎপাদনশীল কর্মের নিম্নতম আয়ে নিয়োজিত থাকার কারণেই দারিদ্র্যের খপ্পরে পতিত। 

২. দারিদ্র্য বাংলাদেশের মানুষের স্বভাবজাত অন্তর্গত কোনো বৈশিষ্ট্য নয়। ব্যক্তিগত বদঅভ্যাস, অপ্রত্যাশিত দুর্ভাগ্য এবং চারিত্রিক অসদাচরণ মানুষের দারিদ্র্য সীমারেখা নির্ধারণে মুখ্য নিয়ামকের ভূমিকা পালন করে না।   

দারিদ্র্যের বাংলাদেশী সীমান্ত নির্ধারণ

গণদারিদ্যের সংজ্ঞায় ওই দ্বিজাতীয় বিভাজনের উপসংহারভিত্তিক এই অর্থনৈতিক গবেষণায় নিরূপিত হয়েছে যে বাংলাদেশের অতিদরিদ্র একটি পরিবারের দারিদ্র্যসীমান্ত পার হওয়ার জন্য প্রয়োজন মাত্র ৯ হাজার ৩০৯ টাকা। স্মরণযোগ্য যে বাংলাদেশে একটি গরুর মধ্যমা মূল্য প্রায় ৯ হাজার টাকা। গবেষণাধীন প্রায় এক-তৃতীয়াংশ চরম দরিদ্র জনগণের অভাবের তীব্রতা এতটাই প্রকট যে দারিদ্র্যখেয়া পারের জন্য প্রয়োজনীয় ৯ হাজার ৩০৯ টাকা দিয়ে তারা জীবনের তরঙ্গবিক্ষুব্ধ নির্জলা নদীটি আর পার হতে পারে না। চতুর্থ বর্ষে অনেকেরই এই মূল্যবান সম্পদের এক-ষষ্ঠাংশ হারিয়ে যায়। আর যারা দারিদ্র্য উপদ্রুত প্রান্তরে নিরূপদ্রবে পথ চলতে পারে, তাদের দারিদ্র্যবিনাশক সম্পদ চার বছরের প্রান্তে এক-দশমাংশের বেশি বৃদ্ধি পায়। দেখা যাচ্ছে যে চরম দারিদ্র্যের প্রান্তিকতা কাটিয়ে ওঠার নিরেট প্রয়োজনীয় অর্থের জোগান সত্ত্বেও সব দরিদ্র মানুষ মনজিলে মকসুদে পৌঁছতে পারে না। দারিদ্র্য নিরসনের প্রায়োগিক গবেষণায় অপ্রত্যাশিত পরিণতির এই রকম যথেচ্ছাচারিতা শুধু পরিসংখ্যান সমীকরণের মান নির্ণায়ক বিচ্যুতি নয়, বরং দারিদ্র্যের সব সামাজিক ও আর্থিক নিয়ামকের সামগ্রিক প্রতিফলনের তাত্ত্বিক সীমাবদ্ধতা।

সমাধানযোগ্য সমীকরণের সংখ্যাগত বিচ্যুতি সত্ত্বেও এই গবেষণালব্ধ ফলাফল অনুযায়ী, বাংলাদেশে পরিবারপ্রতি চরম দারিদ্র্যসীমা উত্তরণের এককালীন বিনিয়োগ যদি ৯ হাজার ৩০৯ টাকা হয় তাহলে জরিপাধীন ছয় হাজার প্রান্তিক গৃহস্থালির সামগ্রিক দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য প্রয়োজন হবে মাত্র ৫ কোটি ৫৮ লাখ ৫৪ হাজার টাকা। প্রতি পরিবারে গড় সদস্য সংখ্যা তিনজন হিসাবে অনুমান করা হলে বাংলাদেশে একজন নিঃসম্বল ব্যক্তির চরম দারিদ্র্য দূর করতে প্রয়োজন হবে মাত্র ৩ হাজার ১০৩ টাকা।

আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর প্রাক্কলন অনুযায়ী বাংলাদেশের জনগণের ১২ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় দুই কোটি লোক এখনো চরম দারিদ্র্যসীমার নিচে অবস্থান করছে। অর্থনৈতিক গবেষণালব্ধ জনপ্রতি ৩ হাজার ১০৩ টাকা হিসাবে এসব নিঃস্ব লোকের চরম দারিদ্র্য নিরসনের জন্য প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পরিমাণ টাকার অংকে মাত্র ৬ হাজার ১৩২ কোটি ৩৭ লাখ ৩৮ হাজার ৬৫৪ টাকা। আপাত বিশাল অংকের দুই কোটি জনগণের চরম দারিদ্র্য বিমোচনের জন্য প্রয়োজনীয় এই বিনিয়োগের পরিমাণ বর্তমান অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়াধীন সরাসরি দারিদ্র্য দূরীকরণ খাতে বরাদ্দকৃত ১ লাখ ১৬ হাজার ৯১ কোটি টাকার মাত্র ৫ শতাংশ।   

অর্থহীন দারিদ্র্যের অনর্থক অপচয়

গণদারিদ্র্যের সংকট নির্ণয়ে প্রাচীন ও দীর্ঘমেয়াদি এ রকম সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও গবেষক অর্থনীতিবিদরা বাংলাদেশে দারিদ্র্যজাত সম্পদ অপবণ্টনের সমসাময়িক আর্থিক পরিমাণ নির্ণয়ের প্রয়াস পেয়েছেন। সম্পদের ওই অপবণ্টন মূলত উৎপাদন উপকরণ তথা শ্রম ও পুঁজির ভারসাম্যহীন ব্যবহারজাত। অনুকূল সুযোগের অভাবে যথাযথভাবে উপযুক্ত পেশা নির্বাচনের অপারগতায় জরিপাধীন দরিদ্র পরিবারগুলো ২৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকার সমপরিমাণ অপবণ্টিত আর্থিক সম্পদের অবক্ষয়ের শিকার হয়। অপব্যয়িত এই সমষ্টিগত সম্পদ যদি প্রতি চরম দরিদ্রজনের মধ্যে ভাগ করে দেয়া যায় তাহলে জনপ্রতি মাথাপিছু আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৫ হাজার ৩৮৩ টাকা, যা দারিদ্র্যসীমান্ত অতিক্রমণের জন্য জনপ্রতি প্রয়োজনীয় অর্থের প্রায় পাঁচ গুণ! চরম দারিদ্র্যের অর্থনৈতিক অপচয় নিঃসন্দেহে প্রচণ্ড এবং প্রকাণ্ড। আর্থিক সম্পদ অপবণ্টনের কারণে দারিদ্র্যজনিত অনর্থক অপচয় রোধের মানবিক বাধ্যবাধকতা ছাড়াও অর্থনৈতিক দক্ষতার বিষয়টি এতটুকুও অনুল্লেখযোগ্য নয়।   

দারিদ্র্য নিরসনের নীতিনির্ধারণী উপসংহার

আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদদের বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্যসংক্রান্ত এই প্রায়োগিক গবেষণালব্ধ নিম্নবর্ণিত ফলাফলের নীতিনির্ধারণী তাত্পর্য প্রণিধানযোগ্য। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নকামী একটি দেশের জন্য একাধিক এই উপসংহারের অর্থনৈতিক সংশ্লেষ স্থান ও কাল নির্বিশেষে যথেষ্ট গভীর এবং ব্যাপক।

১. চরম দারিদ্র্য বাংলাদেশের মানুষের সহজাত স্বভাব নয়, পরিবেশগত এবং অনুকুল সুযোগের অভাব মাত্র।

২. দারিদ্র্যের একটি সীমান্তরেখা আছে। বাংলাদেশে এই সীমারেখার নিম্নবর্তী সম্পদের অধিকারী অসহায় পরিবার প্রারম্ভিক অনুৎপাদনশীল সম্পদের পিছুটানের কারণে দারিদ্র্য ফাঁদে আটকা পড়ে।

৩. দারিদ্র্যসীমা উত্তরণের প্রয়োজনীয় সম্পদ সহায়তা প্রদানের ক্ষমতা বাংলাদেশ সরকারের আছে। ন্যূনতম সম্পদের ফলপ্রসূ ও অর্থকরী নিয়োগের মাধ্যমে একটি দরিদ্র পরিবার উন্নত আয় সংস্থান করতে সক্ষম এবং এই আয়ের ওপর নির্ভর করেই কেবল দারিদ্র্যজালের খপ্পর থেকে তারা মুক্তি পেতে পারে।  

৪. চরম দারিদ্র্যসীমা অতিক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদের পরিমাণ দারিদ্র্যজাত আর্থিক অবক্ষয়ের তুলনায় একেবারেই নগণ্য। অর্থনীতির দক্ষতা তত্ত্বের বিচারে দারিদ্র্য দূরীকরণে তুলনামূলক এই স্বল্প পরিমাণ সহায়ক অর্থসম্পদের পৌনঃপুনিক সংস্থান বাংলাদেশসহ যেকোনো সরকারের জন্য জাতীয় কর্তব্য।   

৫. নোবেল বিজয়ী ড. অভিজিৎ ব্যানার্জিসহ অনেক প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদের গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে বাংলাদেশের দারিদ্র্য নিরসনে ক্ষুদ্রঋণ এবং অর্থসহায়তার অকার্যকারিতার কারণ এই ঋণ আর সহায়ক কর্মসূচির আর্থিক অপর্যাপ্ততা।

৬. বাংলাদেশ সরকার দারিদ্র্য বিমোচন খাতে প্রতি বছর বাজেটে যে বিপুল পরিমাণ অর্থের সংস্থান করে, এর সামান্যতম অংশে প্রায় দুই কোটি চরম দরিদ্র মানুষের দারিদ্র্য নিরসন সম্ভব। 

 

ড. ওসমান রহমান: কানাডার প্রাদেশিক সরকারের জনপ্রশাসনের অর্থনৈতিক উপদেষ্টা ও নীতিনির্ধারক