গাজায় চলমান ‘গণহত্যা’ বন্ধে বাস্তব পদক্ষেপ নিতে আন্তর্জাতিক মহলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের গাজা ও পশ্চিম তীরবিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি ফ্রান্সেস্কা আলবানেজ। মঙ্গলবার এক সম্মেলনে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, প্রতিটি রাষ্ট্রের উচিত অবিলম্বে ইসরায়েলের সঙ্গে সব ধরনের সম্পর্ক পর্যালোচনা ও স্থগিত করা। সেইসঙ্গে নিশ্চিত করা যে, তাদের বেসরকারি খাতও একই পথ অনুসরণ করে। খবর আল জাজিরা।
কলোম্বিয়ার রাজধানী বোগোটায় ৩০টি দেশের প্রতিনিধিরা এ সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন। ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধ ও গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কীভাবে আরো সুসংগঠিত করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয় এ সম্মেলনে। অংশগ্রহণকারী বহু দেশই ইসরায়েলের হামলাকে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ‘গণহত্যা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।
সম্মেলনের আয়োজন করেছে কলোম্বিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা। মূলত উন্নয়নশীল দেশগুলো অংশ নিলেও প্রতিনিধি পাঠিয়েছে স্পেন, আয়ারল্যান্ড ও চীন।
সম্মেলনে আলবানেজ জানান, ইসরায়েলি অর্থনীতি এমনভাবে গঠিত, যা দখলদারিত্ব বজায় রাখার জন্য পরিকল্পিত। বর্তমানে তা গণহত্যার পর্যায়ে পৌঁছেছে। ফিলিস্তিনপন্থী মন্তব্যের জন্য চলতি মাসের শুরুতে ফ্রান্সেস্কা আলবানেজকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে যুক্তরাষ্ট্র।
বিশ্লেষকরা বলছেন, বোগোটা সম্মেলনে অংশ নেয়া দেশগুলোর আদৌ ইসরায়েলের ওপর চাপ প্রয়োগের মতো সক্ষমতা আছে কি না, তা স্পষ্ট নয়। কারণ, ২০২৩ সালে হামাসের প্রাণঘাতী হামলার পর ইসরায়েল যে সামরিক অভিযান শুরু করেছে, তাতে গাজায় ৫৮ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে এই সম্মেলন উন্নয়নশীল দেশগুলোর নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করার ও আন্তর্জাতিক পরিসরে কণ্ঠস্বর তুলে ধরার সুযোগ সৃষ্টি করছে বলেও জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
সম্মেলনের সহসভাপতির দায়িত্বে থাকে দক্ষিণ আফ্রিকা ও কলোম্বিয়া এরই মধ্যে ইসরায়েলে কয়লা রফতানি স্থগিত করেছে। সম্মেলনে অংশ নিচ্ছে ‘হেগ গ্রুপ’ নামে একটি জোট, যার আটটি দেশ চলতি বছর ইসরায়েলের সঙ্গে সামরিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের গ্রেপ্তারি পরোয়ানার প্রতি সম্মান জানানোর ঘোষণা দেয়।
এই সম্মেলন এমন এক সময় অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সম্ভাব্য পদক্ষেপ বিবেচনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে—ইসরায়েলি বসতিগুলোর পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা, অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাধা দেয়া ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের ওপর ব্যক্তিগত নিষেধাজ্ঞা।










