ইরান-আফগানিস্তান সীমান্তের ইসলাম কালা পয়েন্টে রোজ জমে উঠছে মানবিক এক ট্র্যাজেডি। সীমাহীন অনিশ্চয়তা নিয়ে সীমান্ত পাড়ি দিচ্ছেন হাজারো মানুষ। মাত্র কয়েক মিনিট আগেও যারা ইরানের বিভিন্ন এলাকায় কাজ কর্ম করে কোনো রকম জীবন চালিয়ে নিচ্ছিলেন, তারা এখন হয়ে পড়েছেন ‘অবৈধ’ ও অবাঞ্ছিত। হেরাত সীমান্তেও একই দৃশ্য। খবর সিএনএন।

জাতিসংঘের তথ্যমতে, গত ২৪ জুন থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত মাত্র ১৬ দিনে ইরান থেকে বিতাড়িত হয়েছে পাঁচ লাখেরও বেশি আফগান নাগরিক। তেহরান বহুদিন ধরেই বলে আসছিল, তাদের দেশে কয়েক মিলিয়ন অনিবন্ধিত আফগান রয়েছে, যারা মূলত নির্মাণ, কৃষি, পরিচ্ছন্নতা বা হোটেল-রেস্তোরাঁয় শ্রমিক হিসেবে কাজ করে। মার্চ মাসে সরকার ঘোষণা দেয়—এদের দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চূড়ান্ত। কিন্তু ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘর্ষের মাত্র কয়েকদিন পর হঠাৎ করেই এই প্রক্রিয়া ভয়ানক গতিতে বেড়েছে। গ্রেপ্তার, আটক, জিজ্ঞাসাবাদ, এমনকি নির্যাতনের পর সীমান্ত দিয়ে জোরপূর্বক আফগানিস্তানের দিতে ঠেলে দেয়ার অভিযোগও উঠেছে।

ইরান দাবি করছে, সংঘর্ষ চলাকালীন ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তি করেছে এসব আফগানিরা। দেশটির সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি বলেছিলেন, ‘আমরা সবসময় অতিথিদের সম্মানের সঙ্গে রেখেছি। কিন্তু জাতীয় নিরাপত্তা আমাদের অগ্রাধিকার। এবং অবৈধ বিদেশিদের ফিরতেই হবে।’

তবে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এসব অভিযোগের পক্ষে ইরান সরকারের দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ নেই। পরিকল্পনা অনুযায়ী অননুমোদিত আফগানদের দেশছাড়া ও অভ্যন্তরীণ অসন্তোষের লক্ষ্যবস্তু করতে এসব অভিযোগ তোলা হয়েছে।