এমনটাই স্বীকার করেছেন আন্তর্জাতিক খনি শিল্পগোষ্ঠী অ্যাংলো-আমেরিকানের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ডানকান ওয়ানব্লাড। কৃত্রিম হীরার দ্রুত প্রসার ও কম দামের কারণে প্রাকৃতিক হীরার বাজার মারাত্মক ধাক্কা খেয়েছে। ফলে দরপতন ও ক্রেতাদের পরিবর্তনশীল পছন্দের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হিমশিম খাচ্ছে প্রধান কোম্পানিগুলো। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
এ পরিবর্তনের বিষয়ে ডানকান ওয়ানব্লাড বলেন, ‘আগের মন্দা পরিস্থিতির মতো এবারো বাজার দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যাশা ছিল। কৃত্রিম হীরার প্রতিযোগিতা যখন প্রথম শুরু হয়, তখনই আরো জোরদার ও কার্যকর ব্যবস্থা নেয়া উচিত ছিল। তবে বাস্তবে ঘটে যাওয়া বাজারের এ নাটকীয় পরিবর্তন আগে থেকে নিখুঁতভাবে অনুমান করা কঠিন ছিল।’
চলতি বছরের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) খনি কোম্পানিটির দেয়া প্রতিবেদন থেকে প্রাকৃতিক হীরার বাজারের সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে। এ সময়ে অপরিশোধিত হীরার দাম ৩২ শতাংশ কমে ক্যারেটপ্রতি ১০৫ ডলারে নেমে এসেছে, যা ২০২০ সালের করোনা মহামারীর সময়ের চেয়েও কম। ফলে বছরের প্রথম ছয় মাসে ডি বিয়ার্স ১১ কোটি ৩০ লাখ ডলারের নগদ লোকসান গুনেছে। অন্যদিকে তামা বা কপারের চড়া দামের ওপর ভর করে অ্যাংলো আমেরিকানের সার্বিক আয় এক-তৃতীয়াংশ বেড়ে ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে।
প্রাকৃতিক হীরার চাহিদা কমে যাওয়ার পেছনে খুচরা বিক্রেতাদের পছন্দের বড় পরিবর্তন কাজ করেছে। কৃত্রিম বা ল্যাব-গ্রোন হীরা তৈরি ও বিক্রির খরচ বেশ কম। তাই খুচরা বিক্রেতারা এতে বেশি মুনাফা ও বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন। এ তীব্র প্রতিযোগিতার মুখে বেশ কয়েকটি হীরা খনির উৎপাদন বন্ধ বা স্থগিত হয়ে গেছে। সম্প্রতি দক্ষিণ আফ্রিকার ভেনেটিয়া খনিতে সাময়িকভাবে উৎপাদন স্থগিত করার ঘোষণা দিয়েছে ডি বিয়ার্স। ওয়ানব্লাড জানান, এক বছরের মধ্যে বিশ্বের প্রাকৃতিক হীরা সরবরাহের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ বাজার থেকে উঠে যেতে পারে।
টানা লোকসানের কারণে অ্যাংলো-আমেরিকান এখন ডি বিয়ার্সকে বিক্রি করে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তিন বছরে তিনবার প্রতিষ্ঠানটির সম্পদ মূল্য কমিয়েছে।










