ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এরপর থেকেই ইসরায়েলের ওপর হামলা জোরদার করেছে দেশটি। এরই মধ্যে দুই দফায় ২৭ ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে ইরান। এতে ইসরায়েল জুড়ে ১৬ জন আহত হয়েছে। বিভিন্ন স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) বরাতে কাতারি সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরা জানিয়েছে, বিমানবন্দরের পাশাপাশি ইসরায়েলের গবেষণা কেন্দ্র, সহায়তা ঘাঁটি এবং কন্ট্রোল ও কমান্ড সেন্টারও ছিল হামলার লক্ষ্যবস্তু।

আইআরজিসি জানিয়েছে, আজ রোববার যে হামলা চালানো হয়েছে তাতে তরল ও কঠিন দুই ধরনের জ্বালানিযুক্ত ক্ষেপণাস্ত্রই ব্যবহার করা হয়েছে। এ হামলার পর ইসরায়েলের প্রধান বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো— এল আল, ইসরায়েল এয়ারলাইনস, আরকিয়া এবং ইসরাইর সব ফ্লাইট স্থগিত ঘোষণা করেছে। পরবর্তী ঘোষণা না পাওয়া পর্যন্ত শুধুমাত্র যাত্রীদের দেশে ফেরানোর জন্য ফ্লাইট চালাবে, অন্য সব ফ্লাইট বন্ধ রাখবে।

এদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইরান দুই দফায় মোট ২৭টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। প্রথম দফায় ২২টি এবং দ্বিতীয় দফায় ৫টি ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়। লক্ষ্যবস্তু হওয়া এলাকাগুলো ছিল বেশ বিস্তৃত, যা দখলকৃত সিরিয়ার গোলান মালভূমি থেকে শুরু করে ওপরের দিকে গালিলি এবং উত্তরাঞ্চলীয় ও মধ্যাঞ্চলীয় উপকূলীয় এলাকা পর্যন্ত বিস্তৃত। দশটি পৃথক স্থানে সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র অথবা বড় শার্পনেল আঘাত হেনেছে, এবং এই স্থানগুলোতে, বিশেষ করে তেল আবিব এবং হাইফা এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এই হামলাগুলোতে ঠিক কোন ধরনের ভবন আক্রান্ত হয়েছে, তা এখনো জানা যায়নি।

ইসরায়েলি চিকিৎসা পরিষেবা থেকে পাওয়া প্রাথমিক রিপোর্ট অনুযায়ী, অন্তত ১৬ জন আহত হয়েছেন। আহতদের সবাইকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত করতে চিকিৎসা কর্মীরা এখনো ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে তল্লাশি চালাচ্ছেন।