বেইজিংয়ে বৈঠকের পর অর্থনীতি, জ্বালানি, পরিবহন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন খাতে ২০টি নথিতে স্বাক্ষর করেছে রাশিয়া ও চীন। আজ বুধবার রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠকের পর এসব চুক্তি ও যৌথ ঘোষণা গৃহীত হয়। খবর আনাদোলু।
বৈঠকে দুই নেতা দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরো শক্তিশালী করা এবং সম্পর্ক গভীর করার বিষয়ে একটি যৌথ বিবৃতি গ্রহণ করেন। পাশাপাশি বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থা ও নতুন ধরনের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক গঠনের বিষয়েও আরেকটি যৌথ ঘোষণা দেয়া হয়।
বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্লাদিমির পুতিন বলেন, মস্কো ও বেইজিং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের একটি স্থিতিশীল ব্যবস্থা তৈরি করেছে। এ ব্যবস্থা বাইরের যে কোনো চাপ ও বৈশ্বিক বাজারের ওঠানামা থেকে সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।
রুশ প্রেসিডেন্ট জানান, নিজেদের জাতীয় মুদ্রা রুবল ও ইউয়ানের মাধ্যমে বাণিজ্য পরিচালনা করায় দুই দেশের অর্থনৈতিক সহযোগিতা বাইরের প্রভাব থেকে মুক্ত থাকছে। এর ফলে রাশিয়ার রফতানি ও আমদানি বাণিজ্যের প্রায় সব লেনদেনই এখন রুবল ও ইউয়ানে সম্পন্ন হচ্ছে।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা নিয়ে পুতিন বলেন, চীনকে নিরবচ্ছিন্নভাবে তেল ও গ্যাস সরবরাহ করতে রাশিয়া সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে। এছাড়া রাশিয়ার পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রসাটম যৌথ চুক্তির অংশ হিসেবে চীনের পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোয় নতুন পাওয়ার ইউনিটগুলোর নির্মাণকাজ সম্পন্ন করছে।
রাশিয়া ও চীনের এ দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্বকে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি স্থিতিশীলতার কারণ হিসেবে বর্ণনা করেন রুশ প্রেসিডেন্ট।
উভয় দেশের মধ্যকার ভিসা-মুক্ত যাতায়াত ব্যবস্থার ইতিবাচক ফলাফলের কথা উল্লেখ করে পুতিন জানান, এ সুবিধা দুই দেশের পর্যটন ও জনগণের মধ্যকার যোগাযোগকে অনেক বাড়িয়েছে। ২০১৫ সালে ২০ লাখেরও বেশি রুশ নাগরিক চীন সফর করেছেন এবং ১০ লাখের বেশি চীনা নাগরিক রাশিয়ায় এসেছেন।










