সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। এর জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গতকাল এক বিবৃতিতে আইআরজিসি হরমুজ প্রণালির দিকে কোনো জাহাজকে না যাওয়ার সতর্কবার্তা দেয়। তাদের দাবি, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রও প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে। এ অবস্থায় প্রণালিতে চলাচলকারী জাহাজগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। খবর রয়টার্স
তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এ ঘোষণার বাস্তবতা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। গতকাল সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে—এমন কোনো তথ্য তার কাছে নেই। একই সঙ্গে তিনি জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি সুইজারল্যান্ডে গিয়ে ইরানি প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিতে পারেন।
ভ্যান্স বলেন, ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ১৪ দফা সমঝোতার ভিত্তিতে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকবে বলে তিনি আশাবাদী। তার ভাষায়, আলোচনার কারিগরি বিষয়গুলো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ এরই মধ্যে সুইজারল্যান্ডে কাজ করছেন এবং প্রস্তুতি ভালোভাবেই এগোচ্ছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জানিয়েছে, তাদের আলোচক দল শনিবারই সুইজারল্যান্ডের উদ্দেশে রওনা হবে। সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও অন্যান্য বিরোধপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে এ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার অন্যতম শর্ত ছিল লেবাননে সংঘাত বন্ধ হওয়া। কিন্তু যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই নতুন করে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। লেবাননের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, গতকাল ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইসরায়েলের দাবি, তাদের বাহিনীর ওপর হিজবুল্লাহর ৫০টির বেশি রকেট ও মর্টার হামলার জবাবে তারা অভিযান চালিয়েছে।
হিজবুল্লাহও জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকলেও দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর চলাচল বা নতুন করে ভূখণ্ড দখলের চেষ্টা মেনে নেবে না। সংগঠনটির এক জ্যেষ্ঠ নেতা রয়টার্সকে বলেছেন, লেবাননের ভূখণ্ডে ইসরায়েলকে ‘স্বাধীন চলাচলের সুযোগ’ দেয়া হবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে আইআরজিসির নতুন অবস্থান কেবল সামরিক বার্তা নয়, বরং আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় চাপ সৃষ্টির কৌশলও হতে পারে। কারণ বিশ্বের সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবহন হয়। ফলে সেখানে যেকোনো অস্থিরতা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলতে পারে।










