যেকোনো জুলাইয়ের হিসেবে গত মাসে বিশ্বের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা আগের সব রেকর্ড ভেঙে সর্বোচ্চ উচ্চতায় পৌঁছেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের জলবায়ু পর্যবেক্ষণ সংস্থা কোপার্নিকাসের মতে, মেরু অঞ্চল ব্যতীত বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা ২০২৩ সালের রেকর্ডকে ছাড়িয়ে গেছে। এতে আটলান্টিক উপকূল এবং পশ্চিম ভূমধ্যসাগরে তীব্র সামুদ্রিক তাপদাহ সৃষ্টি হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

চলতি বছরের জুলাই মাসের ভূ-পৃষ্ঠের বায়ুর তাপমাত্রা ২০২৪ সালের জুলাইয়ের তুলনায় সামান্য কম ছিল। বিজ্ঞানীরা এ দুটি মাসকে যৌথভাবে ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম জুলাই হিসেবে দেখছেন। টানা তাপদাহের কারণে ইউরোপে জুন ও জুলাই মাসটি ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম সময় হিসেবে রেকর্ড গড়েছে।

কোপার্নিকাসের বিজ্ঞানী সামান্থা বার্গেস জানান, উচ্চচাপ বলয় ও তীব্র খরা মাটির স্বাভাবিক শীতল করার ক্ষমতা নষ্ট করায় তাপমাত্রা দ্রুত বেড়েছে। জীবাশ্ম জ্বালানির দূষণের ফলে মে ও জুন থেকে শুরু হওয়া তাপদাহে এরই মধ্যে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

ফ্রান্স, স্পেন, জার্মানি ও যুক্তরাজ্যে বৃষ্টিপাত কম হওয়ায় নদীগুলোর পানি শুকিয়ে বিদ্যুৎ কেন্দ্র, সেচ ও পানি সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। পোলাান্ডে দুটি কয়লাভিত্তিক এবং হাঙ্গেরিতে একটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ রাখতে হয়েছে। প্রাথমিক হিসাবে শুধু জুনের তাপদাহেই শস্য হারিয়ে শস্যচাষীদের ২০০ কোটি ইউরো ক্ষতি হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ী খরার অর্থনৈতিক প্রভাব বহু বছর ধরে জমা হতে থাকে।

বন দাবানল তথ্য ব্যবস্থা অনুসারে, বছরের শুরু থেকে ইইউজুড়ে প্রায় পাঁচ লাখ হেক্টর এলাকা আগুনে পুড়েছে। তবে গবেষক ভিক্টর রেসকো দে দিওসের মতে, কার্যকর বন ও নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই সমস্যা অনেকটাই প্রশমিত করা সম্ভব।